ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

হাওরের কিংবদন্তিঃ বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০২:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০
  • ২১১ বার পড়া হয়েছে

এড. আবুল হাসেম মোল্লা মাসুম: হাওরের কিংবদন্তিঃ বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এমপি বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, মাতার নাম সুমতিবালা সেনগুপ্ত। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যখন মায়ের গর্ভে তখন তাঁর বাবা মারা যান।জন্মের তিন বছর পর হারান মাকে।

১১ বছর বয়সে ওনার ভাই বোন ওনাকে জোর করে কলকাতায় নিয়ে যান, কলকাতায় নেয়ার তিন মাসের মাথায় পালিয়ে দিরাই চলে আসেন এই ভাটির পুরুষ। তারপর তিনি এই দিরাইয়ের আলো বাতাসে একাই বড় হোন, এবং দিরাইয়ের স্থানীয় লোকজন ওনার অভিবাবক হিসাবে লালন পালন করেন।

ভাটির কিংবদন্তী দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের
সাথে মেট্রিকুলেশন পাশ করে সিলেট এমসি কলেজে এইচএসসি’তে ভর্তি হন।

স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়ের পারদর্শিতা ছিল তার।
কলেজে বিভিন্ন নাটক মঞ্চায়ন করে তিনি
সকলের ভালবাসার পাত্র হয়ে উঠেন।

কলেজে পড়াকালীন সময়েই ছাত্র ইউনিয়ের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।

এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতিহাস বিভাগে ভর্তি
হয়ে জগন্নাথ হলে থাকতেন তিনি। তখন তিনি মঞ্চাভিনেতার শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পেয়েছেন কয়েকবার।

তিনি তার নিজের মেধা আর প্রজ্ঞায় স্থান করে নেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সেন গুপ্ত ১৯৬৯ সালের গনভ্যুত্থানে রেখেছিলেন অনন্য ভুমিকা। ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেন।

১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন ন্যাপ থেকে কুঁড়েঘর মার্কা নিয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চমক লাগিয়ে দেন। তার নির্বাচনি এলাকা ছিল(দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ) ।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকাল তিনি ৫নং
সেক্টরের বালাট সাব-সেক্টর কমান্ডার
হিসেবে দ্বায়িত্বই শুধু পালন করেন বীরদর্পে করেছেন অনেক সম্মুখ স্বশস্র যুদ্ধ ।

১৯৭২ সালে গণপরিষদ গঠিত হলে তিনি ছিলেন একমাত্র বিরোধী দলিয় সদস্য। তার গঠনমুলক সমালোচনা আর বিভিন্ন তির্যক মন্তব্যের কারনে বঙ্গবন্ধু তা‌কে খুব ভালবাসতেন এবং উৎসাহ দিতেন।বঙ্গবন্ধু তাকে বলতেন ” সুরঞ্জিত তুমিই আমার একমাত্র গনতন্ত্র”। আর এরপর থেকে আর পেছনে থাকাতে হয়নি ভাটির শার্দূল কে।

একমাত্র বিরোধী দলিয় সদস্য হিসেবে ছিলেন
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য। শুধু তাই নয় অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান প্রনয়নকারীদেরও একজন ছিলেন আমাদের এই অংকার।

১৯৭৩, ১৯৮৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালে অনুস্টিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।

৮ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত স্বাধীন বাংলাদেশের সকল গনতান্ত্রীক অর্জনের সফল অংশীদার।

দল বিরূধী দলে থাকাকালীন এই মহান নেতার আত্মত্যাগ দেশবাসী চিরদিন মনে রাখবে।

তার মেধা,শ্রম,রক্ত, ঘাম দিয়ে তিনি এই দেশকে অসাম্প্রদায়িক করে তুলতে যে ত্যাগ করেছেন তা আজীবন স্বরনীয়।

এই দেশ যতদিন থাকবে, আওয়ামীলীগ যতদিন থাকবে, স্বাধীনতার চেতনা যতদিন থাকবে ততদিন থাকবেন ভাটির পুরুষ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

