রবিবার | ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বেলা শেষ হয়ে যায়

প্রকাশিত :
মোঃ তৌহিদ মিয়া : ঐ তো সেদিনের কথা। কিশোর এক দুরন্ত জীবন। হাটি-হাটি পা-পা করে ছুটে বেড়াতাম। খেলতে যেতাম,গোল্লাছুট,হাডু-ডু,ননদাই,ফুটবল,কানা-মাছি,লোক-লোকানী,পানিতে সাঁতার,জল-ডুপ,লংগ জাম্প,লং-দৌঁড়,মুচকি-দৌঁড়,কখনও বা চাঁদনী রাতে লোকোচুরি, চোর-পুলিশ,লুডু,বীচি-খেলা আরও কত কি ! পড়াতে মন বসত না।যা বকুনী খেতাম, পেরেন্টস আর দাদী-মার। ভাবতাম এ রকম আর করব না কখনও। কিন্তু পরদিন রাত পোহালেই সাথী বন্ধুদের ভোরের ডাক —আম আর জাম কুড়াতে হবে তাই এ সব ভাবনা বেমালুমই ভুলে যেতাম। আরও ভুলে যেতাম মসজিদে গিয়ে হুজুরের কাছে আরবী পড়া। এ যেন কিশোর ভুলা কাল। সেকাল আর সে বেলাও কখন জানি পেরিয়ে শেষ বেলায় পৌঁছে গেলাম তার বড় কোন হদিছ-হিসেব মিলাতে আজও পারলাম না।
জীবন-যৌবন মানব জীবনের একটি মহামূল্যবান কাল। বেচেঁ থাকলে প্রতিজন মানুষের জীবনেই তা একবার আসে। ঐ সময়েই তারুণ্য শক্তি বিকশিত ও প্রকাশিত হতে থাকে। আমার জন্য ও এর ব্যতিক্রম ছিল না। সবে মাত্র যৌবনে পা রাখছি। প্রবেশিকা বা দাখিল ১৯৮৪ সালে পাশ করি এবং সিলেটের একটি স্বনাম-ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় আলিম ক্লাসে বিঞ্জান শাখায় এডমিশন নিলাম। এখােনে সুন্দর মনোরম ও শিক্ষা-উপযোগি পরিবেশ বিরাজমান। মাদ্রাসায় ছিল খেলার মাঠ,ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্র।শহরের পরিবেশ ও অধিকতর সুযোগ-সুবিধা,কাদেরিয়া বৃত্তি, এসব মিলিয়ে একে এক অনন্য বিদ্যাপীঠ খেতাবে ভূষিত করলেও বাহুল্য কিছু হবে না বলে মনে করি। তা ছাড়া মাদ্রাসা থেকে একটু আগালেই হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে দেশ-বিদেশের কত মানুষ জিয়ারতে আসে তার কোন ইয়ত্ত্বা নেই। নীরব পবিত্র আমেজ। পুকুরে শোল-গজার মাছ,কবুতর পাখির বাক-বাকুম ডাক,কিছু পাওয়ার আশায় ভিখারী মেলা। আতর-গোলাপের সু-মিস্ঠি গন্ধ। বাউলশার কাওয়ালী সংগীত আর ও কত মধুর আযান। কওমী দরগাহ মাদ্রাসায় ছাত্রদের পড়ার মধুময় কলতান এ সব মিলিয়ে এমনি জায়গায় পড়ার ভাগ্য ক’জনের হয়? মাদ্রাসার পূর্ব দিকে তাকালেই আর কত-শত বছরের ইতিহাস গৌড়গোবিন্দ রাজার টিলা। আর টিলার উপরে গিয়ে তাকালেই দেখতে পাবেন আদি মুসিলম শেখ বুরহান উদ্দিনের গাও,মাজার,সুরমা নদী,কিংব্রীজ, আলী আমজাদের ঘড়ি আরও কত কি !
আবার এ সবের সাথে মিশে আছে গৌর গোবিন্দ রাজার আর শেখ পুত্রের আঁকিকার ইতিহাস। এ সবের মাঝেই লুকিয়ে আছে সিলেটের প্রতি মানুষের ভালোবাসা মনের টান। টেনে আনে ভ্রমণ পিপাসুদের বারংবার। মাদ্রাসা শিক্ষায় পড়ুয়া দলে-দলে ছুটে আসে এই মাদ্রাসায়। এখানে পড়তে পারায় নিজেকে ধন্য মনে করি। সে সময়ের সহপাঠী বন্ধু ফজলুল হক,আখতার,বকর,মাসুদ,
মুজিবুর রহমান,মুয়িদ,গোলাম মোস্তফা,হুস্সাম,আর ও কতশত সহপাঠী বন্ধু আমার ছিল তাদের কথা ভুলতে
পারি না। তাদেরকে নিয়ে পড়ার ফাঁকে -ফাঁকে মজার আড্ডা দিতাম আর ঘুড়ে-বেড়াতাম। কতই না মজার ঐ
দিনগুলি ছিল। তবে ঐসময় পড়ার কথা একেবারে ভুলে যাইনি। তারুণ্য শক্তি কিছুটা হলেও কাজে লাগিয়ে
ছিলাম তাই ফল পেয়েছি। জীবন গড়েছি । একে,একে
ক্লাস পেড়িয়ে পাশ করেছি এম এ। এভাবেই এখানে যৌবনের
ছয়টি বছর কেটে গেল আমেজ আর স্বপ্ন নিয়ে। ( চলবে)
লেখক : মোঃতৌহিদ মিয়া, MSS+কামিল ।
আজকের সর্বশেষ সব খবর