ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

নির্মম ট্রাজেডি : শেষ যুদ্ধে পরাজিত প্রতিবন্ধী কিশোর হাসান

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

শিব্বির আহমদ আরজু : বানিয়াচংয়ে চকলেট মনে করে কুড়িয়ে পাওয়া ইদুরের বুলেট খেয়ে হাসান (১৩) নামে এক হতভাগা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলা সদরের সাগর দিঘির দক্ষিণ পাড় এলাকার আব্দুল আহাদের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে বিষাক্রান্ত হয়ে সে মারা যায়।
প্রিয় পাঠক, জেনে নিই কে এ হাসান, কী তার পরিচয় ? হাসানের পিতার বাড়ি বৃহত্তর ময়মন সিংহ। কাজের সূত্রে প্রায় ২৫/৩০ বছর আগে বানিয়াচংয়ে আসা। থাকেন ভাড়াটিয়া বাসায়। হাসান জন্মের কয়েক মাস পর তার মা তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। তখন তার পিতা আব্দুল আহাদও রাগে-অভিমানে বাড়ি থেকে চলে গিয়ে আরেকটি বিয়ে করে ঘর-সংসার করতে থাকে। মা- এবং পিতা কারও যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই  শিশু হাসানকে নিয়ে। ফেলে দেননি দাদী রাহেলা খাতুন। নিজে হোটেলে এবং গৃহস্থালিতে কাজ করে লালন-পালন করতে থাকেন নাতী হাসানকে। তীব্র শীতের সময় মা-বিহীন এ শিশুকে একটি টুকড়ির মাঝে খড় এবং কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে স্থানীয় সুন্দরবন হোটেলের পেছনে রেখে ঢাল পিষতেন তিনি। এটি ছিল দাদী রাহেলার নিত্য নৈমত্তিক কাজ। ৩/ ৪ দিনের মজুরী দিয়ে ১ প্যাকেট দুধ ক্রয় কওর নাতী হাসানকে লালন-পালন করেছেন তিনি। হাসান যখন ৪ বছর তখন তাকে বড় আশা নিয়ে সিলেটের বিয়ানী বাজারে একটি কেজি স্কুলে প্লেতে ভর্তি করে দেন। এরই মধ্যে কাজের সুবাদে দাদী রাহেলাও চলে যান সেখানে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ! রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ি এক্সিডেন্টে গুরুতর আহত হয় শিশু হাসান। কয়েকদিন থাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে। মাথায় এবং শরীরে প্রচন্ড আঘাত। মাথা থেতলে গেছে, হাত এবং পা ভেঙ্গে গেছে। শুরু হয় নাতীকে সুস্থ করে তোলার আজন্ম সংগ্রাম । অন্যদিকে যে গাড়ি তাকে এক্সিডেন্ট করে ফেলে রেখে চলে যায় কোথাও আর সন্ধান পাওয়া যায়নি সে গাড়ির। তবুও দমে যাননি দাদী রাহেলা খাতুন। কলিজার টুকরা নাতীকে সুস্থ করে তুলতে কোন পার্পণ্য করেননি তিনি। তার আশা ছিল হাসান আবারও সুস্থ হবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। দীর্ঘ চিকিৎসায় সে সুস্থ হয়েছে ঠিক, তবে স্বাভাবিক অবস্থায় নয় শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে। গিয়েছিলেন বুকভরা আশা নিয়ে, বানিয়াচংয়ে ফিরেছেন বিষাদময় হৃদয় নিয়ে। শুরু করেন আবারও সংগ্রাম। আরও ৮টি বছর লালন-পালন করার পর বৃহস্পতিবার চকলেট মনে করে ইদুরের বুলেট খেয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় জন্মের পর থেকে মা-বাবার আদার-সোহাগ থেকে বঞ্চিত হাসান। হাসানের মৃত্যুতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন দাদী রাহেলা খাতুন। রাহেলা খাতুনের বড় ইচ্ছা ছিল সেই হাসান একদিন বড় আলেম হবে। মুত্যুর পর তার জানাযার নামাজ পড়াবে এবং নিয়মিত কবর যিয়ারত করবে। সে আশা, আশাই থেকে গেল। মর্মান্তিকভাবে একটি স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে। এতে করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এমরান হোসেন তরঙ্গ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ব্যাপারটি আমি শুনেছি খুব দু:খ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। ছেলেটি ছিল শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। সে চকলেট মনে করে ইদুরের বুলেট খেয়ে মারা গেছে। সাথে সাথে সেই দুঃখীনি দাদীর জন্যও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

