শনিবার | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

কিংবদন্তি ডাক্তার জাকিয়া সুলতানার মৃত্যু ও কিছু কথা

প্রকাশিত :
আবুসালেহ আহমদ : সিলেটের খ্যাতনামা চিকিৎসক অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানার মৃত্যুতে শুক্রবার (২৩/১০/২০২০) শহরে নেমে আসে শোকের ছায়া । ঝড়-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শত শত ছাত্র-ছাত্রী,প্রিয় সহকর্মি,শুভাকাঙ্খী তাঁকে এক নজর দেখা ও জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। লাশটি কখন আসবে, আসছে না কেন এই উৎকন্ঠা বিরাজ করছিল মানুষের মাঝে। এই প্রতিকূল অবস্থায়ও ঢাকা,হবিগঞ্জ, বানিয়াচং থেকে অনেক গুনীজনরা এসেছেন শেষবিদায় জানানোর জন্য। শেষ দোয়াটি করে যাওয়ার আকুলতায় আমার মতো অনেকই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকক্ষণ। স্বামী চক্ষু রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কর্নেল মোশাহিদ ঠাকুর নিজ হাতে সহধর্মিণীকে কবরে শুয়ে দেওয়ার হৃদয়গ্রাহী দৃশ্য ছিল হৃদয়গাহী। সত্যি তিনি যে একজন কিংবদন্তি চিকিৎসক, মানুষ ও মানবতার ফেরিওয়ালা ছিলেন মানুষের ভালোবাসা মধ্যে দিয়ে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ তিনি রেখে যেতে পেরেছেন। সবার একই কথা, তিনি ছিলেন একজন উদার, মানবিক মর্যাদা সম্পন্ন ও ভাবগাম্ভীর্য পূর্ণ শিক্ষক। তাঁর হাতে গড়া শত শত ছাত্র- ছাত্রী আজ দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক ও ইন্টার্নি হিসেবে সমাজে অনেক অবদান রাখছে। এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসে প্রথম জানাজার পূর্বে উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার মঈনুল হক সাহেবের বক্তব্য সকলকে আকৃষ্ট করে তিনি বলেন ” জাকিয়া সুলতানা ছিলেন একজন নীতিবান ডাক্তার। দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে এই কলেজে তথা এনাটমি বিভাগের যে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে । তিনি আমাদের করে গেছেন চিরঋণী। তিনি ও তাঁর পরিবার যে ভাবে চিকিৎসা সেবায় নিজকে উৎসর্গ করেছেন তা অতুলনীয় । ” সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান হলেও তিনি সাধারণ ডাক্তারের মতোই চলতেন। চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষাদানে তাঁর সহজ সরলতা সকলকে মুগ্ধ করতো। সতের বছর ধরে এই কলেজে চাকরি করার সুবাদে ছাত্র- ছাত্রী, সহকর্মী ও স্টাফদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন এক কিংবদন্তি ডাক্তার। সংসার জীবনেও এই প্রেরণা ও মমতাময়ী গুণী মানুষটির অবদান অবিস্মরণীয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসে প্রথম ও হয়রত শাহজালাল দরগা শরীফে ২য় জানাজা শেষে ঐ রাতেই মরহুমাকে দরগার কবরস্থানে সমাহিত করা হয় । মরহুমা অধ্যাপক ডা.  জাকিয়া সুলতানা ছিলেন বানিয়াচংয়ের পুত্রবধূ। আজকের এ দিনে এ মহিয়সী চিকিৎসকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমীন
লেখক : কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক, সিলেট।

 

আজকের সর্বশেষ সব খবর