রবিবার | ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

আমাদের ভাবতে হবে

প্রকাশিত :
কামাল উদ্দীন খান আল-হুসাইনি :
কওমী মাদরাসা সমূহ সরকারি অনুদান না নেওয়াই সঠিক। কিন্তু, আমার প্রশ্ন হল, কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও আমাদের ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো কি কোন দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার মত বা বোর্ড ও দলের কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার সামর্থ রাখি বা আদৌ কি তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার কথা চিন্তা করি ? আদৌ কি তা প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবি ? রাজনৈতিক দলগুলো কি মসনদে যেতে পারলে, তবেই নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করব বা অধিকার প্রদান করব বা তাদের অধিকার নিয়ে ভাবব ? নাকি মসনদে যাওয়ার পর নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত ও প্রদান করার মত মসনদে যাওয়ার আগেও দলের কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত ও প্রদান করতে হবে ? ভাবতে হবে তাদের অধিকার নিয়ে ? কিন্তু, আমরা কি এ নিয়ে আদৌ ভাবছিও কখনো ? দলের কর্মীদের অধিকার যদি প্রতিষ্ঠিত ও প্রদান করতে না পারি এবং তা নিয়ে ভাবতেও না পারি; তবে কি মসনদে গিয়ে নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত ও প্রদান করতে পারব ? পারব ভাবতে তাদের অধিকার নিয়ে ? নাকি দলের কর্মীদের কোন অধিকারই নেই ? দলের কর্মীদের মাঝেই যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পারলাম না, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারলাম না; তবে মসনদে গিয়ে নাগরিকদের মাঝে কি পারব ? আফসোস ! কোন কর্মী যদি বিপদে, সঙ্কটে ও অভাবে পড়ে থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেনেও আমরা তার খোঁজ-খবরই নিই না! তাঁকে দেখতেই যাই না! আর যদি কারো ক্ষেত্রে কিছু করিও, তা আর কি ? বেশির চেয়ে বেশি তাৎক্ষণিক কর্মীদের নিকট থেকে চাদা-কালেকশন করে তাঁকে আরো লজ্জিত করি। আর তা দ্বারা না কোন প্রয়োজন মেঠে তাঁর! তখন সে মনে মনে কি ভাবে ? বলেন তো ? আমাদের এ অবস্থা কি প্রশংসার যোগ্য ? নাকি নিন্দার ? আমাদের চিন্তা-চেতনা কি প্রশস্থ ? নাকি সংকীর্ণ ? ভেবেও কি দেখি আমরা কোন দিন ? কোন স‌ময় ? আমরা রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবি করি। অথচ, নিজেদের মধ্যে ও কর্মীদের মধ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা কতটা ভাবি ? এবার আসা যাক শুরু কথায়। কোন ব্যক্তি সরকারি চাকুরি করুক আর কোন কোম্পানিতেই চাকুরি করুক, চাকুরি শেষে এককালিন ও মাসিক আজীবন পেনশন পায়। কারণ, কর্ম-কাল সে কাজ করেছে। তাই অবসর কালে ভাতা পাওয়া তার অধিকার। যেহেতু কর্ম ক্ষমতা চলে গেলেও তার জীবন বাকী রয়েছে। বাকী জীবন তার পঁয়সার দরকার নেই ? নাকি অবসর কালে (চিকিৎসা) খরচ আরো বৃদ্ধিপায় ? কিন্তু, বেচারা তো কর্ম ক্ষমতা আপনার কোম্পানিতেই কাজ করে শেষ করে দিয়েছে। অতএব, অবসর কালে ভাতা বা পেনশন পাওয়াটা দয়া নয়, পাওনা। তাহলে যে ব্যক্তি কওমী মাদরাসায় সারা জীবন কাজ করল, অবসর কালে তাঁর পয়সার দরকার নেই ? পেনশন ও ভাতার প্রয়োজন নেই ? চাকুরিরত কালেও কি যথেষ্ট পরিমাণ বেতন-ভাতার প্রয়োজন নেই ? কিন্তু, তাকে এসব আমরা দেব দূরে থাক, তার এসবের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবেও কি দেখেছি ? এসব নিয়ে আমাদের ভাবার দরকার আছে কি ? পেরে উঠার সাহস হয় না ? বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থা যদি পারে, তবে আমরা পারব না কেন ? অভাব আমাদের চিন্তা-চেতনার। আমরা শুধু পরনির্ভর হয়ে থাকতে চাই। স্বনির্ভর হতে চাই না। ইসলামের জন্য চাঁদা দান করা যদিও মুসলমানদের কর্তব্য, কিন্তু কালের বিবর্তনে মুসলমানদের অবস্থা হল, তাদের নিকট চাঁদা চাইলে আরো বিরক্ত হয়। যদিও নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেওয়া ছিল, তাদের কর্তব্য। সুতরাং আমাদের চিন্তা-চেতনাকে করতে হবে আরোও অনেক অনেক উন্নত। হতে হবে আমাদেরকে স্বনির্ভর।
তাই কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডই হোক আর ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোই হোক, হতে হবে স্বনির্ভর । বোর্ড ভিত্তিক বেতন, পেনশনসহ যাবতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রদান করতে আমরা উদ্যোগী হই। হই ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকেও কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রদান করতে সচেষ্ট। বিভিন্ন ভাবে আমরা উদ্যোগী ও সচেষ্ট হতে পারি। আল্লাহর উপর ভরসা করে পরিকল্পনা শুরু করি। ইনশা আল্লাহ্ সফল হব। বর্তমান করোনা ভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কওমী মাদরাসা সমূহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মাত্র কিছু সংখ্যক দরিদ্র শিক্ষকের ত্রাণ লিষ্ট করেও ত্রাণের নামে একটি পঁয়সা দিতেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। করেছি তাঁদেরকে লিষ্টের নামে শুধু শুধুই অপমান। তাঁরা আমাদেরকে মন থেকে কেবলই ধিক্কার দিচ্ছেন !
অতএব, আমাদেরকে স্বাবলম্বি হতে সচেষ্ট হতে হবে।
লেখক : কামাল উদ্দীন খান আল-হুসাইনী
শিক্ষা-সচীব: মাদরাসাতুল হারামাইন
খতীব: ৩নং রাজবাড়ী জামে মসজিদ
বানিয়াচং হবিগঞ্জ।
আজকের সর্বশেষ সব খবর