বৃহস্পতিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

আজ জেনারেল এম এ রবের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত :

টিপু চৌধুরী : মেজর জেনারেল এম এ রব বীর উত্তম। একজন বৃটিশ সেনা কর্মকর্তা,১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উপ সর্বাধিনায়ক,মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের প্রতিষ্টাতা,স্বাধীনতা পুরষ্কার প্রাপ্ত।১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচঙ্গ উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৩৫ সালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৩৭ সালে সিলেট এম সি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৩৯ সালে সিলেট এমসি কলেজ হতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৪১ সালে ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম এ ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৪২ সালে বৃটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪৩ সালে বৃটিশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে বার্মা, মালয়, সুমাত্রা, জাভায় যুদ্ধে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন।  পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর লেফটেন্যান্ট কর্ণেল পদে পদোন্নতি পান।  ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেঃ কর্ণেল থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামীগে রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে নবীগঞ্জ- আজমিরীগঞ্জ- বানিয়াচং আসনে আওয়ামীলীগ থেকে বিপুল ভোটে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সিলেটের রশীদপুর চা-বাগান এলাকার শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, শেরপুর-সাদিপুর, সিলেটসহ আরও কয়েক স্থানে তখন প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। এসব যুদ্ধে এম এ রব সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার প্রত্যক্ষ পরামর্শ ও পরিচালনায়ই বেশির ভাগ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ সময় হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক দলনেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক আয়োজনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে বাংগালী সেনাবাহিনীর অফিসারদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন তাঁর ছিল গুরুত্বপুর্ন অবদান। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ক্রমে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠতে থাকে। এরপর মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন এম এ জি ওসমানী। চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পান এম এ রব। তিনি পূর্বাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। সদর দপ্তর ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায়।
১৯৭১ সালের ১৭এপ্রিল মাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ পদে নিযুক্ত হন এবং প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর এমএ জি ওসমানী এবং এম এ রব হেলিকপ্টারে সিলেটে যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শনকালে ফেঞ্চুগঞ্জে পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল ওই হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি করে। তখন এম এ রব গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাঁর পায়ে গুলি লাগে। পরে আগরতলায় চিকিৎসা করার পর সুস্থ হয়ে উঠেন।
১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ পদে বহাল ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে সরকার এম এ রবকে মেজর জেনারেল পদে সম্মানিত করেন। ১৯৭৩ সালে বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে এম পি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন ও পরিচালনার দায়িত্ব তিনি সফলভাবে পালন করেন। এই ট্রাস্ট এবং এর সুফল প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাগণ তার নিরলস ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার কাছে ঋণী। ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকা সি এম এইচে মৃত্যুবরন করেন। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার করে মরদেহ হবিগঞ্জে আনা হয়।হবিগঞ্জ শহরের খোয়াই নদীর পাড়ে উমদনগরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তিনি ছিলেন চিরকুমার। ২০০০ সালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তাঁকে মরণোত্তর “স্বাধীনতা পুরষ্কার পদক” দেয়া হয়। হবিগঞ্জ শহরে এম এ রব স্মৃতি পাঠাগার করা হয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জে এম রব চত্বর করা হয়েছে। ঢাকা
শহরে এম এ রবের নামে একটি রাস্তার নামকরন করা হয়েছে। দুঃখের বিষয়, নতুন প্রজন্মের কাছে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সৈনিক খুবই অবহেলিত। এই বীর যোদ্ধার নামে নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।

লেখক : সাংবাদিক, হবিগঞ্জ।

আজকের সর্বশেষ সব খবর