শনিবার | ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

আসুন সকলে তাওবা করি

প্রকাশিত :

মাওলানা শায়খ সিরাজুল :  ইসলাম তাওবা মানে ফিরে আসা, অর্থাৎ অনুতাপের সাথে পাপ পরিহার করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। মহান আল্লাহ মুমিনদের তাওবা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, হে মুমিনগণ তোমরা সকলেই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারে ( সুরা নূর আয়াত নং- ৩১)। রাসূল (সা.) বলেছেন, পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে ব্যক্তি তাওবা করবে আল্লাহ তা’য়ালা তার তাওবা কবুল করবেন (মিশকাত ২০৩ পৃষ্ঠা )। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়ার নাম-ই তাওবা। নবী করীম (সা.) আরো বলেছেন, আমি প্রতিদিন ৭০ হাজার বারের অধিক আল্লাহর নিকট ক্ষমা-প্রার্থনাও তাওবা করে থাকি (বোখারী সূত্র মিশকাত ২০৩ পৃষ্ঠা)। রাসূল ( সা.) অপর জায়গায় বলেছেন, আদম সন্তান সকলেই পাপ করে থাকে, আর পাপীদের মধ্যে তারাই অধিক ভালো যারা বেশি বেশি তাওবা করে (মিশকাত ২০৪ পৃষ্ঠা)। তাওবাকারি মহান আল্লাহর প্রিয় পাত্র। দুনিয়াতে মানুষ যখন মালিকের নাফরমানি করে, মালিকের নিকট গিয়ে ভুল স্বীকার করে তখন তার মালিক অত্যন্ত খুশি হয়। তদ্রুপ বান্দা যখন আল্লাহর আইন লংঘন করে, পরক্ষণে ভাবতে থাকে আল্লাহর আইন লংঘন করে ভুল করেছি, তাই সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করে আল্লাহর নিকট তাওবা করে তখন আল্লাহ তা’য়ালা বান্দার প্রতি অত্যন্ত খুশি হন।
তিনি কেমন খুশি হন তার একটি বাস্তব প্রমান মিশকাত শরীফে রাসূল (সা.) বিশদভাবে তুলে ধরেছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ পাক পাপী বান্দার তাওবায় ওই ব্যক্তির অপেক্ষা অধিক সন্তুষ্ট হন যে, উঠের পিঠে খাদ্য, পানীয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বোঝাই করে উত্তপ্ত মরু প্রান্তে পাড়ি দিতে গিয়ে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়লে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুৃমিয়ে পড়লো। ঘুম থেকে উঠে দেখতে পেল তার উট্টি এখানে নেই। তখন অস্থির হয়ে উট্টি খুঁজতে লাগলো। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার যথারীতি ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল উট্টি যথাস্থানে খাদ্র-দ্রব্যসহ দাঁড়িয়ে আছে। তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে ভুলবশত বাক্যটি উল্টো বলে ফেলল আল্লাহ আমি তোমার রব আর তুমি আমার দাস। এতে সহজেই অনুমেয় মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাওবাকে কত পছন্দ করেন।

 

তাই আর সময় কালক্ষেপণ না করে জীবনের সকল অপরাধের কথা স্বীকার করে তাওবায়ে নাসুহা করা প্রয়োজন। রাসূল (সা.) বলেছেন, ইবলিশ অভিশপ্ত হওয়ার পর আল্লাহর দরবারে বলেছিল, হে আল্লাহ তোমার ইজ্জতের কসম মানুষের দেহ থেকে আত্মা বের না হওয়া পর্যন্ত আমি সেখানে অবস্থান করব। তখন আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, আমার ইজ্জতের কসম করে বলছি যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের দেহে আত্মা থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমিও তাওবা কবুল করতে থাকব (সুবহানাল্লাহ)।
উপসংহার : উপরোক্ত কোরআনের আয়াতও বেশ কিছু হাদিস থেকে জানতে পারলাম যে, জীবনের যাবতীয় পাপ মোচনের রাস্তা হলো তাওবা। আর এই তাওবাই হলো নাজাত/ মুক্তির রাস্তা।
অতএব আমরা যারা দূর্নীতির মাধ্যমে অন্যের সম্পদ কুক্ষিগত করেছি, গরীব-অসহায়ের টাকা মেরে খেয়েছি, ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে ক্রেতাকে ঠকিয়েছি, কৃষিতে অন্যের জমি-জমা করতে গিয়ে মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছি, যিনা করেছি, চোখের দৃষ্টির অপব্যবহার করেছি, মানুষের গীবত করেছি, চাকুরীতে ফাঁকি দিয়েছি,সুদ-ঘুষসহ আরো অজানা কত অপরাধমূলক কর্মকান্ড করেছি। উক্ত অপরাধসমূহকে স্মরণ করে চোখের অশ্রু ফেলে অতীতের গুনাহের প্রতি অনুতপ্ত হয়ে সকলেই তাওবা করে নিই। আমি বিশ্বাস করি বর্তমানে সারা পৃথিবীটাকে গ্রাস করে ফেলা জীবাণু প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ থেকে মুক্তি পেতে হলে তাওবার কোন বিকল্প নাই। মনে রাখুন- পবিত্র কোরআনুল কারীমের ভাষ্যমতে জলে-স্থলে যা কিছু বিপর্যয় ঘটে তা কিন্তু আমাদের হাতের কামাই। আর বর্তমানে করোনা ভাইরাসটিও এমনি। করোনা ভাইরাস নামক মহামারি থেকে মহান আল্লাহ আমাদের দেশকে হেফাজত করুন। আমীন
লেখক- আলেমও প্রাবন্ধিক

আজকের সর্বশেষ সব খবর