রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ॥ এ যুগের একজন কীর্তিমান পুরুষ

প্রকাশিত :

মো. হামিদুল ইসলাম :
একাডেমিক লেখক, ঔপন্যাসিক,গল্পকার, সাহিত্যিক , অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জন্ম ১৮জানুয়ারি ১৯৫১ সালে সিলেট শহরে। তাঁর পৈতৃক নিবাস বানিয়াচং মীর মহল্লায়। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁর বাবা সৈয়দ আমীরুল ইসলাম ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক। আর মা মরহুম রাবেয়া খাতুনও ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ।তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে মাধ্যমিক পাশ করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে তিনি ভর্তি হন। ১৯৭১সালে স্নাতক ও ১৯৭২সালে স্নাতকোত্তর প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থানে উত্তীর্ণ হন। এ দুই পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য তিনি যথাক্রমে পোপ স্মারক স্বর্ণপদক ও ফজলুর রহমান স্মারক স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েট্স-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব বিষয়ে পিএইচডি করেন। ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে কানাডার কিংস্টন শহরস্থ কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য যান এবং ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েট্স-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব বিষয়ে পিএইচডি করেন।তিনি দেশে ফিরে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুর করেন।। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের ওয়ার্ডেন হিসেবেও কাজ করেন। একাডেমিক লেখালেখি এবং শিক্ষকতার বাইরেও ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষও রেখেছেন। সাহিত্য-নন্দনতত্ত্ব-চারুকলা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছেন। তাঁর লেখা নন্দনতত্ত্ব (বাংলা একাডেমি ১৯৮৬) বাংলাদেশে এ বিষয়ে লেখা প্রথম বই। তিনি চারুকলার উপর বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অনেক বই এবং প্রবন্ধ লিখেছেন।যা পাঠক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি দেশ-বিদেশে বেশ কয়েকটি চিত্র প্রদর্শনী কিউরেটও করেছেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক বিখ্যাত শিল্পীসহ অসংখ্য তরুণ শিল্পীর উপর পরিচিতিমূলক লেখার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের আর্ট জার্নালে তিনি বাংলাদেশের শিল্পকলা নিয়ে নিয়মিত লিখেছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের আর্ট ত্রৈমাসিক যামিনী-র সম্পাদনা পরিষদের তিনি একজন সদস্য। তাছাড়া বেশ কয়েকবার তিনি ঢাকা দ্বি-বার্ষিক চিত্র প্রদর্শনীর সেমিনার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ড. ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলের মডারেটর হিসেবে বিতর্ক চর্চাকে পুনর্জীবিত করতে ভূমিকা রাখেন। এখনও তিনি সংগঠনটির মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইংরেজি সংসদীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি দীর্ঘ ছয় বছর স্পিকারের ভূমিকা পালন করেন এবং সারাদেশে ইংরেজি ভাষায় বিতর্ককে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রাখেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দলের মডারেটর হিসেবে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশে দলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ছোট গল্পকার হিসেবে ড. ইসলাম পুনরায় পাঠকদের সামনে আসেন। ঢাকা ও কলকাতা থেকে তাঁর পাঁচটি ছোট গল্প সংকলন বের হয়েছে এবং ভিন্ন ধারার গল্পকার হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ১৯৯৬ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।তছাড়া প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার, ২০০৫,কাগজ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬। বাংলাদেশ টেলিভিশন, চ্যানেল আই ও একুশে টিভির জন্য তিনি অনেকগুলো নাটক লিখেছেন। এর বেশিরভাগই মৌলিক তবে কয়েকটি নাটক রবীন্দ্রনাথ ও একটি নাটক সেয়দ ওয়ালী উল্লাহর গল্পের নাট্যরূপ। তাছাড়া মঞ্চ নাটকের জন্য তিনি কয়েকটি অনুবাদ ও মৌলিক নাটকও লিখেছেন। তাঁর ‘ভুবনের ঘাটে’ নাটকটি ২০০৪ সালের শ্রেষ্ঠ মঞ্চ নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে।তাছাড়া তিনি নিয়মিত সাম্প্রতিক বিষয়াবলীর উপর বিভিন্ন সংবাদপত্রে কলাম লিখে থাকেন এবং সেগুলো পাঠকের প্রশংসা অর্জন করেছে। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের র্নিবাচন কমিশন পূনঃ গঠনের জন্য গঠিত র্সাচ কমিটির সদস্য র্নিবাচিত হন।ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি,ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিষদের সদস্য এবং এশিয়াটিক সোসাইটি, আমেরিকান স্টাডিজ রিসার্চ সেন্টার সহ অনেক লার্নেড সোসাইটির সদস্য। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালে সাঞ্জিদা মইনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একজন পুত্র সন্তান রয়েছে।
লেখক-শিক্ষার্থী (এমএসএস),সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আজকের সর্বশেষ সব খবর