বৃহস্পতিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বানিয়াচং এর উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সায়ীদুল হাসান

প্রকাশিত :

দিলোয়ার হোসাইন, বানিয়াচং: শহীদ সায়ীদুল হাসান একজন বামপন্থী ও প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতা ছিলেন। ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক-বাহক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।

১৯১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা সদরের কামালখানী গ্রামের ঔতিহ্যবাহী এক সভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন তিনি। তাঁর পিতা হলেন খান বাহাদুর রফিকুল হাসান।

সায়ীদুল হাসান সিলেট থেকে মেট্রিক, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই এ এবং কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন।ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

১৯৪৬ সালের ১৬ আগষ্ট কলকাতার ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে বাঁচিয়েছেন।

হোসেন শহীদ সোহরা ওয়ার্দীর বিশেষ অনুরোধে সায়ীদুল হাসান লন্ডন ও শ্রীলংকার হাইকমিশনে ট্রেড কমিশনার পদে চাকুরী করেন। শ্রীলংকায় থাকাকালীন পুর্ব পাকিস্তানের দুর্ভিক্ষের খবর দেখে চাকুরী ছেড়ে দেন।

১৯৫৮ সালে ভাসানী ন্যাপে যোগদান করেন। ন্যাপের রাজনীতিতে মওলানা ভাসানীর একনিষ্ট সহচর হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৪ সালে ঢাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরোধে তিনি বলিষ্ট ভুমিকা পালন করেন।

১৯৬৬ সালে ন্যাপ ভাসানীর কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হন।তিনি ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর স্ত্রী ফরিদা হাসানও ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক মনা। ফরিদা হাসান ছায়ানটের সাথে জড়িত ছিলেন।

সায়ীদুল হাসানের বন্ধু ছিলেন সিলেটের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নির্মল চৌধুরী। নির্মল চৌধুরী সিলেটে একটি চা বাগানের মালিক ছিলেন। জামাল উদ্দিন নামে এক বিহারী লোক নির্মল চৌধুরীর ঘোর শত্রু ছিল।

১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ যুদ্ধ শুরু হলে নির্মল চৌধুরী দুটি নাবালিকা কন্যাসহ ঢাকায় সায়ীদুল হাসানের বাসায় আশ্রয় নেন। চা বাগানের ভিনদেশী কর্মচারীরা নির্মল চৌধুরীকে অনুসরণ করতে থাকেন। নির্মল চৌধুরীকে বিহারীরা ধরে নিয়ে যায়।

১৯৭১ সালের ১৮ মে একটি মিথ্যা আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সায়ীদুল হাসান তাঁর বন্ধু নির্মল চৌধুরীকে উদ্ধারের জন্য ঢাকায় হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ( শেরাটন হোটেল) যান। এই যে গেলেন সায়ীদুল হাসান আর বাসায় ফিরলেন না।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ভারতীয় এক জেনারেলের সহযোগিতায় সায়ীদুল হাসানের স্ত্রী ফরিদা হাসান পাকিস্তানের লেঃ জেনারেল নিয়াজীর সাথে ঢাকা সেনানিবাসে দেখা করেন। জেনারেল নিয়াজী ফরিদা হাসানকে বললেন, পাকিস্তানের আই এস আই এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্নেল মাকসুদ ঢাকা লালমাটিয়া ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজে নির্মল চৌধুরী, আর পি সাহার সাথে সায়ীদুল হাসানকে হত্যা করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক, মানবহিতৈষী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একজন বুদ্ধিজীবী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হয়ে গেলেন। বাংলাদেশ হারালো একজন বুদ্ধিজীবীকে । আমরা হারালাম আমাদের গর্বিত কৃতি সন্তানকে। যতদিন স্বাধীন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন শহীদ সায়ীদুল হাসানদেরকে এ জাতি কখনো ভুলতে পারবে না। কারণ, সায়ীদুল হাসানরা দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। যা ইতিহাসে তাঁরা চিরভাস্বর ও অম্লান হয়ে থাকবেন শত শত বছর যাবত। এ মণীষীর নামে তার জন্মস্থান বানিয়াচং কামালখানী গ্রামে “ শহীদ সায়ীদুল হাসান গণগ্রন্থাগার” রয়েছে। দেশের এ কীর্তিমান মণীষীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

 

আজকের সর্বশেষ সব খবর