শুক্রবার | ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

প্রকাশিত :

ইমতিয়াজ আহমেদ লিলু : ইসলামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ। মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে অবস্হিত একটি কূপের নাম বদর। এ কূপের নামে একটি গ্রাম ও রয়েছে। ইতিহাস বিখ্যাত বদর যুদ্ধ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২ হিজরির ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে মদিনার মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে সংঘটিত হয়। ইসলামের ইতিহাসে এটি প্রথম যুদ্ধ। এতে জয়ের ফলে মুসলিমদের ক্ষমতা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধের পূর্বে ৬২৩ থেকে ৬২৪ সালের মধ্যে মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে বেশ কিছু খন্ডযুদ্ধ হয়। এদিনে সংঘটিত বদর প্রান্তের যুদ্ধ ছিল ইসলামের প্রথম সিদ্ধান্তমূলক সামরিক যুদ্ধ।

দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ রমজান তারিখে বদর প্রান্তরে-এ ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে মুসলমানদের বিজয় রচিত হয়েছিল। বদর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পবিত্র মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলাম তথা মুসলমানদের বিজয়ের ধারা সূচিত হয়েছিল এবং পূর্ণাঙ্গ ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে আবু জেহেলের নেতৃত্বে কোরাইশদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ১০০০ জন এবং মহানবী( সঃ) এর নেতৃত্বে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন । ৩১৩ জন সাহাবায়ে কেরাম সাধারণ অস্ত্র নিয়ে আল্লাহ তায়ালার গায়েবী সাহায্যে আবু জেহেলের বিশাল বাহিনীকে পর্যুদস্ত করেছিলেন অত্যন্ত কঠিনভাবে। ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ১২ জন মতান্তরে ১৪ জন শহীদ হয়েছিলেন, আর মুশরিক বাহিনীর ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বন্দী হয়েছিল।

যেসব পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কারণে বদরযুদ্ধে সূচনা হয় তা হচ্ছে- মদীনা শরীফে সাফল্যজনকভাবে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কুরাইশদের হিংসা, আবদুল্লা-বিন-ওবাইর ও ইহুদীদের ষড়যন্ত্র, সন্ধি শর্ত ভঙ্গ, কুরাইশদের যুদ্ধের হুমকি, বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, কাফেরদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা, ইসলামের ক্রমবর্ধমান শক্তির ধ্বংস সাধন করা এবং নবীজি (সা.)কে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার অশুভ ইচ্ছা। (নাউজুবিল্লাহ)। প্রত্যক্ষ কারণ হচ্ছে- নাখলার ঘটনা, কাফেরদের রণপ্রস্তুতি, আবু সুফিয়ানের অপপ্রচার, যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য ওহী লাভ, মক্কাবাসীদের ক্ষোভ। এসব কারণে আবু জেহেলের নেতৃত্বে এক হাজার সৈন্য নিয়ে মদীনা আক্রমণ। কুরাইশদের মদীনা আক্রমণের সংবাদ শুনে তাদের গতিরোধ করার জন্য ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ মার্চ, ১৭ রমজান ৩১৩ জন মুজাহিদ (৬০ জন মুহাজির অবশিষ্টরা ছিল আনছার) নিয়ে মদীনা শরীফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে ৮০ মাইল দূরে বদর নামক স্থানে যুদ্ধে উপনীত হন এবং ১৭ মার্চ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

বদর যুদ্ধের সফলতা হচ্ছে: আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি, বিশ্ব বিজয়ের সূচনা, সর্বোত্তম ইতিহাস সৃষ্টি, প্রথম সামরিক বিজয়, কুরাইশদের শক্তি খর্ব, ইসলামী রাষ্ট্রের পত্তন, নবযুগের সূচনা, চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারক যুদ্ধ, রাজনৈতিক ক্ষমতায় ভিত্তি স্থাপন, জেহাদের অনুপ্রেরণা, বীরত্বের খেতাব লাভ, পার্থিব শক্তির ভিত্তি স্থাপন, ইসলাম ও মহানবী (সা.)’র প্রতিষ্ঠা, মিথ্যার ওপর সত্যের জয় এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সৃষ্টি। বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে যুগান্তকারী যুদ্ধ। কারণ এযুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী না হলে পৃথিবী থেকে ইসলামের নিশানা বিলীন হয়ে যেত।

আজকের সর্বশেষ সব খবর