ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

যুগান্তর দলের তিন বিপ্লবী : হেম সেন, বীরেন সেন ও সুশীল সেন

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৯:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩
  • ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

ড. শেখ ফজলে এলাহী :

বানিয়াচঙ্গের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সুপ্রাচীন। বানিয়াচঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা প্রচলন শুরু হয় উনিশ শতক থেকে (বানিয়াচঙ্গের কৃতি সন্তান পদ্মনাথ ভট্টাচার্য ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. পাশ করেন ১৮৯০ সালে)। এই সময় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, অরবিন্দ ঘোষ প্রমুখের প্রভাব পড়ে বানিয়াচঙ্গের শিক্ষিত যুবসমাজে। সেন পাড়ার হেম সেন, বীরেন সেন ও সুশীল সেন, এই তিন ভাইয়ের সবাই ছিলেন ইংরেজি শিক্ষিত।

কোলকাতায় গিয়ে বিপ্লববাদে দীক্ষা নেবার আগেই তারা নিজ বাড়িতে শুরু করেন শরীরচর্চা। ঐ সময় শরীরচর্চা ছিল বিপ্লববাদে যোগ দেয়ার অন্যতম যোগ্যতা। তিন ভাইদের মধ্যে হেম সেন পারদর্শী ছিলেন লাঠি খেলা ও যুযুৎসুতে। বানিয়াচঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সৌখিন লাঠিখেলার প্রচলন ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর এক উপন্যাসে লাঠির গুণগান করেছিলেন, সেখান থেকে প্রেরণা নিয়ে হেম সেন সৌখিন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শিখেছিলেন লাঠির কারসাজি এবং সেই কারসাজিকে তিনি রূপ দিয়েছিলেন শক্তিতে।

হেম সেনের শারীরিক শক্তি ছিল অসাধারণ। একদিন তাঁর বাড়ির গাছপালার লতা টেনে নামানোর জন্যে চার জন লোক নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু চারজন লোক একত্র হয়েও যখন একটি গাছের লতা নামাতে পারল না, তখন তিনি নিজেই এগিয়ে এলেন। তিনি নিজের বুকে লতা বেষ্টন করে এমন জোরে টান দিলেন যে গাছ ছেড়ে লতা হুড়মুড় করে নেমে এলো। ঘটনাটা ঘটেছিল তরুণ সংঘের (সিলেটের সংগঠন) নরেন্দ্র মহাপাত্রের (বাড়ি বানিয়াচঙ্গ) সামনেই।

সেন পাড়ার এই তিন ভাই কোলকাতায় গিয়ে যোগদেন বিপ্লববাদে। অরবিন্দ ঘোষ, তাঁর ভাই বারীণ ঘোষ, ভূপেন্দ্র দত্ত (স্বামী বিবেকানন্দ-এর ভাই), রাজা সুবোধ মল্লিক মিলে অনুশীলন সমিতির একটি উপ-গ্রæপ হিসেবে ১৯০৫ সালের এপ্রিল মাসে গঠন করেন যুগান্তর নামের বিপ্লবী সংগঠন। হেম সেন, বীরেন সেন ও সুশীল সেন যোগদেন এই দলে। বারীণ ঘোষের পূর্ব কলকাতার মানিকতলার গার্ডেন হাউস নামক বাসা ছিল সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র। মানিকতলার এই বাসাটি ব্যবহৃত হতো অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ ও বোমা তৈরীর কাজে।

এখানেই সময় কাটতো সেন ভ্রাতৃত্রয়ের। মানিক তলার বাসায় অস্ত্র চালনা, বোমা বানানো ইত্যাদির প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শরীর চর্চায় ছিলেন মনযোগী তারা। বিহারের মোজাফফর পুরে ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুলিশ কোলকাতা শহরের মানিকতলার গার্ডেন হাউসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জঙ্গি বইপুস্তক, বিস্ফোরক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করে। এই ঘটনায় অরবিন্দ ঘোষসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়, যা আলীপুর বম্ব কেইস বলে বহুল আলোচিত।

১৯০৮ সালের ২ মে তারিখে গ্রেপ্তার করা হয় অরবিন্দ ঘোষসহ ৩৩জনকে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিলেন বানিয়াচঙ্গের সেন ভ্রাতৃত্রয়ও। তদন্ত শেষে মোট ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন ২০৬ জন এবং প্রায় ৪ শত ডকুমেন্টস দাখিল করা হয় প্রমাণ হিসেবে। বিচারে দুই জনের ফাঁসির আদেশসহ বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দীপান্তর ও কারাদন্ড প্রদান করা হয়। বিচারে হেম সেনের কারাবাস এবং বীরেন সেনের দীপান্তরের আদেশ হয়। সুশীল সেন বেকসুর খালাস পান।

