ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজারের উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপি তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন আগামী ৯,১০ ও ১১ ডিসেম্বর Logo সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে নৌকাকে বিজয়ী করুন : এমপি আবুজাহির Logo বানিয়াচংয়ে হবিগঞ্জ শিক্ষা-সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৩ অনুষ্ঠিত Logo বানিয়াচং ইসলাহুল উম্মাহ পরিষদের উদ্যোগে মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ Logo হবিগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেন এমপি মজিদ খান Logo বানিয়াচং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা Logo নৌকা মার্কার সমর্থনে বানিয়াচং দক্ষিণ যাত্রাপাশা বনমুথুরা ভূমিহীন নারী-পুরুষের মিছিল Logo বানিয়াচংয়ে সরকারি প্রণোদনার ৭ হাজার ১শ’ কৃষককে সার-বীজ প্রদান Logo বানিয়াচংয়ে ফারুক চৌধুরী মিতুর মৃত্যুতে আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের শোক Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল কোরআন মাদ্রাসার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সিলেট থেকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার গল্প

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৯:৪১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২০
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

আজহার উদ্দিন শিমুল : গত বৃহস্পতিবার দিনভর ফেসবুক, টেলিভিশন ও ছাপা পত্রিকার অনলাইন পদ্মা সেতুময় ছিল। আফসোস হচ্ছিল কেন বুধবার রাতের গাড়িতে করে সিলেট থেকে মাওয়া গেলাম না। বৃহস্পতিবার সারা দিনের কর্মযজ্ঞ দেখে আর তর সইছিল না। সিদ্ধান্ত নিলাম রাতের ট্রেনেই ঢাকা যাব। শুক্রবার সকালে যে করেই হোক আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে যাব। সঙ্গী ছোট ভাই তারেক। দুজনেই ছাত্র হওয়ায় বাজেট নিয়ে কিছুটা স্বল্পতা ছিল।

২৮৫ টাকা করে (ভ্যাটসহ) বিকেলে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে দুটো শোভন সিট টিকিট সংগ্রহ করলাম। রাত সাড়ে ১১টায় ট্রেন। সবকিছু গুছিয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হলাম সিলেট রেলস্টেশনের উদ্দেশে। স্টেশনে পৌঁছতেই স্বেচ্ছাসেবীদের কণ্ঠে ভেসে এল, ‘কেউ মাস্ক ছাড়া ট্রেনে প্রবেশ করবেন না, মাস্ক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

আমার কাছে সব সময়ই অতিরিক্ত মাস্ক থাকে। সেই চিন্তা আর নেই। ট্রেন সময়মতোই ছাড়ল। সিলেটে তেমন শীত না এলেও চাদর ও জ্যাকেট সঙ্গে নিলাম। যাওয়ার আগে শুভাকাঙ্ক্ষীরা বললেন, ঢাকায় শীতের প্রকোপ বেশি। কিছুটা কুয়াশা থাকায় ট্রেন স্বাভাবিক গতিতে চলল।
বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশন পৌঁছাল। স্টেশন থেকে বের হয়েই ইউনিক কাউন্টার থেকে সিলেট ফেরার দুটো টিকিট কিনে রাখলাম। সকালের নাশতা কমলাপুর না করে আমরা জনপ্রতি ১০ টাকা করে গুলিস্তান চলে গেলাম। যদিও স্টুডেন্ট বলায় বাসের হেলপার ৫ টাকা কম রেখে দুজনের কাছ থেকে মোট ১৫ টাকা নিলেন। এক টাকা বাঁচাতে পারলেও আমাদের লাভ, কারণ দুজনেই ছাত্র। আয়রোজগার নেই!

