রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মানবদেহে ‘টি-কোষ’ বাড়িয়ে করোনার কার্যকরী চিকিৎসা

প্রকাশিত :

করোনা আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ রোগীর ‘টি-কোষ’ বাড়িয়ে সুস্থ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসায় গুরুতর অসুস্থ রোগীরা এ ভাইরাসকে মোকাবিলা করতে পারবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

টি-কোষ (সেল) কি?

একজন সুস্থ মানুষের শরীরের এক মাইক্রোলিটার রক্তবিন্দুতে দুই থেকে চার হাজার ‘টি-সেল’ থাকে। টি-সেলের আরেকটি নাম হলো ‘টি লিম্ফোসাইট’। টি-সেলের কাজ হলো করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করা।

কীভাবে কাজ করবে টি-কোষ

বিজ্ঞানীরা ৬০ জন রোগীর রক্তের টি-কোষ পরীক্ষা করে দেখেছেন, ভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর তাদের টি-কোষ (সেল) উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে গেছে। গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলেন, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার পর তাদের টি-কোষের সংখ্যা ২০০ থেকে ১২০০ তে নেমে গেছে।

ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ‘টি-কোষ’ নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে ‘টি-কোষ’র সংখ্যা ঠিক রাখতে ইন্টারলিউকিন-৭ নামে একটি ওষুধ ব্যবহার করা হবে। ওষুধটি টি-কোষের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে রোগীকে সেরে উঠতে এটি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

ইন্টারলিউকিন-৭ ওষুধের কার্যকারিতা

‘করোনা আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ যেসব রোগী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীর এক মাইক্রোলিটার রক্তবিন্দুতে টি-সেলের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৮০০ তে নেমে গেছে। একইসঙ্গে যখন এসব রোগীরা সেরে উঠছেন তখন রক্তে টি-সেল (লিম্ফোসাইট) আবার বাড়তে শুরু করছে’ বলে জানিয়েছেন লন্ডনের গাইস অ্যান্ড সেন্ট টমাস হাসপাতালের জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক শঙ্কর-হরি।

ইতোমধ্যে ইন্টারলিউকিন-৭ ওষুধ পরীক্ষা করা হয়েছে। ওষুধটি দেবার পর দেখা গেছে তাদের শরীরে টি-কোষগুলো আবার তৈরি হচ্ছে।

তবে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এ ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে দেয়া হবে। যেসব রোগীর টি-সেলের সংখ্যা খুব কমে যাবে এবং যারা তিন দিনের বেশি সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকবেন তাদেরকে এ ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।

সূত্র: বিবিসি

আজকের সর্বশেষ সব খবর