বিচারের আগে মামলার সকল আসামীকে রাখা হয় আলীপুর জেলে। সুধীরচন্দ্র দে বীরেন সেন সম্বন্ধে লিখেছেন, ‘‘আলীপুর জেলের বীরেন সেন ছিলেন আমাদের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ। বয়স অল্প হলেও অতি গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন তিনি। নরম নরম ছেলেটির মন ছিল ইস্পাতের মত দৃঢ়। কোন কিছুতেই ভয়-ডর ছিলনা।’’ ১৯২০ সালের সাধারণ ক্ষমায় তিনি মুক্তিলাভ করেন। মুক্তিলাভের পর বীরেন সেন কিছুকাল সিলেট জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণও করেন।

সুশীল সেন ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ ও প্রসিদ্ধ। ১৯১৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রাগপুরে এক রাজনৈতিক ডাকাতিতে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। কিশোর বয়সে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন এবং সিলেট কারাগারে তাকে বেত্রদন্ড দেয়া হয়। সুশীল সেনকে বেত্রদন্ড দেয়া উপলক্ষে কালীপ্রসন্ন কাব্য বিশারদ একটি গান লিখেনঃ বেত মেরে কি মা ভুলাবে আমরা কি মার সেই ছেলে দেখে রক্তারক্তি বাড়বে শক্তি কে পালাবে মা ফেলে। এক সময় ঘরে ঘরে গাওয়া হতো এ গান।

সেনভ্রাতৃত্রয় তাদের সময়ে উভয় বাঙলায় শ্রদ্ধা ও প্রেরণার পাত্র হিসেবে পরিগণিত হতেন। তাদের বিপ্লববাদ গ্রহণযোগ্য ছিলনা, তবে তাদের যে দেশপ্রেম ছিল, তা তুলনাহীন। দেশকে পরাধীনতার শৃংখলমুক্ত করতে তাঁরা বেত্রাঘাত, জেল, দীপান্তর, ফাঁসির মঞ্চকে ভয় করেননি। তবে তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্বন্ধে তথ্য খুবই অপ্রতুল।

আশাকরি তাদের অজানা তথ্যসমূহ সংগ্রহ করে বানিয়াচঙ্গে গুনীজনদের কীর্তিকথাকে অমর করে রাখতে উদ্যোগ নিবেন তরুণ প্রজন্মের লেখক ও গবেষকবৃন্দ। (নিবন্ধটি রচিত হয়েছে চঞ্চল শর্মা রচিত শ্রীহট্টে বিপ্লববাদ ও কমিউনিস্ট আন্দোলন :  স্মৃতিকথা শীর্ষক গ্রন্থের আলোকে)

লেখক :  গবেষক, বহুগ্রন্থ প্রণেতা ও  উপ সচিব (অব:) ।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

যুগান্তর দলের তিন বিপ্লবী : হেম সেন, বীরেন সেন ও সুশীল সেন

আপডেট সময় ০৯:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩

ড. শেখ ফজলে এলাহী :

বানিয়াচঙ্গের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সুপ্রাচীন। বানিয়াচঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা প্রচলন শুরু হয় উনিশ শতক থেকে (বানিয়াচঙ্গের কৃতি সন্তান পদ্মনাথ ভট্টাচার্য ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. পাশ করেন ১৮৯০ সালে)। এই সময় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, অরবিন্দ ঘোষ প্রমুখের প্রভাব পড়ে বানিয়াচঙ্গের শিক্ষিত যুবসমাজে। সেন পাড়ার হেম সেন, বীরেন সেন ও সুশীল সেন, এই তিন ভাইয়ের সবাই ছিলেন ইংরেজি শিক্ষিত।

কোলকাতায় গিয়ে বিপ্লববাদে দীক্ষা নেবার আগেই তারা নিজ বাড়িতে শুরু করেন শরীরচর্চা। ঐ সময় শরীরচর্চা ছিল বিপ্লববাদে যোগ দেয়ার অন্যতম যোগ্যতা। তিন ভাইদের মধ্যে হেম সেন পারদর্শী ছিলেন লাঠি খেলা ও যুযুৎসুতে। বানিয়াচঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সৌখিন লাঠিখেলার প্রচলন ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর এক উপন্যাসে লাঠির গুণগান করেছিলেন, সেখান থেকে প্রেরণা নিয়ে হেম সেন সৌখিন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শিখেছিলেন লাঠির কারসাজি এবং সেই কারসাজিকে তিনি রূপ দিয়েছিলেন শক্তিতে।

হেম সেনের শারীরিক শক্তি ছিল অসাধারণ। একদিন তাঁর বাড়ির গাছপালার লতা টেনে নামানোর জন্যে চার জন লোক নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু চারজন লোক একত্র হয়েও যখন একটি গাছের লতা নামাতে পারল না, তখন তিনি নিজেই এগিয়ে এলেন। তিনি নিজের বুকে লতা বেষ্টন করে এমন জোরে টান দিলেন যে গাছ ছেড়ে লতা হুড়মুড় করে নেমে এলো। ঘটনাটা ঘটেছিল তরুণ সংঘের (সিলেটের সংগঠন) নরেন্দ্র মহাপাত্রের (বাড়ি বানিয়াচঙ্গ) সামনেই।

