ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

দু’টি মুত্যু

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৯:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

আমিরুল হোসেন খান :
মনটা ভীষণ খারাপ! ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রি. সিলেটের পেপারে ছোট্ট খবর কারো চোখে পড়তে পারে আবার না ও পড়তে পারে, কিন্তু আমার মনের ভিতর টা ঠিক তোলপাড় করে দিল সেই সংবাদটি! কীন ব্রীজের উপরে পিলারে ঘুমিয়ে থাকা ছোট্ট দুটি শিশু ঘুমের ঘোরে অসাবধানতা বশতঃ নীচে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। সারাদিন রিক্সা ভ্যান ঠেলে ঠেলে ক্লান্ত- বিধ্বস্ত দেহটা বিশ্রামের জন্য এলিয়ে দিয়ে চির বিশ্রামে চলে গেল! এতে কারো হয়তো তেমন ক্ষতি/ বৃদ্ধি হবে না! নাম বর্ণ পরিচয়হীন সমাজের অপাংক্তেয় দুজন চলে গিয়ে বরং বেঁচে গেছে। এ কষ্টকর ঘৃণিত জীবন আর বইতে হবে না!!!
সবে কৈশোর পেরিয়ে এমসি কলেজে ভর্তি হয়েছি। ব্রীজের কাছাকাছি থাকায় কারণে সকাল- বিকাল কীন ব্রীজে বেড়াতে যেতাম। দেখতে দেখতে চোখে পড়ে গেল এই শিশুরা। টুকটাক গল্প পরিচয়.. যদি ও এদের কারো কোন পরিচয় নেই। কেউ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বহুদিন, কারো মা বাবা নেই কেউ দেশ ছেড়েছে পেটের দায়ে! কারো জন্ম কখন কবে কোথায় হয়েছে সে জানে না! রাতের বেলা বন্ধুদের নিয়ে হাটতে বেড়িয়ে খেলার ছলে গায়ের জ্যাকেট সোয়েটার একজনের হাতে দিয়ে পুলে ঠেলা শুরু করে দিতাম। মনের ভিতর থাকা চাপা ইচ্ছে টা বেরিয়ে আসত….. দেখি ওরা কতটা কষ্ট সহ্য করে পেটের দায় মিটায়! কি অমানুষিক পরিশ্রম ঘণ্টা পর হাত পায়ে ব্যাথা ধরে খিঁচুনি ধরে যেত! ভাই এসব কাজ আপনাদের না! মনের ভেতরে একধরণের জেদ চেপে বসত। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারো শুরু। কিন্তু কতক্ষণ. একসময় ঠিক থেমে যেতে হত! জমানো টাকা দিয়ে এই শিশুদের নিয়ে চা জলখাবার খেতে খেতে ভাবতাম এরা কেমন করে সারা দিন অসম্ভব কষ্ট করে! প্রায় দিন যাওয়া আসার সুবাদে ওদের সুখ- দুঃখ হাসি- কান্নার গল্প শুনতাম। একেবারে সহজ সরল বেঁচে থাকা.. কষ্ট ব্যথা বেরোবার সময় নেই! বড় ভাইয়ের কাছে হাতে নাতে ধরা খেয়ে আর কখনো রাত বিরেতে পুল ঠেলে হয় নি! কিন্তু সময় পেলে ঠিক কীনব্রীজের আশে পাশে রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরি! আমরা যারা এই শহরের সভ্য মানুষ তারা এদেরকে ছিনতাইকারী চোর নেশাখোর বলেই জানি!এ এলাকাটাকে সীল লাগিয়ে দিয়েছি এখানে সব খারাপ লোকের বাস! সমাজের হোমড়া -চোমড়া যারা সভ্য সমাজের প্রতিভূ তারা কি এদের কথা কখনো ভেবে দেখার অবসর হয়েছে! অথচ ওরা ও তো মানুষ ওদের ও রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার। সত্যিটা হল এখান থেকে ফেরার আর কোন পথ নাই… এভাবেই ওদের রাখা হয়েছে। নাম পরিচয়হীন দু অপাংক্তেয় শিশুর মৃত্যুতে কি আসে যায় !!!

