রবিবার | ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বানিয়াচংয়ে আগুনে ১৪ দোকান পুড়লেও পুড়েনি মসজিদের গচ্ছিত টাকা

প্রকাশিত :
বদরুল লস্কর : ২৮ নভেম্বর শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা। কর্মব্যস্ত দিন শেষে যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচংয়ের মানুষ, ঠিক তখনই শুরু হয় স্থানীয় বড়বাজারে পাহারাদারদের চিৎকার। চোখে ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে সজাগ হন আশপাশের কিছু মানুষ। শুরু হয় তাদেরও চিৎকার। দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে আতঙ্কগ্রস্থ মানুষ। রাত ১টা। ইতিমধ্যে ইবনেসিনা ফার্মেসিসহ ১৪টি দোকানের অধিকাংশ পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন বানিয়াচং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কিছুক্ষণ পর হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এবং নবীগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে যোগ দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা। জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও ক্ষতিগ্রস্তদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে বানিয়াচংয়ের আকাশ- বাতাস। উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায় এ আগুনে ১৪টি দোকানের ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য দোকানের পাশাপাশি পুড়ে যায় বড়বাজারের অন্যতম একটি ওষুধের দোকান ইবনেসিনা ফার্মেসি। ফার্মেসির স্বত্বাধিকারি খালেদ মিয়া জানান, তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা। ওষুধের পাশাপাশি তার দোকানের কিছু ক্যাশ টাকাও পুড়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল- তার দোকানে ব্যবসার টাকার পাশাপাশি একটি মসজিদের কিছু টাকা জমা রাখা ছিল। দোকানের সবকিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে গেলেও অক্ষত ছিল মসজিদের টাকা। খালেদ মিয়ার কাছে রাখা মসজিদের ৪ হাজার ২শ’ ২০ টাকার মধ্যে একটি নোটও পুড়েনি। রবিবার সকালে ছাই খুঁড়াখুঁড়ি করে মসজিদের টাকা অক্ষত অবস্থায় পান তিনি। তিনি জানান, আমার দোকানে ব্যবসার কিছু টাকাসহ একটি আলাদা বান্ডিলে রাবার দিয়ে মোড়ে মসজিদের ৪ হজার ২শ’ ২০টাকা রেখেছিলাম। ওষুধসহ অন্যান্য টাকা পুড়ে গেলেও পুড়েনি মসজিদের টাকা। বানিয়াচং সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দাল হোসেন খান এটি আল্লাহ্তায়ালার কুদরতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর ইবনেসিনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারি খালেদ ভাই আমানতদারী হিসেবে একজন স্বচ্ছ মানুষ। এটি তারও একটি উদাহারণ। তার কাছে গচ্ছিত মসজিদের আমানত রক্ষা করার জন্যই হয়ত আল্লাহ্তায়ালা ওই টাকা অক্ষত অবস্থায় রেখেছেন।
Aa
আজকের সর্বশেষ সব খবর