রবিবার | ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মুহাররম ও আশুরার তাৎপর্য

প্রকাশিত :

মাওলানা মুশাহিদ আহমদ : বছরের ১২ মাসের প্রতিটি দিনই আল্লাহর সৃষ্টি। এরমধ্যে বছরের নির্দিষ্ট দিনকে মহান আল্লাহ বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারটি,আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি (মাস) সম্মানিত। (সুরা তাওবা-৩৬)
উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে ৪টি মাস সম্মানিত। তার একটির নাম ‘মুহাররম’। মুহাররমের ১০ তারিখ “আশুরা ” নামে খ্যাত। আশুরা অর্থ দশম দিন। আল্লাহর রহমত ও বরকতের দিক থেকে দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যবহ। রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার আগে এ দিনটির রোযাই মুসলমানদের উপর ফরজ ছিলো। রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোযা আর ফরজ থাকে নাই। তবে এই দিনের রোযাকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত ও মুসতাহাব। হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আশুরার রোযার ফযিলতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আশুরার আশুরার রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর উসিলায় বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজীবন আশুরার দিনে রোযা রেখেছেন। কিন্তু ইন্তেকালের আগের বছর যখন তিনি রোযাটি রেখেছেন, তখন এও বলেছিলেন, মুহাররমের ১০ তারিখে আমরাও রোযা রাখি ইয়াহুদীরা ও রোযা রাখে। আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে আশুরার সাথে মুহাররমের ৯ কিংবা ১১ তারিখে ও রোযা রাখবো। যাতে ইয়াহুদীদের সাথে সাদৃশ্য সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
কিন্তু পরবর্তী রছরের আশুরা আসার আগেই রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। যার ফলে এর উপর আমল তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু তিনি কথাটি বলে দিয়েছেন, তাই সাহাবায়ে কেরাম আশুরার রোযার সাথে নবম তারিখে অথবা এগারতম তারিখে আরেকটি রোযা মিলিয়ে রাখতেন এবং শুধু আশুরার দিনে রোযা রাখাকে তাঁরা আলোচ্য হাদিসের আলোকে “অনুত্তম ” মনে করতেন। অর্থাৎ, কেউ যদি শুধু আশুরার দিনেই রোযা রাখে, তাহলে গুনাহগার হবে না। বরং আশুরার রোযার সওয়াব পাবে। তবে যেহেতু রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি রোযা রাখার আশা ব্যক্ত করে গিয়েছেন, তাই এই দিক বিবেচনা করে দুটি রোযা রাখাই উত্তম।
ইয়াহুদীদের সাদৃশ্য থেকে বেঁচে থাকুন: আলোচ্য হাদীস থেকে আমরা আরেকটি শিক্ষা পাই। তাহলো এই, অমুসলিমদের সাথে সামান্যতম সাদৃশ্য ও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করতেন না। ইবাদতের মতো পবিত্র বিষয়ে ও অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বনকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেনে নেননি। তাহলে অন্য সব ব্যাপারে মেনে নেওয়ার কল্পনা ও করা যায় না। এর কারণ হলো, আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের সবচেয়ে উত্তম দ্বীন (ইসলাম) দান করেছেন। এ ধর্মের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা রয়েছে। একজন মুসলমানদের উচিৎ ইসলামের এই স্বাতন্ত্র্য নিজের জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা। জেনে-শুনে অমুসলিমদের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করা কবিরা গুনাহ। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বিজাতীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন বলে বিবেচিত হবে। (আবু দাউদ, কিতাবুল্লিবাস)
মহান আল্লাহ আমদের হেফাজত করুন। আমীন।
লেখকঃ প্রাবন্ধিক ও ইসলামি গবেষক।

আজকের সর্বশেষ সব খবর