শুক্রবার | ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

এ শিক্ষা জ্ঞানের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়

প্রকাশিত :
মুসা আল হাফিজ : চৌধুরী মাহমুদ হাসান স্যার ঢাবির ফার্মেসি অনুষদের ডিন ছিলেন। বিশ্ববিখ্যাত বক্তা। বাংলাদেশে এমন বক্তা আছেন, এটি আমাদের জন্য শ্লাঘার।
সাংবাদিক ও কলামনিস্ট মাসুমুর রহমান খলিলি ভাই ইনবক্সে নাম্বার চেয়েছিলেন। আমি চেক করতে পারিনি, বিলম্ব হয়েছিলো। তাঁর কাছে আমার নাম্বার চেয়েছিলেন মাহমুদ স্যার।
যেভাবেই হোক,একটি ভুল নাম্বার যায় খলিলি ভাইয়ের কাছে।তিনি ট্রাই করেন, মাহমুদ স্যারও ট্রাই করেন।
এটি হয়,ইনবক্স চেকে বিলম্বের কারণে। খলিলি ভাই আমার লিস্টে নেই। ফলে ম্যাসেজ শো করেনি। যারা লিস্টে নেই,ম্যাসেজ করেন, শো করছে না, তাদের অনেকেই অনেক সময় বিষয়টা মেনে নিতে পারেন না। সামাজিক মাধ্যমে এটি এক জটিলতা। যারা ম্যাসেজ পাঠাই, তাঁদের দৃষ্টিতে বিষয়টি থাকলে ভালো হয়। অনেক অনেক ম্যাসেজ জড়ো হয়। হঠাৎ চোখে পড়লে মনে হয়, এতো মানুষ স্মরণ করলেন আর সাড়া দিতে পারলাম না!
যাক,খলিল ভাই জানতেন,আমি লিস্টে নেই এবং ম্যাসেজ শো করেনি। তিনি নাম্বার পেলেন এবং কল দিলেন। আমি তাঁর রচনার বিষয়ের অনিবার্যতা ও দৃষ্টির প্রসারতার একজন অনুরাগী। দুনিয়ার ঘটনাসমূহকে গভীরভাবে তলিয়ে দেখতে পারা ও পড়তে পারার যে সামর্থ্য একজনকে বুদ্ধিজীবী বানায়,সে সামর্থ্য তার রয়েছে।
খলিলি ভাই বললেন, মাহমুদ স্যার আপনার সাথে কথা বলতে চান, আপনার নাম্বার কি তাঁকে দেবো?
এটি শিক্ষণীয়। আমরা অনেক সময় খেয়াল করি না একজনের নাম্বারের গুরুত্ব। অন্যের কাছে তার ব্যক্তিগত নাম্বার দেয়ার বেলায় কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর বেলায় আমরা লক্ষ্য করি না, এতে তার সম্মতি – অসম্মতির ব্যাপারটি। ইসলামের শিক্ষা এসবের প্রতি আমাদের দায়িত্বশীল হতে বলে।
মাহমুদ স্যারের কল পেলাম দ্রুতই। আমি তাঁর বক্তব্যের অনুরাগী। দৈনিক নয়া দিগন্তে আমার মঙ্গলবারের কলাম তিনি পড়েন। বললেন, আমি আপনার প্রতিটি লেখা পত্রিকা থেকে কেটে সংরক্ষণ করে রাখি। প্রতিটি লেখাই আমাকে সমৃদ্ধ করে। ভাষা, যুক্তি তত্ত্ব ও তথ্যে তা খুবই উচ্চাঙ্গের।
স্যার প্রশ্ন করলেন, আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট? দেশে পড়েছেন না বিদেশে? পড়ান কোথায়?
এ রকম প্রশ্নের মুখে নিয়মিতই পড়তে হয়। আমি জবাবে যা বলি, সেটা জানানোর জন্য দীর্ঘ এই লেখা।
স্যারকে বললাম, আমি কওমি মাদরাসায় পড়েছি,দেশেই। তিনি বিস্মিত হলে বললাম, এ শিক্ষা আমাকে আল কুরআনের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। ফলে আল কুরআনে আমি মানবসভ্যতার অতীত, বর্তমান, জাতিসমূহের উত্থান- পতন, সমাজ,রাষ্ট্র,দর্শনসহ সমস্ত কিছুর প্রত্যক্ষণের সুযোগ পেয়ে যাই,যদিও আল কুরআন কেবলই হেদায়াতের কিতাব।
আল কুরআন আমাকে আকাশ- পৃথিবী, ছায়াপথ,গ্যালাক্সি, গ্রহ- তারা ইত্যাদিকে দেখায়। শুধু ইহকাল নয়, দৃষ্টির অতীত পরকালকেও দেখায়। আমাকে ইউনিভার্স বা মহাবিশ্বের ছাত্র বানিয়ে দেয়, সেখানে দিন রাত এতো পাঠ পাচ্ছি, শেষ করতে পারছি না। ইউনিভার্সের পাঠের সাথে পরিচয় করানোর জন্য ইউনিভার্সিটি। ইউনিভার্স উদ্দেশ্য, ইউনিভার্সিটি মাধ্যম। আমি উদ্দেশ্যের মধ্যে ডুবে গিয়ে মাধ্যমের মধ্যে প্রবেশ করিনি আর!
লেখক : কবি, চিন্তক, দার্শনিক ও বহুগ্রন্থ প্রণেতা, ঢাকা।
আজকের সর্বশেষ সব খবর