রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সেরে উঠুন প্লিজ

প্রকাশিত :
দেওয়ান মিনহাজ গাজী :
দেশের রাজনীতিকদের মধ্যে ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ সম্ভবত এখন জ্যেষ্ঠতম। ১৯৩৭এ কলকাতায় জন্ম নেয়া মানুষটি ৮৩ পার করেছেন। রাজনীতিতে তাঁর প্রচুর সমালোচক আছেন,আমিও তাদের একজন। কর্ম এবং রাজনীতির অন্য দিকটিতে তিনি ভীষণ আলোকিত। খুব একচোঁখা মেজাজে আমরা অনেকেই সেদিকটাকে কখনোই সামনে আনি না।
৫২ সালে স্কুল ছাত্র থাকাকালীন তিনি ভাষা আন্দােলনে শরিক হয়ে একমাস কারাবরণ করেন।শহীদ বরকত তাঁর সামনেই গুলিবিদ্ধ হন।৫৬ সালে পুলিশি নির্যাতনে তিনি মারাত্নক আহত হন। তাঁর একটি হাত ভেঙ্গে যায়  এবং একটি পা কেটে ফেলার উপক্রম হয়। স্বাধীনতার পরপর তিনি বেশদিন কারান্তরিত হন। ৮২ সালে আবার কারাজীবনে প্রবেশ করেন। ১/১১ কালীন সময়ে রাজনীতিকদের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক সময় গুনেগুনে ৬০০ দিন কারারুদ্ধ ছিলেন।
পড়াশুনা ও লেখালেখির ক্ষেত্রে তাঁর সমপর্যায়ের কোনো রাজনীতিক বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। ব্যারিস্টার মওদুদ জার্মানির বিখ্যাত হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়,অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ,হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ফেলো। তিনি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলিয়ট স্কুলের ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অনন্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম পোস্টমাস্টার জেনারেল। লেখক হিসাবে তিনি ঈর্ষনীয়ভাবে সফল। চরম শত্রুরাও তাঁর লেখক সত্ত্বার প্রশংসা করে থাকেন।

ছবি- লেখক : অ্যাডভোকেট দেওয়ান মিনহাজ গাজী।

বাবা মওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমদ আরবী,ফার্সী,হিন্দি,উর্দু ভাষার একজন সুপন্ডিত ও লেখক ছিলেন। মা আম্বিয়া খাতুন একজন রত্নগর্ভা। মওদুদ আহমদের জীবিত ১২ জন ভাইবোন। তাঁরা সবাই সফল। মামা মৌলানা হাবিবুল্লাহ ( শহীদ মুনির চৌধুরী,শহীদউল্লাহ কায়সারের বাবা) একজন সুজ্ঞানী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
স্ত্রী হাসনা মওদুদ জাতিসংঘে কর্মরত থাকাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে কাজ করেন। তিনি একজন উন্নত মার্গের লেখক। এ দম্পতির আসিফ,আনা,আমান- এ তিন মধ্যে আসিফ কৈশোরেই মারা যায়।
জনাব মওদুদ একসময় দেশের তিন শীর্ষ আইনজীবীর একজন ছিলেন। ৭৪ সালে রক্ষিবাহীনীর হাতে নির্যাতিত বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা শান্তি সেনের স্ত্রী অরুণা সেনের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে সারাজাগানিয়া যে রীট’টি দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবী ছিলেন মওদুদ আহমদ।
শারীরিকভাবে সময়টা তাঁর ভালো যাচ্ছে না। এদেশে মানুষ মরে গেলে তাঁর গুণকীর্তন করা হয়, জীবিত থাকলে হয় গালিবর্ষণ! এটা নোংরা রেওয়াজ ।
সেরে উঠুন প্লিজ, এখনো অনেক কিছু লেখার বাকী আছে আপনার!
লেখক : সিনিয়র আইনজীবী,
জজকোর্ট,হবিগঞ্জ।
আজকের সর্বশেষ সব খবর