লেখক- কবিও সাহিত্যিক, সিলেট

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

দু’টি মুত্যু

আপডেট সময় ০৯:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০

আমিরুল হোসেন খান :
মনটা ভীষণ খারাপ! ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রি. সিলেটের পেপারে ছোট্ট খবর কারো চোখে পড়তে পারে আবার না ও পড়তে পারে, কিন্তু আমার মনের ভিতর টা ঠিক তোলপাড় করে দিল সেই সংবাদটি! কীন ব্রীজের উপরে পিলারে ঘুমিয়ে থাকা ছোট্ট দুটি শিশু ঘুমের ঘোরে অসাবধানতা বশতঃ নীচে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। সারাদিন রিক্সা ভ্যান ঠেলে ঠেলে ক্লান্ত- বিধ্বস্ত দেহটা বিশ্রামের জন্য এলিয়ে দিয়ে চির বিশ্রামে চলে গেল! এতে কারো হয়তো তেমন ক্ষতি/ বৃদ্ধি হবে না! নাম বর্ণ পরিচয়হীন সমাজের অপাংক্তেয় দুজন চলে গিয়ে বরং বেঁচে গেছে। এ কষ্টকর ঘৃণিত জীবন আর বইতে হবে না!!!
সবে কৈশোর পেরিয়ে এমসি কলেজে ভর্তি হয়েছি। ব্রীজের কাছাকাছি থাকায় কারণে সকাল- বিকাল কীন ব্রীজে বেড়াতে যেতাম। দেখতে দেখতে চোখে পড়ে গেল এই শিশুরা। টুকটাক গল্প পরিচয়.. যদি ও এদের কারো কোন পরিচয় নেই। কেউ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বহুদিন, কারো মা বাবা নেই কেউ দেশ ছেড়েছে পেটের দায়ে! কারো জন্ম কখন কবে কোথায় হয়েছে সে জানে না! রাতের বেলা বন্ধুদের নিয়ে হাটতে বেড়িয়ে খেলার ছলে গায়ের জ্যাকেট সোয়েটার একজনের হাতে দিয়ে পুলে ঠেলা শুরু করে দিতাম। মনের ভিতর থাকা চাপা ইচ্ছে টা বেরিয়ে আসত….. দেখি ওরা কতটা কষ্ট সহ্য করে পেটের দায় মিটায়! কি অমানুষিক পরিশ্রম ঘণ্টা পর হাত পায়ে ব্যাথা ধরে খিঁচুনি ধরে যেত! ভাই এসব কাজ আপনাদের না! মনের ভেতরে একধরণের জেদ চেপে বসত। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারো শুরু। কিন্তু কতক্ষণ. একসময় ঠিক থেমে যেতে হত! জমানো টাকা দিয়ে এই শিশুদের নিয়ে চা জলখাবার খেতে খেতে ভাবতাম এরা কেমন করে সারা দিন অসম্ভব কষ্ট করে! প্রায় দিন যাওয়া আসার সুবাদে ওদের সুখ- দুঃখ হাসি- কান্নার গল্প শুনতাম। একেবারে সহজ সরল বেঁচে থাকা.. কষ্ট ব্যথা বেরোবার সময় নেই! বড় ভাইয়ের কাছে হাতে নাতে ধরা খেয়ে আর কখনো রাত বিরেতে পুল ঠেলে হয় নি! কিন্তু সময় পেলে ঠিক কীনব্রীজের আশে পাশে রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরি! আমরা যারা এই শহরের সভ্য মানুষ তারা এদেরকে ছিনতাইকারী চোর নেশাখোর বলেই জানি!এ এলাকাটাকে সীল লাগিয়ে দিয়েছি এখানে সব খারাপ লোকের বাস! সমাজের হোমড়া -চোমড়া যারা সভ্য সমাজের প্রতিভূ তারা কি এদের কথা কখনো ভেবে দেখার অবসর হয়েছে! অথচ ওরা ও তো মানুষ ওদের ও রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার। সত্যিটা হল এখান থেকে ফেরার আর কোন পথ নাই… এভাবেই ওদের রাখা হয়েছে। নাম পরিচয়হীন দু অপাংক্তেয় শিশুর মৃত্যুতে কি আসে যায় !!!

লেখক- কবিও সাহিত্যিক, সিলেট