শনিবার | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কে মহিলার লাশ উদ্ধার, প্রেমিক আটক

প্রকাশিত :

সাহিদুর রহমান/আবদাল মিয়া, বানিয়াচং থেকে : বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কে জোনাকি আক্তার (২৫) নামে এক মহিলার মৃত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জোনাকি আক্তার উপজেলা সদরের ২নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের কুতুব খানী মহল্লার অপু মিয়ার স্ত্রী। তার পিত্রালয় হচ্ছে রঘু চৌধুরী পাড়া গ্রামে। ঘটনাস্থল থেকে অনিক পান্ডে নামের (৩০) এক যুবককে আটক করা করা হয়েছে। সে বানিয়াচং ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের অন্তর্গত মাদারিটুলা মহল্লার মৃত মানিক পান্ডের পুত্র। এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কের শুটকি ব্রিজের কাছে একটি সাদা অ্যাম্বুলেন্স থেকে মৃত দেহটি সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায় অনিক। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখে ফেললে অনিক বাঁচতে গিয়ে মাঝ হাওড়ে দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় হাওড়ে জেলেদের সহযোগিতায় অনিক পান্ডেকে আটক করে থানা পুলিশের হাতে সোর্পদ করে জনতা। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান হোসেন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সেই সাথে অনিক পান্ডেকেও আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। মরদেহের সাথে ৩ বছরের তন্নী নামে শিশুকেও উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জোনাকির মা হেনা আক্তার তরঙ্গ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জোনাকির স্বামী কর্ম সুত্রে চিটাগাং থাকায় স্বামীর অগোচরে অনিক পান্ডের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে আমার মেয়ে জোনাকি। দেড় মাস আগে অনিক পান্ডের হাত ধরে তার দেড় বছরের মেয়ে তন্নীকে নিয়ে সে পালিয়ে যায়। শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে অনিক পান্ডে আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আপনার মেয়ে জোনাকি কিছুক্ষণ আগে বসত ঘরের সিলিং ফ্যানের আঘাতে মারা গেছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি একটি লাশ বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কের শুটকি ব্রিজের সন্নিকটে পড়ে রয়েছে। থানায় এসে দেখতে পাই এটা আমার মেয়ে জোনাকির লাশ। আমি আমার মেয়ে হত্যাকান্ডের বিচার চাই। এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান হােসেন জানান,খবর পেয়ে মহিলার মৃত দেহটি উদ্ধার করে বানিয়াচং থানায় নিয়ে এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অনিক পান্ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি মাধবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় নোয়াপাড়া নামক স্থান থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে জোনাকিকে অন্যত্র হত্যা করে এই সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তার শরীরে এবং গলায় আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে বিস্তারিত জানা যাবে ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর। একটি সূত্র জানায়, জোনাকি স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে বহু অপকর্মের হোতা অনিক পান্ডের হাত ধরে চলে যায় নেত্রকোনায়। সাথে নিয়ে যায় তন্নী নামের ৩ বছরের মেয়েকে। তা ছাড়া তার ৫ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে।

আজকের সর্বশেষ সব খবর