ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জুন ২০২৩, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নবীগঞ্জে ইফা কর্তৃক জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা Logo সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনসাধারণকে তথ্য জানাতে হবে : ড. আব্দুল হাকিম Logo বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল সম্পন্ন : সভাপতি লিটন, সম্পাদক আব্দাল মিয়া Logo নবীগঞ্জে মোটরসাইকেল চাপায় স্কুল ছাত্র নিহত : মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo আজ হবিগঞ্জ আসছেন কবির বিন আনোয়ার : জেলা আ’লীগ অফিসে উদ্বোধন করবেন স্মার্ট কর্নার Logo উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আবারও নির্বাচিত করুন : এমপি মজিদ খান Logo ইকরাম বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ঘর পরিদর্শন করেছেন এমপি মজিদ খান Logo উন্নত স্বাস্থ্য সেবার ব্রত নিয়ে বানিয়াচং গ্যানিংগঞ্জ বাজারে সততা ডায়াগস্টিক সেন্টার উদ্বোধন Logo বানিয়াচংয়ে গ্রাম্য দাঙ্গা রোধে দেশীয় অস্ত্রবাজদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আনা হবে Logo বানিয়াচংয়ে ইকরাম বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান পুড়ে ছাঁই : ব্যাপক ক্ষতি

দু’টি মুত্যু

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৯:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

আমিরুল হোসেন খান :
মনটা ভীষণ খারাপ! ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রি. সিলেটের পেপারে ছোট্ট খবর কারো চোখে পড়তে পারে আবার না ও পড়তে পারে, কিন্তু আমার মনের ভিতর টা ঠিক তোলপাড় করে দিল সেই সংবাদটি! কীন ব্রীজের উপরে পিলারে ঘুমিয়ে থাকা ছোট্ট দুটি শিশু ঘুমের ঘোরে অসাবধানতা বশতঃ নীচে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। সারাদিন রিক্সা ভ্যান ঠেলে ঠেলে ক্লান্ত- বিধ্বস্ত দেহটা বিশ্রামের জন্য এলিয়ে দিয়ে চির বিশ্রামে চলে গেল! এতে কারো হয়তো তেমন ক্ষতি/ বৃদ্ধি হবে না! নাম বর্ণ পরিচয়হীন সমাজের অপাংক্তেয় দুজন চলে গিয়ে বরং বেঁচে গেছে। এ কষ্টকর ঘৃণিত জীবন আর বইতে হবে না!!!
সবে কৈশোর পেরিয়ে এমসি কলেজে ভর্তি হয়েছি। ব্রীজের কাছাকাছি থাকায় কারণে সকাল- বিকাল কীন ব্রীজে বেড়াতে যেতাম। দেখতে দেখতে চোখে পড়ে গেল এই শিশুরা। টুকটাক গল্প পরিচয়.. যদি ও এদের কারো কোন পরিচয় নেই। কেউ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বহুদিন, কারো মা বাবা নেই কেউ দেশ ছেড়েছে পেটের দায়ে! কারো জন্ম কখন কবে কোথায় হয়েছে সে জানে না! রাতের বেলা বন্ধুদের নিয়ে হাটতে বেড়িয়ে খেলার ছলে গায়ের জ্যাকেট সোয়েটার একজনের হাতে দিয়ে পুলে ঠেলা শুরু করে দিতাম। মনের ভিতর থাকা চাপা ইচ্ছে টা বেরিয়ে আসত….. দেখি ওরা কতটা কষ্ট সহ্য করে পেটের দায় মিটায়! কি অমানুষিক পরিশ্রম ঘণ্টা পর হাত পায়ে ব্যাথা ধরে খিঁচুনি ধরে যেত! ভাই এসব কাজ আপনাদের না! মনের ভেতরে একধরণের জেদ চেপে বসত। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারো শুরু। কিন্তু কতক্ষণ. একসময় ঠিক থেমে যেতে হত! জমানো টাকা দিয়ে এই শিশুদের নিয়ে চা জলখাবার খেতে খেতে ভাবতাম এরা কেমন করে সারা দিন অসম্ভব কষ্ট করে! প্রায় দিন যাওয়া আসার সুবাদে ওদের সুখ- দুঃখ হাসি- কান্নার গল্প শুনতাম। একেবারে সহজ সরল বেঁচে থাকা.. কষ্ট ব্যথা বেরোবার সময় নেই! বড় ভাইয়ের কাছে হাতে নাতে ধরা খেয়ে আর কখনো রাত বিরেতে পুল ঠেলে হয় নি! কিন্তু সময় পেলে ঠিক কীনব্রীজের আশে পাশে রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরি! আমরা যারা এই শহরের সভ্য মানুষ তারা এদেরকে ছিনতাইকারী চোর নেশাখোর বলেই জানি!এ এলাকাটাকে সীল লাগিয়ে দিয়েছি এখানে সব খারাপ লোকের বাস! সমাজের হোমড়া -চোমড়া যারা সভ্য সমাজের প্রতিভূ তারা কি এদের কথা কখনো ভেবে দেখার অবসর হয়েছে! অথচ ওরা ও তো মানুষ ওদের ও রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার। সত্যিটা হল এখান থেকে ফেরার আর কোন পথ নাই… এভাবেই ওদের রাখা হয়েছে। নাম পরিচয়হীন দু অপাংক্তেয় শিশুর মৃত্যুতে কি আসে যায় !!!

