রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

লাখাইর কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস আজ

প্রকাশিত :

আকিব শাহরিয়ার, লাখাই থেকে :আজ শুক্রবার (১৮ই সেপ্টেম্বর) হবিগন্জ জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংস গণহত্যা লাখাইর “কৃষ্ণপুর গণহত্যা” দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে লাখাইর সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত গ্রাম কৃষ্ণপুর গদাই নগর, চন্ডীপুর গ্রামে নৃশংস হত্যাকান্ড চালায় পাকবাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আলবদররা। ঐদিন প্রত্যুষে আনুমানিক ভোর ৫টায় কিশোরগঞ্জ এর অষ্টগ্রাম সেনা ক্যাম্প থেকে ১০/১২ জন পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের সকল অপকর্মের দোসর রাজাকার বাহিনীর ১৫/২০ সদস্য ২টি স্পীড বোট ও ২টি পানসী নৌকা যোগে বলভদ্র নদী পরিবেষ্টিত কৃষ্ণপুর, গদাইনগর, চন্ডীপুরসহ আশেপাশের আরো ছোট ছোট পাড়া ঘেরাও করে ফেলে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই গ্রাম থেকে বের হওয়ার সকল রাস্তা বন্ধ করে দেয়। গ্রামবাসী কোন কিছু বুঝে উঠবার আগেই লোকজনকে ধরে এনে কৃষ্ণপুর গ্রামে ননী গোপাল রায়ের বাড়ির পাকা ঘাটলা সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায়, গদাইনগরে চিত্ররঞ্জন রায়ের বাড়ির উঠানে এবং চন্ডীপুর গ্রামে একত্রিত করে। এ তিনটি স্থানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ারে ১২৭ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। লাইনে দাঁড়ানো কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত কৃষ্ণ মোহন রায়ের স্ত্রী হরিদাষ রায় সৌভাগ্যক্রমে বেচেঁ যান সেই ভয়াল ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে। পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা দিনব্যাপী গ্রামগুলোতে লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে। হানাদার বাহিনীর তান্ডবে গ্রামগুলো বিরানভূমিতে পরিণত হয়। আনুমানিক বিকেল ৫টায় হানাদার বাহিনী চলে গেলে গ্রামে পুকুরের কচুরিপানা ও ধানক্ষেতে আত্বগোপনকারীরা বাড়িতে ফিরে আসেন। গ্রামে এসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাশের মিছিল দেখে তারা স্তম্বিত হয়ে পড়েন। দু-একটি লাশ তারা স্থানীয় শ্বশ্বানে দাহ করে। বাকি লাশগুলো বর্তমান বধ্যভূমি স্থানে পানিতে স্তপ করে রেখে দেয়। বহুলাশ বলভদ্র নদীতে ভেসে যেতে দেখেছে প্রত্যক্ষ দর্শীরা। এ নৃশংস গণহত্যায় একশত সাতাশ জন শহীদ হলেও এদের বেশিরভাগই বহিরাগত হওয়ায় তাদের সকলের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত পঁয়তাল্লিশ জন শহীদের নাম পরিচয় জানা গেছে। দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুস্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা।

আজকের সর্বশেষ সব খবর