রবিবার | ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

আজমিরীগঞ্জ পৌর প্রশাসক গোলাম ফারুককে অব্যাহতি

প্রকাশিত :

আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি : আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আইনি জটিলতায় একবারও নির্বাচন হয়নি পৌরসভার। ১৬ বছর ধরে প্রশাসকের পদে রয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক। যে কারণে হচ্ছে না উন্নয়ন, সেই সঙ্গে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অবশেষে পৌর প্রশাসক পদ থেকে গোলাম ফারুককে অব্যাহতি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পৌর প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। পৌরসভার সার্বিক বিষয় তদারকির দায়িত্বও দেয়া হয়। এদিকে স্থানীয় সরকারের আদেশের ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসকের পদ হস্তান্তর করেননি গোলাম ফারুক। উল্টো আদালতে রিট করে বসেছেন তিনি।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১শে ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফারজানা মান্না স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয় মো. গোলাম ফারুককে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনসহ পৌরসভার সার্বিক বিষয় তদারকি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মতিউর রহমান খান বলেন, চিঠি ইস্যু হয়েছে ২৪শে ডিসেম্বর। কিন্তু আমরা চিঠি হাতে পেয়েছি ৪ঠা জানুয়ারি। চিঠি পাওয়ার পর মো. গোলাম ফারুক সাহেবকে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু তাতে তিনি সাড়া না দেয়ায় গত রোববার চিঠির মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। এরপরও যদি দায়িত্ব হস্তান্তর না করেন তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রশাসক গোলাম ফারুক বলেন, আমি চিঠি হাতে পেয়েছি। তবে আমাকে যে ধারায় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেটি বেআইনি। যে কারণে আমি আরো একটি রিট করেছি। এ সপ্তাহেই রিটের শুনানি হবে। শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করবো না।
২০০৪ সালের ২১শে জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। একই বছরের ডিসেম্বরে প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক। এরপর শুরু হয় ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ কার্যক্রম। তবে উপজেলা সদরের নোয়ানগর, ফতেহপুর ও শুক্রবাড়ি গ্রাম পৌরসভা থেকে বাদ পড়ে। গ্রাম তিনটি পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট করেন তৌহিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন আদালত। এরপর কেটে যায় ১৪ বছর। পৌরসভার নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে না হওয়ার কারণে পৌর নাগরিকরা ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে পৌরসভায় কোনো মেয়র না থাকায় থমকে রয়েছে পৌরসভার উন্নয়ন।

আজকের সর্বশেষ সব খবর