বুধবার | ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

করোনাকালের ভাবনা

প্রকাশিত :

তাহমিনা বেগম গিনি : জাতিসংঘের শিশু অধিকার আইন মোতাবেক এক থেকে আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত বলা হয় শিশু।আমাদের প্রতি ঘরে ঘরে বলতে গেলে ছোট বড় শিশু রয়েছে।করোনাকালে তারা কেমন আছে ? মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে করোনাকাল।সবরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সঙ্গীত,নৃত্য,কবিতা,চারু,নাটক,আবৃত্তি,সাহিত্য চর্চা বন্ধ।আমরা যে শৈশব কাটিয়েছি আমাদের শিশুরা কোনোদিনই সেই শৈশবের স্বাদ পায়নি ভালো অবস্থার মধ্যেও। শহর, জেলা কোথাও নেই খেলার মাঠ,বাক্সবন্দী ঘরগুলোর ভিতর বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো।সাঁতার শেখারজন্য নেই কোনো ভালো পুকুর। তারপরও স্কুল,কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলাছিল।ছেলে মেয়েগুলো পড়াশোনা ও অন্যান্য কারিকুলাম নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতো।কিন্ত গত ৫/৬ মাস তারা গৃহ বন্দী থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছে।কত আর টিভি দেখা যায়,ছবি আকা যায়,গান গাওয়া যায় কিংবা মাকে গৃহ কর্মে সাহায্য করা যায়। সেটা কতক্ষণ ?

 

ছবি- এ শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।

ইতিমধ্যে অনেক শিশু মোবাইলে আসক্ত হয়ে উঠেছে।যা পরবর্তীতে ভয়ানক রূপ নিবে।কিশোর,কিশোরী,যুবক,যুবতী,সারাদিন রাত মোবাইল ল্যাপটপে কি করে পিতা মাতার নজরদারীরাখা প্রয়োজন !
স্কুলের পড়া,কোচিং,বাসার মাস্টারের চাপে আমরা সন্তানদের আসল ইসলামি বুনিয়াদি শিক্ষা দিতে ভুলে যাই।এ অবসরের সময় কায়দা, পবিত্র কোরআন শরীফ বাচ্চাদের সবক দিত পারি।ডাইরী লেখাতে উৎসাহ দিতে পারি।সৃজনশীল কাজ বাচ্চাদের উৎসাহ কেবল পরিবারের সদ্যসবৃন্দই দিতে পারেন।গ্রামের বাড়ি নিরাপদ থাকলে সেখানে কিছুদিন স্বাধীনভাবে প্রকৃতির কোলে হেসে খেলে কাটিয়ে আাসতে পারে সবাই।খুব ভালো লাগবে।আমরা কেউ জানি না করোনা কবে যাবে,স্কুল কবে খুলবে,স্বাভাবিক অবস্থা কবে ফিরবে ? কিন্তু আমাদের
সন্তানদের সবরকম এক ঘেয়েমি,বিষন্নতা,অমনযোগিতার হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।এরাই পরিবারের দেশের সম্পদ।
হারিয়ে যাওয়া,ফেলে আসা আন্দদময় শৈশব আবার ফিরিয়ে দাও, পৃথিবীটা আবার ওদের বাসযোগ্য করে দাও হে মহান আল্লাহ তোমার কাছে এই প্রার্থনা আমাদের সকলের।

লেখক : কবি ও সাহিত্যিক, হবিগঞ্জ।

আজকের সর্বশেষ সব খবর