শনিবার | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ : এক দু:খিনী মায়ের কথা

প্রকাশিত :

আমি মোছা: জাহেদা আক্তার খানম, স্বামী: মরহুম সৈয়দুজ্জামান খান, গ্রাম : মিয়াখানী (৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন), ডাক : যাত্রাপাশা, উপজেলা : বানিয়াচং, জেলা : হবিগঞ্জ। আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে খলিলুজ্জামান খান মিজান এবং ছোট ছেলে সেরুজ্জামান খান নাসের। আমার স্বামী ১৯৮৫ সালে মারা যান। সেই থেকে ৪টি অবুঝ সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করে তাদের বড় করেছি। আমি এতদিন লোক লজ্জার ভয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর নিকট আমার বড় ছেলের ব্যাপারে কিছু বলিনি। কিন্তু আজ না বলে পারলাম না।

আমি যখন বড় ছেলে মিজান এর কাছে জমির ধানের হিসাব চাই তখন সে বিভিন্ন কথা বলে টালবাহানা করত। পরে আমার ছোট ছেলে সেরুজ্জামান খান নাসের বাড়ি আসলে খোঁজ খবর নিয়ে দেখে জমি ইজারা দিয়ে টাকা আত্মসাত করেছে। তার ব্যক্তিগত কোন আয় রোজগার নেই। আমার ছোট ছেলে নাসের খানের আয় থেকে প্রাপ্ত টাকা ও ছোট বোনের প্রতি মাসে খরচের জন্য পাঠানো টাকা হতে সংসারের জন্য ব্যয় করতাম। জমির ধানের হিসাব চাওয়ায় আমার উপর মানসিক অত্যাচার ও দূর্ব্যবহার শুরু করে মিজান। এমনকি আমার বাবার ক্রয়কৃত জমি আমার নামে দিয়েছিলেন। পরে বড় ছেলে মিজান আমাকে না জানিয়ে তারা দুই ভাইয়ের নামে রেকর্ড করে। অথচ ছোট ছেলে কিছুই জানে না। কারণ তখন সে শেরপুরে কর্মরত ছিল।

পরবর্তীতে আত্মীয় ও বাড়ীর কয়েকজন মুরুব্বিদের নিয়ে সমাধানের জন্য বসি। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় সে জমি আমার নামে রেকর্ড করে দিবে। কিন্তু অদ্যাবধি উক্ত জমি আমার নামে রেকর্ড করে দেয়নি। এই ঝামেলার কারণে সে আমার প্রতি মানসিক অত্যাচার করায় আমি প্রায় ০২ (দুই) বৎসর আগে বাড়ি থেকে আমার বড় মেয়ের বাসায় (হবিগঞ্জে) ও ছোট ছেলের বাসায় সিলেটে বসবাস করতে থাকি।
পরবর্তীতে গত কোরবানি ঈদের সময় আমি বাড়ির সমস্যা সমাধানের জন্য মুরুব্বিদের নিয়ে বসি। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে তার কিছু দাবি পেশ করে। মুরুব্বিদের কথামত আমি তার দাবি সম্পন্ন করি, কিন্তু সে মুরুব্বীদের সিদ্ধান্ত মানেনি। এর প্রেক্ষিতে আমি পরবর্তীতে বাড়ির মুরুব্বির অনুমতি নিয়ে মহল্লার মুরুব্বিদেরকে জানাই। আলোচনায় সমাধানের লক্ষে সিদ্ধান্ত হয় যে বাড়ির যে জায়গা তা মহল্লার সর্দার ও মুরুব্বিগণ মিলে বন্টন করে দেন। মিজানকে বাড়ির পূর্ব দিকে ঘরের জন্য আমিন দিয়ে পরিমাপ করে জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। দুই ভাই মিলে ধানিজমি আমার নামে ফেরত দিবে। এরপর তাকে দেড়লাখ টাকা দিব। যেহেতু আমার জমানো টাকা নেই, কাজেই জমি বিক্রি করে দিতে হবে।

কিন্তু সে আগে জমি বিক্রি করতে বাধা দেয়। আগে দেড় লাখা টাকা দাবি করে সে, কিন্তু উক্ত জমি ইজারা বাবদ ৬০ হাজার টাকা নিজে খরচ করে ফেলে। এতে মুরুব্বিদের সিদ্ধান্ত মতে ইজারার ৩০ হাজার টাকা ছোট ছেলে পরিশোধ করে। যদিও এর এক পঁয়সাও আমি ভোগ করিনি। কিন্তু সে মুরুব্বীদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোরপূর্বকভাবে অন্যত্র ঘর উঠানোর চেষ্টা করে। পরে আদালতের মাধ্যমে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সেটাও সে মানতে চাচ্ছে না। এমনকি আমার ছোট ছেলেকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আর তা ছাড়া আমার মেয়েরা স্বামীর বাড়ি থেকে পিতার বাড়িতে আসলে তাদেরও বড় ছেলে মিজান খান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

মিজান খান কর্তৃক গত মঙ্গলবার (২৩ মার্চ ২০২১ খ্রি.) দৈনিক হবিগঞ্জের সমাচার, দৈনিক প্রতিদিনের বাণী, দৈনিক প্রভাকরসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সত্যিকার অর্থে এ সংবাদটি একপেশে এবং সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান। আমার এবং আমার ছোট ছেলে নাসের খানের জায়গা-জমি আত্মসাৎ করতে নানান পায়তারা করে যাচ্ছে সে। আরও উল্লেখ করা আবশ্যক যে, মিজান খান সংবাদে ৪ মহল্লার সম্মানীত মুরুব্বীদের দোষারূপ করে যে অভিযোগ করেছে সেটাও ডাহা মিথ্যা। আমি এ মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে কোন দূর্ঘটনা আমি/ছেলে/কন্যা/স্বজনদের কোন কিছু হলে এর দায়ভার সম্পূর্ণ বড় ছেলে মিজান খানকেই বহন করতে হবে। সর্বশেষে আইন প্রয়োগকারি সংস্থা (র‌্যাবসহ) এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। এ ব্যাপারে খলিলুজ্জামান খান মিজান এর মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করলেও বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিনীত
মোছা: জাহেদা আক্তার খানম
গ্রাম: মিয়াখানী, বানিয়াচং।

তাং-২৬-০৩-২০২১ খ্রি.

আজকের সর্বশেষ সব খবর