শনিবার | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

স্পেনে বাঙালী কমিউনিটির অবস্থান : কিছু কথা

প্রকাশিত :
সাইফুল আমিন : স্পেনে বাঙালীকমিউনিটির অবস্থান প্রায় দুই যুগ ধরে।একান্নব্বয়ের অলিম্পিক দিয়েই শুরু হয় স্পেনে বাঙালীদের প্রবেশের পর ২০০০ সালের বৈধ অভিবাসন ও ২০০১ সালের বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বাঙালীদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যায়।বিভিন্ন পরিসংখ্যানে বর্তমানে যার পরিমাণ প্রায় পঁচিশ হাজারের মতো।এক সময় বাংলাদেশের সাথে স্পেনের কূটনেতিক সম্পর্ক তেমন নিবিড় না থাকায় স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ সময় স্পেনে বাংলাদেশের কোন দূতাবাস ছিলনা।সিনিয়র আলভারো সারমিয়েন্তে নামক এক স্প্যানিশ ভদ্রলোক অনারারি কনসুলার এর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।অত্যন্ত সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বাঙালীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সমূহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল থেকে স্পেনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়,যার মাধ্যমে দূতাবাসের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ব্যবসা -বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। পাশাপাশি সংস্কৃতি বিনিময় এবং প্রবাসী বাঙালীদের দূতাবাস সম্পর্কীয় বিষয়গুলোর সুষ্ঠু সমধানও হয়।বর্তমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে বাঙালী কমিউনিটি সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত সুদৃঢ়।সেবার মান আগের চেয়ে অনেকটাই দ্রুত।স্পেনে বসবাসরত বাঙালীরা সাধারণত রাজধানী মাদ্রিদ এবং পোর্ট শহর বার্সেলোনা কেন্দ্রিক হলেও স্পেনের বিভিন্ন বাণিজ্যিক শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বসবাসরত বাঙালীরা।ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে ইউরোপের অন্যতম দেশ স্পেন খুব-ই পরিচিত,বহুমূখী সংস্কৃতি,নানা ধর্ম বর্ণের মানুষের বসবাস।রাজধানী মাদ্রিদে বাঙালী পাড়া খ্যাত লাভাপিয়েস যেন একখন্ড বাংলাদেশ।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের আনাগোনা এবং বসতি এই এলাকায় হলেও বাঙালীরা এখানে ভালো অবস্থানে স্বাচ্ছন্দে বসবাস করছেন।স্বাধীন দেশের স্বাধীন বাঙালীরা প্রবাসে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যে ঝুঁকেছে।
পাইকারি পোশাক ব্যবসা থেকে শুরু করে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা,মোবাইল এক্সেসরিজ,মানিট্রান্সফার,ট্রাভেল এজেন্সিসহ নানা ব্যবসায়।অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি বাঙালীদের মধ্যে ঐক্য ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করায় এখানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন।নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ভাষার পাশাপাশি শুদ্ধ বাংলা ভাষা শিক্ষা দেয়ায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইসলামিক সেন্টার,মান্নান বাংলা স্কুল।বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের রয়েছে মসজিদ,মন্দির ও গির্জা । এছাড়া এখানে পালিত হয় বাংলা নববর্ষের বৈশাখী উৎসব।পৌষের নবান্ন উৎসব ছাড়াও বিভিন্ন-জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো উদযাপন করা হয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে।খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের দেশ স্পেন হলেও ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এখানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। শত ব্যস্ততার মাঝেও এখানে বিভিন্ন-সময় ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়।ফুল দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয় একুশে ভাষা শহীদদের।এখানে দেশীয় রাজনীতি চর্চা হয়,তবে সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের পরামর্শ প্রবাসে দেশীয় রাজনীতি চর্চা না করে স্পেনের মূল ধারার রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করা।বিগত দুই যুগের মধ্যে প্রবাসী বাঙালীরা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে যে শক্ত অবস্থান তৈরী করেছে এ ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বাঙালী পাড়া বলে খ্যাত লাভাপিয়েস ব্যবসা-বাণিজ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বাঙালীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে স্পেন।
লেখক : সাইফুল আমিন , প্রবাসী সাংবাদিক,
মাদ্রিদ, স্পেন।
আজকের সর্বশেষ সব খবর