গুলিস্তান নেমে সকালের নাশতার জন্য হোটেল খুঁজতে থাকলাম। অবশেষে কিছু হাঁটার পর একটা পেলাম। দুজনে মিলে রুটি, ডাল ও ভাজি ৬৬ টাকার খেয়ে নিলাম। পানি আমাদের সঙ্গে থাকায় কিনতে হয়নি। আটটার দিকে আমরা গুলিস্তান মোড় থেকে মাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠলাম। আগ থেকেই জানা ছিল ভাড়া জনপ্রতি ৭০ টাকা। দরদাম করে ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকায় নিয়ে এলাম। সারা রাত ট্রেনে সজাগ থাকতে হয়েছে। ভাবলাম বাসে কিছুক্ষণ ঘুমানো যাবে। কিন্তু ‘ঢাকা-মাওয়া’ সড়কে প্রবেশের পর মনে হচ্ছিল ঘুমানোর চেয়ে দুই চোখ ভরে রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করা শ্রেয়। এত সুন্দর রাস্তা দেশের আর কোথাও আমার চোখে পড়েনি। মাত্র ৪০ মিনিটেই আমরা রাস্তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলে এলাম।

শুক্রবার থাকায় মানুষের ভিড়ও নেহাত কম নয়। অনেকেই ফেরি পার হওয়ার অপেক্ষায়। আবার অনেকেই আমাদের মতো পদ্মা সেতু দেখতে আসছেন। ফেরিঘাটে এসে পড়লাম এক মধুর সমস্যায়। পদ্মা সেতুর কাছে যেতে হলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা স্পিডবোট নিতে হবে। আকাশচুম্বী দর বলেন মাঝিরা। কিন্তু আমাদের বাজেট সীমিত। তাই আমরা হাঁটাহাঁটি করে শেয়ারে (ভাগাভাগিতে) যাওয়ার লোক খুঁজতে থাকি।

কিছুক্ষণ পর পেয়ে যাই চারজনের একটা দল। তারা আমাদের সঙ্গে শেয়ারে যেতে রাজি হলেন। মোট ৫০০ টাকায় আমরা একটা স্পিডবোট রিজার্ভ করলাম। তবে অনেক কষ্টে রাজি করাতে হয়েছে। কেউ যদি পদ্মা সেতু দেখতে যান, তাহলে দল বেঁধে যাবেন। তাহলে কিছুটা লাভ হবে। একটি বোটে ১০ জনের বেশি বসা যায়।

সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে স্পিডবোট ছাড়ল। আমার স্পিডবোটে ওঠার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুটা ভয় লাগছিল ঢেউয়ে। তবে ছোট থেকে হাওরে বেড়ে ওঠার কারণে সাঁতার জানা ছিল। তাই ভয়টা কেটে যায়। কিছুক্ষণ পরেই আমরা পৌঁছে গেলাম সেতুর নিচে। এত দিন শুধু টেলিভিশন ও পত্রিকায় পদ্মার ছবি দেখেছি। চোখ জুড়িয়ে গেল পদ্মা সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য দেখে। পদ্মা সেতু আমার কাছে কখনোই কোনো দল বা ব্যক্তির মনে হয়নি। এই সেতু আমাদের ১৭ কোটি বাঙালির অর্জন। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এটা আমাদের সর্বোচ্চ অর্জন। দীর্ঘ আয়তনের সেতুটি একটানা ঘোরা সম্ভব নয় বিধায় আমরা সামান্য কিছু জায়গা দেখেছি। পরে গেলে পুরো সেতু ঘুরব।

স্পিডবোটের ভাড়া মিটিয়ে মাওয়ায় নদীর পাড়ে বসলাম চা খাব বলে। লিকার চা ছয় টাকা করে। দুই কাপ চা খাওয়ার পর ভাবলাম মানুষের সঙ্গে কথা বলি। তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা কেমন এই সেতু ঘিরে, তা জানার চেষ্টা করলাম। রোখসানা বানুর সঙ্গে আলাপ হলো। জানালেন, ওপার থেকে প্রতিদিন এসে কাগজ-প্লাস্টিক সংগ্রহ করেন।
বিজ্ঞাপন

বিকেলে বিক্রি করে ফেরি চড়ে বাড়ি ফেরেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বললেন, এই সেতু হওয়ায় তাঁদের কষ্ট অনেকটা লাগব হবে। প্রতিদিনের কষ্টটা আর থাকবে না। একটু দূরে গিয়ে আলাপ হলো মইনুল মিয়ার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে মাওয়ায় খাবারের হোটেলে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল কাজ ফেলে রেখে ৪১তম স্প্যান বসানো দেখতে গিয়েছিলাম। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।’ তিনি সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান।

যাঁদের সঙ্গেই কথা হলো, সবার মনেই আনন্দ-উল্লাস দেখা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হওয়ার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের মানুষের বিজয় অর্জন হয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।

