ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

বানিয়াচংয়ে মাকালকান্দি স্মৃতি সৌধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মৃতিসৌধসহ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২০
  • ৯৭ বার পড়া হয়েছে

শিব্বির আহমদ আরজু : বানিয়াচংয়ে ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় গণহত্যা দিবসে ফুলের তোড়া দিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার সভাপতিত্বে ও গোপাল সাধুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাস্টার, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার, থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আব্দুল খালেক, ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ এরশাদ আলী।

 

ছবি- প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন এমপি আব্দুল মজিদ খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আব্দুল মজিদ খান বলেন, এসব অসহায় মানুষদের কি অপরাধ ছিল যে তাদেরকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে হবে ? তাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মাকালকান্দি স্মৃতি সৌধ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হবে। কারণ, এ জায়গা একটি অন্যতম জায়গায় পরিণত হয়েছে। এটি এখন ইতিহাসের অংশ।তাই এ সংকীর্ণ জায়গা থেকে স্মৃতিসৌধ এবং বিদ্যালয়কে স্থানান্তর করে সড়কের কাছে নেওয়া হবে। এসময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ছাড়াও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট ভোরে ২৫ থেকে ৩০টি নৌকায় রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মাকালকান্দি গ্রামের মন্দিরে মনসা পূজা চলাকালীন সময়ে হামলা চালানো হয়। পেট্রোল ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় শত শত ঘর-বাড়ি। মহিলাদেরকেও ধর্ষণ করে নর পশুরা । একই পরিবারের এগারো জনসহ হত্যা করা হয় নারী, পুরুষ, শিশু মিলিয়ে প্রায় দুই শত। অনেকেই পানিতে পড়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে । মায়ের কোল থেকে শিশুকে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর হাওরের পানিতে ফেলে দেওয়াসহ বেশ কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও হত্যা করে ঘাতকরা। ওই গ্রামের মিনতি রানীর কোল থেকে কেড়ে নিয়ে শিশুকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

 

ছবি- এমপি আব্দুল মজিদ খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

ধ্বংসযজ্ঞের পর বাড়ি-ঘর ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডায়রিয়া, মহামারি ও অর্ধাহারে মারা যায় শিশু ও অনেক নারী-পুরুষ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এ গ্রামের বাড়িঘর থেকে ধান, স্বর্ণালঙ্কার থেকে শুরু করে ঘরের পিলার পর্যন্ত নিয়ে যায় লুণ্ঠনকারীরা। ২০০৭ সালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭৮ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়।

 

ছবি- মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধ।

প্রতি বছর ১৮ আগস্ট সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন হচ্ছে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

বানিয়াচংয়ে মাকালকান্দি স্মৃতি সৌধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মৃতিসৌধসহ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২০

শিব্বির আহমদ আরজু : বানিয়াচংয়ে ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় গণহত্যা দিবসে ফুলের তোড়া দিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার সভাপতিত্বে ও গোপাল সাধুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাস্টার, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার, থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আব্দুল খালেক, ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ এরশাদ আলী।

 

ছবি- প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন এমপি আব্দুল মজিদ খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আব্দুল মজিদ খান বলেন, এসব অসহায় মানুষদের কি অপরাধ ছিল যে তাদেরকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে হবে ? তাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মাকালকান্দি স্মৃতি সৌধ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হবে। কারণ, এ জায়গা একটি অন্যতম জায়গায় পরিণত হয়েছে। এটি এখন ইতিহাসের অংশ।তাই এ সংকীর্ণ জায়গা থেকে স্মৃতিসৌধ এবং বিদ্যালয়কে স্থানান্তর করে সড়কের কাছে নেওয়া হবে। এসময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ছাড়াও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট ভোরে ২৫ থেকে ৩০টি নৌকায় রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মাকালকান্দি গ্রামের মন্দিরে মনসা পূজা চলাকালীন সময়ে হামলা চালানো হয়। পেট্রোল ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় শত শত ঘর-বাড়ি। মহিলাদেরকেও ধর্ষণ করে নর পশুরা । একই পরিবারের এগারো জনসহ হত্যা করা হয় নারী, পুরুষ, শিশু মিলিয়ে প্রায় দুই শত। অনেকেই পানিতে পড়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে । মায়ের কোল থেকে শিশুকে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর হাওরের পানিতে ফেলে দেওয়াসহ বেশ কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও হত্যা করে ঘাতকরা। ওই গ্রামের মিনতি রানীর কোল থেকে কেড়ে নিয়ে শিশুকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

 

ছবি- এমপি আব্দুল মজিদ খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

ধ্বংসযজ্ঞের পর বাড়ি-ঘর ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডায়রিয়া, মহামারি ও অর্ধাহারে মারা যায় শিশু ও অনেক নারী-পুরুষ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এ গ্রামের বাড়িঘর থেকে ধান, স্বর্ণালঙ্কার থেকে শুরু করে ঘরের পিলার পর্যন্ত নিয়ে যায় লুণ্ঠনকারীরা। ২০০৭ সালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭৮ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়।

 

ছবি- মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধ।

প্রতি বছর ১৮ আগস্ট সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন হচ্ছে।