রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

হবিগঞ্জে বসতঘর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত দুই বীরমুক্তিযোদ্ধা

প্রকাশিত :

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় অতিবাহিত করেছেন সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক হিসাবে। অবসরের পর যখন জীবন সায়ান্থে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে দারিদ্রের মাঝে বসবাস, তখন আনন্দ উপলক্ষ এনে দিয়েছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাঠানো সেই সেনাবাহিনী।হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সেনাবাহিনী তৈরি করে দিয়েছে বসতঘর। বুধবার দুপুরে যখন তারা ঘরের চাবি হাতে পেয়ে নিজেরাই ফিতা কেটে ঘরে প্রবেশ করেন তখন তাদের চোখে ছিল আনন্দ অশ্রু। আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বরকত উল্লা ঘর পেয়ে বলেন, স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে আমার সংসার। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমার নাম গেজেটে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন ভাতা পাইনি। দারিদ্রের জন্য বাড়িতে একটি ভালো ঘরও তৈরি করতে পারিনি।কিন্তু সেনাবাহিনী আমাকে ঘর দেয়ায় আজ আমি আনন্দিত। আমার বাড়িতে আজ এতবড় একজন অফিসার এসেই আমাকে দিয়েই ফিতা কাটিয়েছেন। এই স্মৃতি আমি ভুলতে পারব না।
রামনগর গ্রামের পরিমল চন্দ্র শীলও নতুন ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন।

 


বুধবার ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৬৪ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুস সাত্তার খান পিএসসি। তিনি জানান,সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের ৩৬০ পদাতিক ব্রিগেড ঘর ২টির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে। ২টি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় ১০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৫ সেনা মুক্তিযোদ্ধাকে আবাসিক ঘর উপহার দেয়া হয়েছে। এর মাঝে নবীগঞ্জ উপজেলায় ৪টি,বানিয়াচং উপজেলায় ৩টি,মাধবপুর,চুনারুঘাট,হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ২টি করে এবং শায়েস্তাগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১টি করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, বিশিষ্ট মুরুব্বি আব্দুল মালেক,  অ্যাডভোকেট মইনুল হাসান দুলাল, ইউপি সদস্য ফুল মিয়া, আব্দুল মোতালেব, সিরাজুল ইসলাম বাবুল, কামরুল হাসান বাবুল ও দ্বীন ইসলাম।

আজকের সর্বশেষ সব খবর