রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

প্রবন্ধ : নিজের খাবার বিলিয়ে দেবো অনাহারীর মুখে

প্রকাশিত :

মুফতী মুহাম্মাদ আবিদুর রহমান :
.
পৃথিবীতে ইসলামই একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন। রাহমাতুললিল আলামিন হযরতম মুহাম্মাদ (সা.) এই ধর্মবিশ্বাসের প্রবর্তক। তিনি মূর্খতার অমানিশায় নিমজ্জিত গোটা বিশ্ববাসীকে হেদায়তে এলাহির সংস্পর্শে এনে মানবতাবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আধাঁরে ঢাকা আরবের বুক চিরে আলোর মিনার হয়ে উদ্ভাসিত হয়ে ছিলেন আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর আগে। সেই থেকে ইসলাম দুনিয়াকে শেখাচ্ছে সত্যিকার মানবতা। ইসলামের শিক্ষায় আলোকিত সাহাবা আজমাইনের জীবনে মানবতার খেদমতের যে দৃশ্য অবলোকন করা হয় গোটা মানবেতিহাসে এর দ্বিতীয় কোন উপমা নেই। ইসলাম আল্লাহতে বিশ্বাসের পাশাপাশি মানবতার কল্যাণের প্রতি আহবান করে। বিশ্বনবী তাই ঘোষণা করেন _তোমরা মানুষ ও মাখলুকের প্রতি সদয় হও আল্লাহ তোমাদের প্রতি সদয় হবেন। ইসলাম সিরিফ মানুষ নয় পুরো সৃষ্টির প্রতি মহানুভব হতে উৎসাহিত করে। ইসলামের নবী তাই পরিস্কার এলান করেন __জেনে রেখো সমস্ত মাখলুক হলো আল্লাহ তায়ালার পরিবারের মতো, আর তোমাদের মধ্যে তারাই আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়, যারা তাঁর পরিবারের প্রতি বেশি দয়াশীল।
.
মানব সেবার গুরাত্বরূপ করে ধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতিদানকারি আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন __পূর্ব ও পশ্চিমে মুখ ফেরানোতে (আলাদা) কোনো পুণ্য নেই; পুণ্যকাজ হলো আল্লাহকে বিশ্বাস করা। পরকালকে বিশ্বাস করা, ফেরেশতাগণের উপর ঈমান আনা, সকল আসমানী কিতাব ও নবীদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।  আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবেসে আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, সাহায্য প্রার্থীদের ও দাসমুক্তির জন্য অর্থ দান করাতে। নামাজ কায়েম করলে। জাকাত প্রদান করলে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করলে। অর্থ সংকটে, দুঃখ-কষ্ট ও যুদ্ধ-সংকটে ধৈর্য ধারণ করলে। ( আলোচিক গুণগুলোয় যারা গুণী কার্যত) এরাই হল সত্যপরায়ণ (এবং) এরাই হল আল্লাহভীরু। (সূরা : বাকারা, আয়াত : ১৭৭)
.
ইসলামের এই উদার নীতি ও প্রেরণার শিক্ষায় দীক্ষাপ্রাপ্ত সাহাবা আজমাইন হৃদয় কি পরিমাণ মানবসেবা লালন করতে এর একটি ছোট্র নজির হলো এই ___একবার আল্লাহর রাসূল (সা.) এর কাছে এসে এক ব্যক্তি নিজের ক্ষুধার কথা জানালেন। রাসুল (সা.) নিজে এতটা সম্পদশালী ছিলেন যে যখন তখন দু’চারজনকে খাইয়ে দিবেন। ফলে তিনি সাহাবায়ে কেরামের মজমায় হাজির হয়ে জানতে চাইলেন; ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কি আজ রাতে তাকে খাওয়াতে পারবে?’

তখন এক আনসারী সাহাবী বললেন, আমি আছি ইয়া রাসুলাল্লাহ। আজ রাতে আমি তার মেহমান নাওয়াজী করবো। অথচ তিনি নিজেই ছিলেন গরীব। ঘরেই ছিল খাবার সঙ্কট। মাত্র একজন খেতে পারে পরিমাণ খাবার তাঁর ঘরে ছিলো।তবুও তিনি লোকটিকে তার ঘরে নিয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন,এ লোক নবীজী (সা.)-এর মেহমান। আমাদের সাধ্যমতো তাকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। স্ত্রী বলল, ঘরে যা খাবার আছে তাতো যথেষ্ট পরিমাণম নয়! তাছাড়া বাচ্চারাও ক্ষুধার্ত।
কি করলেন তখন মানবতার সবক গ্রহণকারী জগতশ্রেষ্ঠ মানবগুষ্টির একজন দরিদ্র সদস্য রাসুলের সাহাবী? শুনুন হাদিসের ভাষায়।
তিনি তখন স্ত্রীকে বললেন, আচ্ছা সন্তানদেরে না খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলে কেমন হয়। তারা ঘুমে রাত কাটিয়ে দিলো অন্য দিকে রাসুলের মেহমানের রাতের খাবারও খাওয়া হয়ে গেলো! স্ত্রীও তো সাহাবিয়া। রাসুলের সংশ্রবপ্রাপ্ত নারী। তিনিও হৃদয় দিয়ে মেনে নিলেন স্বামীর কথা। কিন্তু ঘটনা তো এখানেই শেষ না। স্ত্রী বললেন, খাবার যা আছে তা তো একজনের হবে। আমার অবশ্য ক্ষুধা নেই আপনি কি করবেন? সাহাবী বললেন, আমি মেহমান নিয়ে খেতে বসলে তুমি ঘরের বাতি নিভিয়ে দেবে। ফলে মেহমান বোঝতেই পারবে না আমি খেলাম কি খেলাম না।
.
পৃথিবীর বুকে সত্যি সাহাবায়ে কেরামের কোন তুলনা হয় না। মানবতার এরচেয়ে বড় দৃষ্টান্তও কি আছে কোথাও? আসলে একেই বলে নিজের খাবার বিলিয়ে দেবো অনাহারীর মূখে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে মানবতার সেবা করার তাওফিক দান করেন। আমিন।
.
লেখক : ইমাম ও খতীব বায়তুল আমান জামে মসজিদ, পশ্চিম আলাবদিরটেক ঢাকা, ক্যান্ট ঢাকা -১২০৬।

আজকের সর্বশেষ সব খবর