হাওরের কিংবদন্তিঃ বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

আপডেট সময় ০২:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

এড. আবুল হাসেম মোল্লা মাসুম: হাওরের কিংবদন্তিঃ বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এমপি বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, মাতার নাম সুমতিবালা সেনগুপ্ত। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যখন মায়ের গর্ভে তখন তাঁর বাবা মারা যান।জন্মের তিন বছর পর হারান মাকে।

১১ বছর বয়সে ওনার ভাই বোন ওনাকে জোর করে কলকাতায় নিয়ে যান, কলকাতায় নেয়ার তিন মাসের মাথায় পালিয়ে দিরাই চলে আসেন এই ভাটির পুরুষ। তারপর তিনি এই দিরাইয়ের আলো বাতাসে একাই বড় হোন, এবং দিরাইয়ের স্থানীয় লোকজন ওনার অভিবাবক হিসাবে লালন পালন করেন।

ভাটির কিংবদন্তী দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের
সাথে মেট্রিকুলেশন পাশ করে সিলেট এমসি কলেজে এইচএসসি’তে ভর্তি হন।

স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়ের পারদর্শিতা ছিল তার।
কলেজে বিভিন্ন নাটক মঞ্চায়ন করে তিনি
সকলের ভালবাসার পাত্র হয়ে উঠেন।

কলেজে পড়াকালীন সময়েই ছাত্র ইউনিয়ের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।

এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতিহাস বিভাগে ভর্তি
হয়ে জগন্নাথ হলে থাকতেন তিনি। তখন তিনি মঞ্চাভিনেতার শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পেয়েছেন কয়েকবার।

তিনি তার নিজের মেধা আর প্রজ্ঞায় স্থান করে নেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সেন গুপ্ত ১৯৬৯ সালের গনভ্যুত্থানে রেখেছিলেন অনন্য ভুমিকা। ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেন।

১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন ন্যাপ থেকে কুঁড়েঘর মার্কা নিয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চমক লাগিয়ে দেন। তার নির্বাচনি এলাকা ছিল(দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ) ।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকাল তিনি ৫নং
সেক্টরের বালাট সাব-সেক্টর কমান্ডার
হিসেবে দ্বায়িত্বই শুধু পালন করেন বীরদর্পে করেছেন অনেক সম্মুখ স্বশস্র যুদ্ধ ।

১৯৭২ সালে গণপরিষদ গঠিত হলে তিনি ছিলেন একমাত্র বিরোধী দলিয় সদস্য। তার গঠনমুলক সমালোচনা আর বিভিন্ন তির্যক মন্তব্যের কারনে বঙ্গবন্ধু তা‌কে খুব ভালবাসতেন এবং উৎসাহ দিতেন।বঙ্গবন্ধু তাকে বলতেন ” সুরঞ্জিত তুমিই আমার একমাত্র গনতন্ত্র”। আর এরপর থেকে আর পেছনে থাকাতে হয়নি ভাটির শার্দূল কে।

একমাত্র বিরোধী দলিয় সদস্য হিসেবে ছিলেন
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য। শুধু তাই নয় অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান প্রনয়নকারীদেরও একজন ছিলেন আমাদের এই অংকার।

১৯৭৩, ১৯৮৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালে অনুস্টিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।

৮ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত স্বাধীন বাংলাদেশের সকল গনতান্ত্রীক অর্জনের সফল অংশীদার।

দল বিরূধী দলে থাকাকালীন এই মহান নেতার আত্মত্যাগ দেশবাসী চিরদিন মনে রাখবে।

তার মেধা,শ্রম,রক্ত, ঘাম দিয়ে তিনি এই দেশকে অসাম্প্রদায়িক করে তুলতে যে ত্যাগ করেছেন তা আজীবন স্বরনীয়।

এই দেশ যতদিন থাকবে, আওয়ামীলীগ যতদিন থাকবে, স্বাধীনতার চেতনা যতদিন থাকবে ততদিন থাকবেন ভাটির পুরুষ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।