বৃহস্পতিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

থ্যাংকলেস জব

প্রকাশিত :
শামিমুল হক :
নিজ অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, রিপোর্ট কারো পক্ষে গেলে খুশি। আর বিপক্ষে গেলেই যত ঝামেলা। তবে পক্ষে গেলেও ধন্যবাদ দেয়ার লোক কম। আর বিপক্ষে গেলে তো কথাই নেই। সাংবাদিকের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়বে। আর এমনিতেও সাংবাদিকরা ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য কাজ করেন না। তারা কাজ করেন দায়বদ্ধতা থেকে। সমাজের অসঙ্গতি, অনিয়ম, দুর্নীতি যেমন তুলে ধরেন তেমনি তুলে ধরেনÑ উন্নয়ন, আবিষ্কার, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের সাফল্যগাঁথা। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এমন অনেককে দেখেছি, যারা অফিসে এসে তাদের সংগঠনের কোনো অনুষ্ঠানের ছবি ও রিপোর্ট দিয়ে তা ছাপানোর জন্য অনুরোধ করেন। পত্রিকা অফিসের কাজ। অনেক সময় জায়গার অভাবে রিপোর্ট ছাপা যায় না। হয়তো তার দিয়ে যাওয়া ছবি কিংবা রিপোর্ট ছাপানো যায়নি। পরদিন পত্রিকা দেখেই ফোন। ভাই, আজ আসেনি। কাল দিয়ে দেবেন, প্লিজ। এভাবে দিনে একাধিকবার ফোন করে অনুরোধ জানান। অথচ যেদিন রিপোর্টটি ছাপা হলো সেদিন ধন্যবাদ দেয়া তো দূরের কথা আর ফোনও করেন না।

ছবি- লেখক।

রাজনৈতিক ব্যক্তি হলে তো আরো এক ধাপ এগিয়ে। কোনো কোনো নেতাকে রিপোর্টার সাংবাদিক ফোন করে জানালে বলেনÑ ছাপা হয়েছে নাকি? তাহলে পত্রিকাটা পাঠিয়ে দেবেন! হ্যাঁ, এমনটি ঘটে। এমনও দেখা যায়, একটি রিপোর্ট ছাপানোর জন্য সাংবাদিকের পেছনে পেছনে ঘুরেন। সাংবাদিক বিরক্ত। বললেই তো আর রিপোর্ট হয়ে যায় না। এর জন্য কাজ করতে হয়। সময় ব্যয় করতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নিতে হয়। তারপর রিপোর্ট লিখতে হয়। এভাবে রিপোর্ট লিখে ছাপার অক্ষরে দেখলে সাংবাদিক নিজে খুশি হন। কষ্টের ফসল সংবাদ ছাপার অক্ষরে দেখতে সকল রিপোর্টারই পুলকিত হন। কিন্তু যার জন্য লেখা দেখা গেল তিনি ফোন দিয়ে ধন্যবাদটুকুও জানান না। অবশ্য সাংবাদিকরা ধন্যবাদের আশাও করেন না। কারণ সাংবাদিকরা জানেন, সাংবাদিকতা থ্যাংকলেস জব। তারা শুধু চান তাদের লেখনীতে ওই ব্যক্তির উপকার হোক। তিনি তার সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসুক। বহু ঘটনা আছেÑ এক রিপোর্টেই তার ভাগ্য বদলে গেছে। সাংবাদিক তা দেখে বুক ফুলিয়ে বলেন, আমার রিপোর্টে ওই ব্যক্তির সমস্যার সমাধান হয়েছে। এটাই রাজ্যের সুখ একজন রিপোর্টারের জন্য। (ধারাবাহিক পর্ব-১৫)

লেখক : সাংবাদিক।
আজকের সর্বশেষ সব খবর