রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

হুমকির মুখে চুনারুঘাটের ত্রিপুরা পল্লী

প্রকাশিত :

কাজী মাহমুদুল হক সুজন/মামুন চৌধুরী : টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের সাতছড়ি পাহাড়ি টিলা ধ্বসে হুমকির মুখে পড়েছে ত্রিপুরা পল্লী। এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের শতাধিক বাসিন্দা। টিলা ধ্বসের কারণে দীর্ঘদিনের আপন ভিটা ছাড়তে হচ্ছে তাদের।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, ‘‘পাহাড়ে আমাদের জন্ম। মৃত্যুও যেন এখানেই হয়। এ স্থানটা আমাদের কাছে প্রিয়। পাহাড় রক্ষা করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাই।

‘আমরা টিলা কাটি না। টিলা রক্ষায় কাজ করি। তবে টিলা কাটা চক্রের কাছে আমরা অসহায়। জন্মের পর ছড়াগুলো দেখলাম ছোট, এখন দিন দিন বড় হচ্ছে। বাকি দিনে কী হবে, জানি না। আমাদের বসবাস পাহাড়ের টিলার ওপরে। টিলায় বসবাস নিরাপদ মনে করি। আর সবাই মিলেমিশে একত্রে থাকি। আমাদের পূর্ব পুরুষরাও নির্জন পাহাড়-টিলায় বাস করে গেছেন।”

চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর সরকারি সিদ্ধান্তে বনবিভাগ আমাদেরকে বনের এক পাশে অবস্থিত সড়ক পথের কাছের টিলায় বসবাসের ঠিকানা করে দেয়। সেই থেকে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু এই টিলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া থেকে বিভিন্ন চক্র নানা সময়ে বালু উত্তোলন করছে। তাই আজ টিলা ধ্বসের কারণ হয়ে উঠেছে। একদিকে ছড়া হচ্ছে প্রশস্থ, অন্যদিকে পাহাড়ি টিলা হচ্ছে সংকীর্ণ। তার সাথে আমাদের বসবাসও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।’

 

তিনি জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে ২০১৭ সালে পল্লীর টিলা ধ্বসে যায়। এ মৌসুমেও তিন আদিবাসী পরিবারকে নিজেদের ভিটা ছাড়তে হয়েছে। তারা টিলার অন্য জায়গায় গিয়ে বসবাস করছে। আরও তিনটি পরিবারকে নিজেদের ভিটা ছাড়তে হতে পারে! বর্তমানে পুরো টিলাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

উদ্যানের অন্যান্য ছড়ায়ও টিলা ধ্বসে পড়ছে। সেই সাথে ভেঙ্গে পড়ছে গাছপালা। টিলা রক্ষায় প্রাচীর নির্মাণ করা দরকার। আর তাতে বড় আকারের বাজেট দরকার।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণি রেঞ্জের সহকারি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ উদ্যানটি বেশ প্রিয়। এখানে যাতায়াত সহজ। রয়েছে বন্যপ্রাণির বিচরণ। তবে বর্তমানে করোনায় পর্যটক আসা বন্ধ আছে। টানা বৃষ্টিতে এ পাহাড়ের ত্রিপুরা পল্লীসহ বিভিন্ন টিলা ধ্বসে পড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সত্যজিত রায় দাশ বলেন, ‘হুমকীর মুখে থাকা তিনটি পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

আজকের সর্বশেষ সব খবর