দেশের উন্নয়নে মানুষের স্বস্তি আসে। পদ্মা সেতুর মতো আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও দিন দিন চওড়া হবে বলে বিশ্বাস করি। পদ্মা থেকে ঢাকার বাসে ফেরার পথে মনে হলো সুকান্তের কবিতা—
‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়,
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।’

লেখক : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, সিলেট।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

গ্যানিংগঞ্জ বাজারের উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপি তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন আগামী ৯,১০ ও ১১ ডিসেম্বর

সিলেট থেকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার গল্প

আপডেট সময় ০৯:৪১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২০

আজহার উদ্দিন শিমুল : গত বৃহস্পতিবার দিনভর ফেসবুক, টেলিভিশন ও ছাপা পত্রিকার অনলাইন পদ্মা সেতুময় ছিল। আফসোস হচ্ছিল কেন বুধবার রাতের গাড়িতে করে সিলেট থেকে মাওয়া গেলাম না। বৃহস্পতিবার সারা দিনের কর্মযজ্ঞ দেখে আর তর সইছিল না। সিদ্ধান্ত নিলাম রাতের ট্রেনেই ঢাকা যাব। শুক্রবার সকালে যে করেই হোক আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে যাব। সঙ্গী ছোট ভাই তারেক। দুজনেই ছাত্র হওয়ায় বাজেট নিয়ে কিছুটা স্বল্পতা ছিল।

২৮৫ টাকা করে (ভ্যাটসহ) বিকেলে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে দুটো শোভন সিট টিকিট সংগ্রহ করলাম। রাত সাড়ে ১১টায় ট্রেন। সবকিছু গুছিয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হলাম সিলেট রেলস্টেশনের উদ্দেশে। স্টেশনে পৌঁছতেই স্বেচ্ছাসেবীদের কণ্ঠে ভেসে এল, ‘কেউ মাস্ক ছাড়া ট্রেনে প্রবেশ করবেন না, মাস্ক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

আমার কাছে সব সময়ই অতিরিক্ত মাস্ক থাকে। সেই চিন্তা আর নেই। ট্রেন সময়মতোই ছাড়ল। সিলেটে তেমন শীত না এলেও চাদর ও জ্যাকেট সঙ্গে নিলাম। যাওয়ার আগে শুভাকাঙ্ক্ষীরা বললেন, ঢাকায় শীতের প্রকোপ বেশি। কিছুটা কুয়াশা থাকায় ট্রেন স্বাভাবিক গতিতে চলল।
বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশন পৌঁছাল। স্টেশন থেকে বের হয়েই ইউনিক কাউন্টার থেকে সিলেট ফেরার দুটো টিকিট কিনে রাখলাম। সকালের নাশতা কমলাপুর না করে আমরা জনপ্রতি ১০ টাকা করে গুলিস্তান চলে গেলাম। যদিও স্টুডেন্ট বলায় বাসের হেলপার ৫ টাকা কম রেখে দুজনের কাছ থেকে মোট ১৫ টাকা নিলেন। এক টাকা বাঁচাতে পারলেও আমাদের লাভ, কারণ দুজনেই ছাত্র। আয়রোজগার নেই!

গুলিস্তান নেমে সকালের নাশতার জন্য হোটেল খুঁজতে থাকলাম। অবশেষে কিছু হাঁটার পর একটা পেলাম। দুজনে মিলে রুটি, ডাল ও ভাজি ৬৬ টাকার খেয়ে নিলাম। পানি আমাদের সঙ্গে থাকায় কিনতে হয়নি। আটটার দিকে আমরা গুলিস্তান মোড় থেকে মাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠলাম। আগ থেকেই জানা ছিল ভাড়া জনপ্রতি ৭০ টাকা। দরদাম করে ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকায় নিয়ে এলাম। সারা রাত ট্রেনে সজাগ থাকতে হয়েছে। ভাবলাম বাসে কিছুক্ষণ ঘুমানো যাবে। কিন্তু ‘ঢাকা-মাওয়া’ সড়কে প্রবেশের পর মনে হচ্ছিল ঘুমানোর চেয়ে দুই চোখ ভরে রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করা শ্রেয়। এত সুন্দর রাস্তা দেশের আর কোথাও আমার চোখে পড়েনি। মাত্র ৪০ মিনিটেই আমরা রাস্তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলে এলাম।

