বৃহস্পতিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বানিয়াচংয়ে আইপিএল বাজিতে সব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে তরুণরা

প্রকাশিত :

বানিয়াচং(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আইপিএল কিংবা বিশেষ টুর্নামেন্ট, ইউরোপিয়ান ফুটবল লীগ অথবা বিভিন্ন ক্রিকেট লীগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জমজমাট বাজির খেলা। আর এ সমস্ত বাজিতে হেরে গিয়ে অনেক তরুণ যুবক নিঃস্ব হচ্ছেন। সম্পূর্ন ভিন্ন আঙ্গিকে নিজের ঘরে অথবা কর্মস্থলে নীরব নিভৃতে একা একা নেটে-মোবাইলে বাজি খেলে কত তরুণ যুবক নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে সে কাহিনী পাশের রুমের বাবা-মা,ভাই-বোন কিংবা ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তান অবধি জানেন না। নিঃস্ব হওয়ার বিষয়গুলো অতিদ্রুত প্রকাশ না পাওয়ায় গোপনে গোপনে একেক জনের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিকভাবে নেমে আসছে অর্থনৈতিক ধ্বস। বানিয়াচং উপজেলার বড়বাজার এলাকার কয়েকটি স্পটে এরকম বাজি খেলার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এরমধ্যে বড়বাজারের করিম উল্লা গলির দুটি স্পট,জীপ স্ট্যান্ড,কামালখানী রোড, আদর্শ স্কুল রোড এবং বেশ কয়েকটি স্পটে আইপিএলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক বাজি ধরা হয়ে থাকে। এরকমই আইপিএল বাজি খেলে সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছেন জনৈক স্মর্ণ ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান,বড়বাজারে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে রয়েছিল দুটি দোকান ভিটা। ব্যবসার লেনদেনে ছিল নগদ কোটি টাকা। হঠাৎ করে দেখা যায়,ব্যবসার টাকায় টান পড়েছে। তারপর রাতারাতি দোকানভিটা বিক্রয় করে মানুষের পাওনা পরিশোধ করতে কুলাতে না পেরে শেষে এলাকা ছাড়া হয়ে এখন আছেন অজ্ঞাত স্থানে। এরকমই নতুন বাজারের এক ফার্মেসী ব্যবসায়ী যুবক আইপিএল বাজি খেলে মায়ের জমানো টাকা বাজিতে হেরে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। শুধূ ওই দুই যুবকই না এরকম আরও অনেক তরুণ যুবক আইপিএল বাজিতে হেরে গিয়ে ধুকছেন। এ এক অন্যরকম নেশা। নেশার ঘোরে ধুকে ধুকে নিজের সঙ্গে নিজেই করছেন প্রতারণা। কারওটা প্রকাশ পাচ্ছে আবার কারওটা প্রকাশ পাচ্ছে না। কিন্তু থেমে নেই এই সর্বনাশা প্রবণতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়বাজার এলাকার একজন অভিবাভক প্রশ্ন করেন কে থামাবে এসব ছেলেদের, অভিভাবক নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক যুবক জানান, বাজি ধরা হয় নেটে।এ সর্বনাশা খেলা বন্ধ করতে হলে আইপিএল টুর্নামেন্ট প্রচারকারী টিভি চ্যানেলের পাশপাশি কিছু সফটওয়্যার বন্ধ করে দিতে হবে। নতুবা কাজের কাজ কিছুই হবে না। সফটওয়্যার গুলো হলো ক্রিকবাজ,ক্রিকেট এক্সচেঞ্জ,ইএসপিএন স্পোর্টসসহ আরও কিছু সফটওয়্যার। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক জানান, যারা বাজি ধরছে তারাতো কেউ কাউকে চিনে না। কিন্তু বাজি ধরা ও লেনদেনগুলো কিভাবে হয় তাতো ডিলার ছাড়া হয় না। ডিলার কারা তা প্রশাসনের অজানা থাকার কথা না। ডিলারদেরকে আটক করতে পারলেই বেরিয়ে আসবে আসল থলের বিড়াল।

আজকের সর্বশেষ সব খবর