রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

লিখো নয়া বসন্তের সনদ

প্রকাশিত :
মুসা আল হাফিজ :
বিয়ে। নিবিড়তম এক শিল্প। গভীরতম আনন্দধারা। বহুমাত্রিক নন্দনের আনন্দিত ছন্দস্রোত। হৃদয়ের তল থেকে কলকল দ্যোতনায় হিন্দোলিত হয় তার প্রসার, পরিণতিতে সে এগিয়ে যায় পূর্ণতার আকাশ অধিকারে। জীবনের বিজন মসজিদে হীরের দ্যুতির মত জমিয়ে তোলে হর্ষের জামাত। স্বপ্নের কুচির মত স্বচ্ছ হয়ে ওঠে চাঁদনীরা।
তুমুল ফেনার রাজ্যে অসীম প্রাণের লালিত্যে বিয়ে হয়ে ওঠে মননের জীবন্ত সঙ্গীত। সেই সঙ্গীতে ঝংকৃত হয় অস্তিত্বের স্বরগ্রাম। ডান বাম উপর নিচে অচেনা এক বসন্তের কুঞ্জবন হয়ে দোলে ওঠে। যার প্রতিটি সবুজ স্পন্দনে সুবিমল প্রশান্তির ধারাভাষ্য শোনা যায়। প্রতিটি উচ্চারণে থমকে দাড়ায় বিষাদ। প্রতিটি স্পন্দনে তছনছ হতে থাকে হতাশা। প্রতিটি তরঙ্গে শিউরে ওঠে পরাজয়। এইতো বিয়ে।
সে যেন ডেকে বলে- এসো ফুল ফোটাই। এসো, রচনা করি জন্মের সনদ। এসো, আনন্দকে নির্মাণ করি অসীম সীমানায়। সে ডাকলো আর পলায়ন করল জীর্ণতা, সে ডাকলো আর কবরে লুকাতে চাইলো ব্যর্থতা। সে ডাকলো আর জ্বলে ওঠলো যৌবনের শিখা। তারপর জীবনের মশাল হাতে পৃথিবীর দরোজায় দাঁড়ালো একজোড়া মানব-মানবী।
সূর্য তাদেরকে বলল- সালাম, আকাশ তাদেরকে বলল-

অভিনন্দন

, ধরিত্রী তাদেরকে জানালো স্বাগতম। আদম-হাওয়ার পবিত্র প্রেম পুতে দেয়া হলো তাদের হৃদয়ে। সুন্নতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মহীয়ান পাটাতন দৃঢ় করলো তাদের জীবন। বরকতের সুমহান দরোজা তাদের জন্য খুলতে লাগলো আকাশের কিনারে।

তাদের সম্মুখে পেতে দেয়া হলো একটি সিঁড়ি, যাতে আরোহন করলে তারা এগিয়ে যাবেন উচ্চ থেকে উচ্চতর মঞ্জিলে। যে মঞ্জিলে উপনীত প্রত্যেকেই পেয়ে যান লোভনীয় প্রাপ্তির মতো শুভ জীবনের অনুপম অর্জন। যে অর্জন পৃথিবীকে দেবে নবজন্মের আশীর্বাদ।
নতুন এক প্রেমকাতর যুগল শুদ্ধতার সংসারের কাব্য রচনা করলেই পৃথিবী তাদেরকে পরাবে বুদ্ধতর সাফল্যের শিরোপা।
লেখক : কবি, চিন্তক ও দার্শনিক, ঢাকা।
আজকের সর্বশেষ সব খবর