বৃহস্পতিবার | ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বানিয়াচং ফুটবল দলকে অভিনন্দন : কিছু কথা

প্রকাশিত :
শিব্বির আহমদ আরজু :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ড কাপ ফুটবল অনুর্ধ্ব-১৭ (বালক) টুর্নামেন্টে হবিগঞ্জ জেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বানিয়াচং উপজেলা ফুটবল দল। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টায় ফাইনালে হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামে সদর উপজেলাকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বানিয়াচং ফুটবল দল।
এতে সকল খেলোয়ারসহ কুশলীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মাসুদ রানা মহোদয়কেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
ফুটবলে বানিয়াচং : বানিয়াচংয়ে একসময় আনাচে-কানাচে প্রচুর পরিমাণে ফুটবল খেলা হতো। স্টেডিয়ামে হতো নিয়মিত টুর্নামেন্ট। তখন পাড়ায় বা মহল্লা থেকে সেই টুর্নামেন্টে ফুটবল দল অংশ অংশ গ্রহণ করতো।
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে উঠতি বয়সী তরুণরা মেতে থাকতো খেলাধূলায়। বিশেষ করে বৈশাখী ধান উত্তোলনের পর দলে দলে অনুশীলন করতো পাড়ার মাঠে। বিকেল হলে চলে যেত এড়ালিয়ার মাঠ, এল আর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, জুয়েল মাঠসহ সময়ে সময়ে অন্যান্য মাঠে। তখন নিয়মিত বড়দের টুর্নামেন্ট হতো। একটি নয় একাধিক। সেই টুর্নামেন্টে বিকাল হলে ছাতা নিয়ে মুরুব্বীসহ যুবকরা চলে যেতেন মাঠে খেলা দেখতে। তখন প্রচুর পরিমাণে দর্শকও হতো। এ মাটি থেকে জন্ম নিয়েছেন উপমহাদেশের বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়ার বি. চৌধুরী। আরও জন্ম নিয়েছেন তোতা মিয়া চৌধুরীসহ ক্ষণজন্মা খেলোয়াড়গণ। তাদের বিচরণ ও পরিচিতি ছিল সারা দেশে।
তখনকার যুবকরা মাদকসেবী ছিল না। তারা নির্দিষ্ট একটি ওয়েতে জীবন অতিবাহিত করেছেন। কালভদ্রে কেউ নেশায় জড়িত হলেও অন্যান্য যুবকদের কঠোরতায় হয়তো সে মাদক ছেড়ে দিয়েছে, নয়তো ছেড়ে দিয়েছে খেলা। যুবকরা ছিল ভদ্র, বিনয়ী ও দেশপ্রেমিক। তাদের সুন্দর একটি হৃদয় ছিল। যারা ভালো খেলা প্রদর্শন করতে পারতো তারা বাহবা পেত। তাকে সবাই ¯েœহ ও ভালোবাসতো। অনেকে সমীহ করতো। আফসোস, সেই দৃশ্য কালের ¯্রােতে অনেকটা হারিয়ে গেছে। আগে ক্রীড়াঙ্গণের সাথে সম্পৃক্ত থাকতেন ক্রীড়াবিদরা।
এখনও আছেন, তবে অনেকটাই সীমিত এবং নিস্ক্রিয়।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মাসুদ রানা মহোদয় পদাধিকার বলে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি। তিনি যেহেতু একজন ক্রীড়াবিদ সেহেতু আশা করতেই পারি আপনার মাধ্যমে বানিয়াচংয়ের ঘুমন্ত ক্রীড়াঙ্গণ আবারও জাগ্রত হবে। পাড়ায় পাড়ায় জেগে উঠবে ফুটবল ও ক্রিকেট দল। তরুণরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বাকি সময়টুকু মেতে থাকবে খেলাধূলায়, মাদক বা জুয়ায় নয়। আমার বিশ্বাস আপনি পারবেন। আমাদের মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম চৌধুরী মহোদয়ও খেলাধূলাকে ভীষণ ভালোবাসেন।
বানিয়াচংয়ে যোগদানের পর বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট খুব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেটা ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও লন টেনিস ইত্যাদি।
সর্বশেষ আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় অনুর্ধ্ব-১৭ ( বালক) দল জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এখন বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর পর চ্যাম্পিয়ন হলে জাতীয় পর্যায়ে। প্রবাদ রয়েছে, যিনি রাধেন তিনি চুলও বাঁধেন। জানি গোটা বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন আপনাকে দেখভাল করতে হয়। অনেক ব্যস্ত সময় পার করতে হয় আপনাকে।
এরপরও জাতিকে মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে রক্ষা করতে খেলাধূলার কোন বিকল্প নেই। আগের ন্যায় পাড়ায় পাড়ায় খেলাধূলা, সুস্থ সংস্কৃতি ও গণগ্রন্থাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। আমি নিজেও একজন ক্রিকেট খেলোয়ার। বানিয়াচংয়ের হয়ে কর্কের বলে পরপর ৫ বছর হবিগঞ্জ জালাল স্টেডিয়ামে ১ম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছি। আর তাছাড়া ফুটবল ও ভলিবল নিয়মিত খেলতাম। খেলাধূলায় মানুষের চিত্তে আনে সজিবতা, দূর করে সকল ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা।
চিন্তা ও জ্ঞানের জগতকে করে প্রসারিত। মানুষকে করে দায়িত্বশীলতা ও মুক্তরাখে হঠকারি সিদ্ধান্ত থেকে। আসুন- যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি ও খেলাধূলায় মেতে রাখি।
এ ক্ষেত্রে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিবছর যদি অন্তত ২টি করে ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবল ইত্যাদি টুর্নামেন্ট করা যায় তাহলে অনেকাংশে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
অন্যথায় এ যুবসমাজ দেশ এবং সমাজের জন্য এক মহা বিষফোড়া হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে !
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ।
তাং- ০৮/০৬/২০২১ খ্রি.
আজকের সর্বশেষ সব খবর