নির্মম ট্রাজেডি : শেষ যুদ্ধে পরাজিত প্রতিবন্ধী কিশোর হাসান

আপডেট সময় ০৬:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

শিব্বির আহমদ আরজু : বানিয়াচংয়ে চকলেট মনে করে কুড়িয়ে পাওয়া ইদুরের বুলেট খেয়ে হাসান (১৩) নামে এক হতভাগা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলা সদরের সাগর দিঘির দক্ষিণ পাড় এলাকার আব্দুল আহাদের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে বিষাক্রান্ত হয়ে সে মারা যায়।
প্রিয় পাঠক, জেনে নিই কে এ হাসান, কী তার পরিচয় ? হাসানের পিতার বাড়ি বৃহত্তর ময়মন সিংহ। কাজের সূত্রে প্রায় ২৫/৩০ বছর আগে বানিয়াচংয়ে আসা। থাকেন ভাড়াটিয়া বাসায়। হাসান জন্মের কয়েক মাস পর তার মা তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। তখন তার পিতা আব্দুল আহাদও রাগে-অভিমানে বাড়ি থেকে চলে গিয়ে আরেকটি বিয়ে করে ঘর-সংসার করতে থাকে। মা- এবং পিতা কারও যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই  শিশু হাসানকে নিয়ে। ফেলে দেননি দাদী রাহেলা খাতুন। নিজে হোটেলে এবং গৃহস্থালিতে কাজ করে লালন-পালন করতে থাকেন নাতী হাসানকে। তীব্র শীতের সময় মা-বিহীন এ শিশুকে একটি টুকড়ির মাঝে খড় এবং কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে স্থানীয় সুন্দরবন হোটেলের পেছনে রেখে ঢাল পিষতেন তিনি। এটি ছিল দাদী রাহেলার নিত্য নৈমত্তিক কাজ। ৩/ ৪ দিনের মজুরী দিয়ে ১ প্যাকেট দুধ ক্রয় কওর নাতী হাসানকে লালন-পালন করেছেন তিনি। হাসান যখন ৪ বছর তখন তাকে বড় আশা নিয়ে সিলেটের বিয়ানী বাজারে একটি কেজি স্কুলে প্লেতে ভর্তি করে দেন। এরই মধ্যে কাজের সুবাদে দাদী রাহেলাও চলে যান সেখানে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ! রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ি এক্সিডেন্টে গুরুতর আহত হয় শিশু হাসান। কয়েকদিন থাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে। মাথায় এবং শরীরে প্রচন্ড আঘাত। মাথা থেতলে গেছে, হাত এবং পা ভেঙ্গে গেছে। শুরু হয় নাতীকে সুস্থ করে তোলার আজন্ম সংগ্রাম । অন্যদিকে যে গাড়ি তাকে এক্সিডেন্ট করে ফেলে রেখে চলে যায় কোথাও আর সন্ধান পাওয়া যায়নি সে গাড়ির। তবুও দমে যাননি দাদী রাহেলা খাতুন। কলিজার টুকরা নাতীকে সুস্থ করে তুলতে কোন পার্পণ্য করেননি তিনি। তার আশা ছিল হাসান আবারও সুস্থ হবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। দীর্ঘ চিকিৎসায় সে সুস্থ হয়েছে ঠিক, তবে স্বাভাবিক অবস্থায় নয় শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে। গিয়েছিলেন বুকভরা আশা নিয়ে, বানিয়াচংয়ে ফিরেছেন বিষাদময় হৃদয় নিয়ে। শুরু করেন আবারও সংগ্রাম। আরও ৮টি বছর লালন-পালন করার পর বৃহস্পতিবার চকলেট মনে করে ইদুরের বুলেট খেয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় জন্মের পর থেকে মা-বাবার আদার-সোহাগ থেকে বঞ্চিত হাসান। হাসানের মৃত্যুতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন দাদী রাহেলা খাতুন। রাহেলা খাতুনের বড় ইচ্ছা ছিল সেই হাসান একদিন বড় আলেম হবে। মুত্যুর পর তার জানাযার নামাজ পড়াবে এবং নিয়মিত কবর যিয়ারত করবে। সে আশা, আশাই থেকে গেল। মর্মান্তিকভাবে একটি স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে। এতে করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এমরান হোসেন তরঙ্গ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ব্যাপারটি আমি শুনেছি খুব দু:খ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। ছেলেটি ছিল শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। সে চকলেট মনে করে ইদুরের বুলেট খেয়ে মারা গেছে। সাথে সাথে সেই দুঃখীনি দাদীর জন্যও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।