শুক্রবার | ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

চুনারুঘাটে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর দেওয়ার কথা বলে ৩ চা শ্রমিকের ৩ লাখ টাকা আত্মসাত

প্রকাশিত :

চুনারুঘাট প্রতিনিধি : চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের লস্করপুর চা বাগানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/ চা জনগোষ্ঠীর শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে ৩ জনের কাছ থেকে ১ লাখ করে আদায় করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নামে এক ইউপি মেম্বারের লোকজন এ টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হযেছে। এনিয়ে ৩ চা শ্রমিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টাকা উদ্ধার এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সম্প্রতি চা জনগোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারে মিনি পাকা ঘর নির্মানের বরাদ্ধ আসে।

এর মধ্যে পাইকপাড়া ইউনিয়নের লস্করপুর চা বাগানে ৬ জনকে এ ঘর দেওয়া হয় ৬ জনের মধ্যে ২ জনকে ৪ লাখ ৭০ হাজার মুল্যে ঘর এবং ৪ জনকে ২ লাখ মুল্যের ঘর প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসন পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে তালিকা নিয়ে এ ঘর প্রদার করে। এরমধ্যে লস্করপুর চা বাগানের আনি বাউরি, সুজন মাল, রমনী চাষও সাধু সুদ্ধ সবরকে মিনি পাকা ঘর এবং মহল লাল নায়েক ও পরমেশ্বর কাহারকে পুর্ন পাকা ঘর দেওয়া হয়। কিন্তু বাগানের ইউপি মেম্বার বসন্ত কুমার কানু তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বপ্নারানী কানুর মাধ্য শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা করে আদায় করেন। ১ লাখ টাকা দিতে না পারলে তারা ঘর পাবে না বলেও জানানো হয়।

ফলে বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা তাদের ঘরের গরু ও তাদের দথলে থাকা কোম্পানীর জমি বিক্রি করে স্বপ্নারানী কানুর কাছে ১ লাখ টাকা করে দিয়ে ঘর পায়। বিষয়টি বাগানোর জানাজানির পর তোলপাড় শুরু হয়। গত ৮ জুন এ নিয়ে আনি বাউড়ি, সুজন মাল ও রমনী চাষা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তাদের শাস্তি ও টাকা উদ্ধারের জন্য আবেদন করে।
আবেদনে তারা জানায়, আমরা গরিব ও অসহায় মানুষ। টাকা না দিলে আমারা ঘর পাবনা তাই গরু ও জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছি। স্বপ্নারানীর কাছে ১ লাখ টাকা করে দিয়ে ঘর পেয়েছি। এ টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়ার হবে বলেও স্বপ্নারানী কানু আমাদের জানায়। এতে আমরা তার কথায় বিশ্বাস করে দিয়ে ঘরও পেয়েছি।পরে আমরা জানতে পারি এ ঘর বিনামুল্যে দেওয়া হয়েছে। তারা আমাদের সাথে প্রতারনা করে টাকা আত্বসাত করেছে।

এবিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য কৃপাময় তন্তবায় জানায়, ইউপি মেম্বার বসন্ত কুমার তার ভাইয়ের বউ স্বপ্নারানী কানুর মাধ্যমে শ্রমিদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এছাড়া পরমেশ্বর কাহার, মহন লাল নায়েক ও সাধুসুদ্ধ সবর এর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
লস্করপুর বাগান পঞ্চাযেত সভাপতি রজনী কান্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রী চা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শ্রমিকদের বিনামুল্যে ঘর করে দিচ্ছেন, অথচ ইউপি মেম্বাররা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ১লাখ করে টাকা নিয়েছে। এ টাকা ফেরত না দিলে আমরা আন্দোলনে যাব।তিনি বলেন, বাগানের ইউপি সদস্য উজালা পাইনকা ও বসন্ত কানু চেয়ারম্যানের সহযোগি তৌফিক এ টাক নেন। এনিয়ে বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়ার কারণে ইউপি মেম্বার ও তার লোকজন হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে আসি বাউড়ি ও সুজন মাল।

আজকের সর্বশেষ সব খবর