সেন পাড়ার এই তিন ভাই কোলকাতায় গিয়ে যোগদেন বিপ্লববাদে। অরবিন্দ ঘোষ, তাঁর ভাই বারীণ ঘোষ, ভূপেন্দ্র দত্ত (স্বামী বিবেকানন্দ-এর ভাই), রাজা সুবোধ মল্লিক মিলে অনুশীলন সমিতির একটি উপ-গ্রæপ হিসেবে ১৯০৫ সালের এপ্রিল মাসে গঠন করেন যুগান্তর নামের বিপ্লবী সংগঠন। হেম সেন, বীরেন সেন ও সুশীল সেন যোগদেন এই দলে। বারীণ ঘোষের পূর্ব কলকাতার মানিকতলার গার্ডেন হাউস নামক বাসা ছিল সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র। মানিকতলার এই বাসাটি ব্যবহৃত হতো অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ ও বোমা তৈরীর কাজে।

এখানেই সময় কাটতো সেন ভ্রাতৃত্রয়ের। মানিক তলার বাসায় অস্ত্র চালনা, বোমা বানানো ইত্যাদির প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শরীর চর্চায় ছিলেন মনযোগী তারা। বিহারের মোজাফফর পুরে ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুলিশ কোলকাতা শহরের মানিকতলার গার্ডেন হাউসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জঙ্গি বইপুস্তক, বিস্ফোরক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করে। এই ঘটনায় অরবিন্দ ঘোষসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়, যা আলীপুর বম্ব কেইস বলে বহুল আলোচিত।

১৯০৮ সালের ২ মে তারিখে গ্রেপ্তার করা হয় অরবিন্দ ঘোষসহ ৩৩জনকে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিলেন বানিয়াচঙ্গের সেন ভ্রাতৃত্রয়ও। তদন্ত শেষে মোট ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন ২০৬ জন এবং প্রায় ৪ শত ডকুমেন্টস দাখিল করা হয় প্রমাণ হিসেবে। বিচারে দুই জনের ফাঁসির আদেশসহ বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দীপান্তর ও কারাদন্ড প্রদান করা হয়। বিচারে হেম সেনের কারাবাস এবং বীরেন সেনের দীপান্তরের আদেশ হয়। সুশীল সেন বেকসুর খালাস পান।

বিচারের আগে মামলার সকল আসামীকে রাখা হয় আলীপুর জেলে। সুধীরচন্দ্র দে বীরেন সেন সম্বন্ধে লিখেছেন, ‘‘আলীপুর জেলের বীরেন সেন ছিলেন আমাদের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ। বয়স অল্প হলেও অতি গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন তিনি। নরম নরম ছেলেটির মন ছিল ইস্পাতের মত দৃঢ়। কোন কিছুতেই ভয়-ডর ছিলনা।’’ ১৯২০ সালের সাধারণ ক্ষমায় তিনি মুক্তিলাভ করেন। মুক্তিলাভের পর বীরেন সেন কিছুকাল সিলেট জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণও করেন।

সুশীল সেন ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ ও প্রসিদ্ধ। ১৯১৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রাগপুরে এক রাজনৈতিক ডাকাতিতে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। কিশোর বয়সে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন এবং সিলেট কারাগারে তাকে বেত্রদন্ড দেয়া হয়। সুশীল সেনকে বেত্রদন্ড দেয়া উপলক্ষে কালীপ্রসন্ন কাব্য বিশারদ একটি গান লিখেনঃ বেত মেরে কি মা ভুলাবে আমরা কি মার সেই ছেলে দেখে রক্তারক্তি বাড়বে শক্তি কে পালাবে মা ফেলে। এক সময় ঘরে ঘরে গাওয়া হতো এ গান।

সেনভ্রাতৃত্রয় তাদের সময়ে উভয় বাঙলায় শ্রদ্ধা ও প্রেরণার পাত্র হিসেবে পরিগণিত হতেন। তাদের বিপ্লববাদ গ্রহণযোগ্য ছিলনা, তবে তাদের যে দেশপ্রেম ছিল, তা তুলনাহীন। দেশকে পরাধীনতার শৃংখলমুক্ত করতে তাঁরা বেত্রাঘাত, জেল, দীপান্তর, ফাঁসির মঞ্চকে ভয় করেননি। তবে তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্বন্ধে তথ্য খুবই অপ্রতুল।

আশাকরি তাদের অজানা তথ্যসমূহ সংগ্রহ করে বানিয়াচঙ্গে গুনীজনদের কীর্তিকথাকে অমর করে রাখতে উদ্যোগ নিবেন তরুণ প্রজন্মের লেখক ও গবেষকবৃন্দ। (নিবন্ধটি রচিত হয়েছে চঞ্চল শর্মা রচিত শ্রীহট্টে বিপ্লববাদ ও কমিউনিস্ট আন্দোলন :  স্মৃতিকথা শীর্ষক গ্রন্থের আলোকে)

লেখক :  গবেষক, বহুগ্রন্থ প্রণেতা ও  উপ সচিব (অব:) ।