লেখক- কবিও সাহিত্যিক, সিলেট

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

নবীগঞ্জে ইফা কর্তৃক জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

দু’টি মুত্যু

আপডেট সময় ০৯:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০

আমিরুল হোসেন খান :
মনটা ভীষণ খারাপ! ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রি. সিলেটের পেপারে ছোট্ট খবর কারো চোখে পড়তে পারে আবার না ও পড়তে পারে, কিন্তু আমার মনের ভিতর টা ঠিক তোলপাড় করে দিল সেই সংবাদটি! কীন ব্রীজের উপরে পিলারে ঘুমিয়ে থাকা ছোট্ট দুটি শিশু ঘুমের ঘোরে অসাবধানতা বশতঃ নীচে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। সারাদিন রিক্সা ভ্যান ঠেলে ঠেলে ক্লান্ত- বিধ্বস্ত দেহটা বিশ্রামের জন্য এলিয়ে দিয়ে চির বিশ্রামে চলে গেল! এতে কারো হয়তো তেমন ক্ষতি/ বৃদ্ধি হবে না! নাম বর্ণ পরিচয়হীন সমাজের অপাংক্তেয় দুজন চলে গিয়ে বরং বেঁচে গেছে। এ কষ্টকর ঘৃণিত জীবন আর বইতে হবে না!!!
সবে কৈশোর পেরিয়ে এমসি কলেজে ভর্তি হয়েছি। ব্রীজের কাছাকাছি থাকায় কারণে সকাল- বিকাল কীন ব্রীজে বেড়াতে যেতাম। দেখতে দেখতে চোখে পড়ে গেল এই শিশুরা। টুকটাক গল্প পরিচয়.. যদি ও এদের কারো কোন পরিচয় নেই। কেউ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বহুদিন, কারো মা বাবা নেই কেউ দেশ ছেড়েছে পেটের দায়ে! কারো জন্ম কখন কবে কোথায় হয়েছে সে জানে না! রাতের বেলা বন্ধুদের নিয়ে হাটতে বেড়িয়ে খেলার ছলে গায়ের জ্যাকেট সোয়েটার একজনের হাতে দিয়ে পুলে ঠেলা শুরু করে দিতাম। মনের ভিতর থাকা চাপা ইচ্ছে টা বেরিয়ে আসত….. দেখি ওরা কতটা কষ্ট সহ্য করে পেটের দায় মিটায়! কি অমানুষিক পরিশ্রম ঘণ্টা পর হাত পায়ে ব্যাথা ধরে খিঁচুনি ধরে যেত! ভাই এসব কাজ আপনাদের না! মনের ভেতরে একধরণের জেদ চেপে বসত। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারো শুরু। কিন্তু কতক্ষণ. একসময় ঠিক থেমে যেতে হত! জমানো টাকা দিয়ে এই শিশুদের নিয়ে চা জলখাবার খেতে খেতে ভাবতাম এরা কেমন করে সারা দিন অসম্ভব কষ্ট করে! প্রায় দিন যাওয়া আসার সুবাদে ওদের সুখ- দুঃখ হাসি- কান্নার গল্প শুনতাম। একেবারে সহজ সরল বেঁচে থাকা.. কষ্ট ব্যথা বেরোবার সময় নেই! বড় ভাইয়ের কাছে হাতে নাতে ধরা খেয়ে আর কখনো রাত বিরেতে পুল ঠেলে হয় নি! কিন্তু সময় পেলে ঠিক কীনব্রীজের আশে পাশে রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরি! আমরা যারা এই শহরের সভ্য মানুষ তারা এদেরকে ছিনতাইকারী চোর নেশাখোর বলেই জানি!এ এলাকাটাকে সীল লাগিয়ে দিয়েছি এখানে সব খারাপ লোকের বাস! সমাজের হোমড়া -চোমড়া যারা সভ্য সমাজের প্রতিভূ তারা কি এদের কথা কখনো ভেবে দেখার অবসর হয়েছে! অথচ ওরা ও তো মানুষ ওদের ও রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার। সত্যিটা হল এখান থেকে ফেরার আর কোন পথ নাই… এভাবেই ওদের রাখা হয়েছে। নাম পরিচয়হীন দু অপাংক্তেয় শিশুর মৃত্যুতে কি আসে যায় !!!

লেখক- কবিও সাহিত্যিক, সিলেট