শুক্রবার থাকায় মানুষের ভিড়ও নেহাত কম নয়। অনেকেই ফেরি পার হওয়ার অপেক্ষায়। আবার অনেকেই আমাদের মতো পদ্মা সেতু দেখতে আসছেন। ফেরিঘাটে এসে পড়লাম এক মধুর সমস্যায়। পদ্মা সেতুর কাছে যেতে হলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা স্পিডবোট নিতে হবে। আকাশচুম্বী দর বলেন মাঝিরা। কিন্তু আমাদের বাজেট সীমিত। তাই আমরা হাঁটাহাঁটি করে শেয়ারে (ভাগাভাগিতে) যাওয়ার লোক খুঁজতে থাকি।

কিছুক্ষণ পর পেয়ে যাই চারজনের একটা দল। তারা আমাদের সঙ্গে শেয়ারে যেতে রাজি হলেন। মোট ৫০০ টাকায় আমরা একটা স্পিডবোট রিজার্ভ করলাম। তবে অনেক কষ্টে রাজি করাতে হয়েছে। কেউ যদি পদ্মা সেতু দেখতে যান, তাহলে দল বেঁধে যাবেন। তাহলে কিছুটা লাভ হবে। একটি বোটে ১০ জনের বেশি বসা যায়।

সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে স্পিডবোট ছাড়ল। আমার স্পিডবোটে ওঠার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুটা ভয় লাগছিল ঢেউয়ে। তবে ছোট থেকে হাওরে বেড়ে ওঠার কারণে সাঁতার জানা ছিল। তাই ভয়টা কেটে যায়। কিছুক্ষণ পরেই আমরা পৌঁছে গেলাম সেতুর নিচে। এত দিন শুধু টেলিভিশন ও পত্রিকায় পদ্মার ছবি দেখেছি। চোখ জুড়িয়ে গেল পদ্মা সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য দেখে। পদ্মা সেতু আমার কাছে কখনোই কোনো দল বা ব্যক্তির মনে হয়নি। এই সেতু আমাদের ১৭ কোটি বাঙালির অর্জন। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এটা আমাদের সর্বোচ্চ অর্জন। দীর্ঘ আয়তনের সেতুটি একটানা ঘোরা সম্ভব নয় বিধায় আমরা সামান্য কিছু জায়গা দেখেছি। পরে গেলে পুরো সেতু ঘুরব।

স্পিডবোটের ভাড়া মিটিয়ে মাওয়ায় নদীর পাড়ে বসলাম চা খাব বলে। লিকার চা ছয় টাকা করে। দুই কাপ চা খাওয়ার পর ভাবলাম মানুষের সঙ্গে কথা বলি। তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা কেমন এই সেতু ঘিরে, তা জানার চেষ্টা করলাম। রোখসানা বানুর সঙ্গে আলাপ হলো। জানালেন, ওপার থেকে প্রতিদিন এসে কাগজ-প্লাস্টিক সংগ্রহ করেন।
বিজ্ঞাপন

বিকেলে বিক্রি করে ফেরি চড়ে বাড়ি ফেরেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বললেন, এই সেতু হওয়ায় তাঁদের কষ্ট অনেকটা লাগব হবে। প্রতিদিনের কষ্টটা আর থাকবে না। একটু দূরে গিয়ে আলাপ হলো মইনুল মিয়ার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে মাওয়ায় খাবারের হোটেলে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল কাজ ফেলে রেখে ৪১তম স্প্যান বসানো দেখতে গিয়েছিলাম। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।’ তিনি সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান।

যাঁদের সঙ্গেই কথা হলো, সবার মনেই আনন্দ-উল্লাস দেখা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হওয়ার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের মানুষের বিজয় অর্জন হয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।

দেশের উন্নয়নে মানুষের স্বস্তি আসে। পদ্মা সেতুর মতো আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও দিন দিন চওড়া হবে বলে বিশ্বাস করি। পদ্মা থেকে ঢাকার বাসে ফেরার পথে মনে হলো সুকান্তের কবিতা—
‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়,
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।’

লেখক : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, সিলেট।