ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

তথ্য প্রমাণ থাকলেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম নেই আজমিরীগঞ্জের মরহুম অলিউন নবী বর্ধনের

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৪:২৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ জানুয়ারী ২০২১
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি॥ অলিউন নবী বর্ধন। হবিগঞ্জের হাওর এলাকা আজমিরীগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে একজন সংগঠক হিসাবে তহবিল সংগ্রহ করতেন মুজিব নগর সরকারের। মুক্তিযুদ্ধের সেকেন্ড ইন কমান্ড এম এ রব এর একনিষ্ট কর্মী ও ডান হাত হিসাবে পরিচিতি ছিল তার। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নিবেদিত এই সৈনিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। কিন্তু জীবদ্ধশায় পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। অথচ তার কাছে ছিল যুদ্ধে যাওয়ার সকল প্রমাণ পত্র। এই বীরযোদ্ধা হলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শরীফ নগর গ্রামের কৃতি সন্তান অলিউন নবী বর্ধন। যাকে এলাকার সবাই বর্ধন মিয়া হিসাবেই চিনত।
অলিউন নবী বর্ধন ১৯৯৪ সালে ইন্তেকাল করলে সবাই ভুলে যান তার কৃতিত্বের কথা। কি কষ্ঠ ও ত্যাগের বিনিময়ে তিনি সেখানে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সেই কথাও সবাই ভূলতে বসেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম না থাকা নিয়েও কারও ছিলনা কোন মাথা ব্যাথা। তার সন্তানরা ছোট থাকায় স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা অতি কষ্ঠে সন্তানদেরকে লালন করে মানুষ করেন। এর মাঝে তার ৩য় মেয়ে আইরিন নবী জয়া এমবিবিএস পাস করে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত আছেন। বড় মেয়ে নাহরিন নবী সোমা ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২য় মেয়ে নাছরীন নবী শিমুল একজন গৃহিনী। একমাত্র ছেলে মাহে নুর নবী একজন প্রতিবন্ধি।
ডা.আইরিন নবী জয়া জানান, তার পিতার মৃত্যুর পর সম্প্রতি তার রেখে যাওয়া কাগজপত্র একটি টাংক থেকে পাওয়া যায়। সেখানে রয়েছে তার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রত্যয়নসহ মূল্যবান দলিল। রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে প্রদত্ত তার বর্ডার ক্রস করার প্রত্যয়ন। কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর প্রত্যয়নও আছে এই ফাইলে। এই সকল কাগজ নিয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করার পরও আমার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অথচ আমার বাবা দেশ ও আওয়ামী লীগের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অলিউন নবী বর্ধন রাজনীতির পাশাপাশি ছিলেন একজন দক্ষ খেলোয়াড়। ফুটবলার হিসাবে খেলেছেন ঢাকার ওয়ারী ক্লাব, সিলেট এলিভেন ও সিলেট এমসি কলেজ টিমে। ছিলেন একজন দক্ষ টেনিস খেলোয়াড়। ঢাকা টেনিস ফেডারেশন ও হবিগঞ্জে তিনি নিয়মিত লন টেনিস খেলতেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রোটারিয়ান ও কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ছিলেন।
আজমিরীগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধের সাথে জড়িত লোকজনের সাথে আলোচনাকালে জানা যায়, অলিউন নবী বর্ধন মুক্তিযোদ্ধের সময় কলকতায় বাংলাদেশ রিলিফ ফান্ড কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এম এ রবের একনিষ্ট কর্মীর পাশাপাশি তার ডান হাত হিসাবে পরিচিতি ছিল তার। ১৯৭১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সনদপত্রে তাকে বলা হয় তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক, গরীবের বন্ধু ছিলেন। তার দুঃখ ছিল সারা জীবন সংগ্রাম করলেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখে যাওয়ার আগেই ১৯৯৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ও সচিব মোঃ শহিদুল্লাহ যখন আজমিরীগঞ্জে জনসভা করতে আসেন তখন তাদের সাথে ছিলেন অলিউন নবী বর্ধন। তার সন্তানরা তাদের পিতার ত্যাগের মূল্যায়ন চান। তাকে যেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

তথ্য প্রমাণ থাকলেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম নেই আজমিরীগঞ্জের মরহুম অলিউন নবী বর্ধনের

আপডেট সময় ০৪:২৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ জানুয়ারী ২০২১

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি॥ অলিউন নবী বর্ধন। হবিগঞ্জের হাওর এলাকা আজমিরীগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে একজন সংগঠক হিসাবে তহবিল সংগ্রহ করতেন মুজিব নগর সরকারের। মুক্তিযুদ্ধের সেকেন্ড ইন কমান্ড এম এ রব এর একনিষ্ট কর্মী ও ডান হাত হিসাবে পরিচিতি ছিল তার। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নিবেদিত এই সৈনিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। কিন্তু জীবদ্ধশায় পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। অথচ তার কাছে ছিল যুদ্ধে যাওয়ার সকল প্রমাণ পত্র। এই বীরযোদ্ধা হলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শরীফ নগর গ্রামের কৃতি সন্তান অলিউন নবী বর্ধন। যাকে এলাকার সবাই বর্ধন মিয়া হিসাবেই চিনত।
অলিউন নবী বর্ধন ১৯৯৪ সালে ইন্তেকাল করলে সবাই ভুলে যান তার কৃতিত্বের কথা। কি কষ্ঠ ও ত্যাগের বিনিময়ে তিনি সেখানে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সেই কথাও সবাই ভূলতে বসেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম না থাকা নিয়েও কারও ছিলনা কোন মাথা ব্যাথা। তার সন্তানরা ছোট থাকায় স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা অতি কষ্ঠে সন্তানদেরকে লালন করে মানুষ করেন। এর মাঝে তার ৩য় মেয়ে আইরিন নবী জয়া এমবিবিএস পাস করে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত আছেন। বড় মেয়ে নাহরিন নবী সোমা ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২য় মেয়ে নাছরীন নবী শিমুল একজন গৃহিনী। একমাত্র ছেলে মাহে নুর নবী একজন প্রতিবন্ধি।
ডা.আইরিন নবী জয়া জানান, তার পিতার মৃত্যুর পর সম্প্রতি তার রেখে যাওয়া কাগজপত্র একটি টাংক থেকে পাওয়া যায়। সেখানে রয়েছে তার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রত্যয়নসহ মূল্যবান দলিল। রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে প্রদত্ত তার বর্ডার ক্রস করার প্রত্যয়ন। কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর প্রত্যয়নও আছে এই ফাইলে। এই সকল কাগজ নিয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করার পরও আমার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অথচ আমার বাবা দেশ ও আওয়ামী লীগের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অলিউন নবী বর্ধন রাজনীতির পাশাপাশি ছিলেন একজন দক্ষ খেলোয়াড়। ফুটবলার হিসাবে খেলেছেন ঢাকার ওয়ারী ক্লাব, সিলেট এলিভেন ও সিলেট এমসি কলেজ টিমে। ছিলেন একজন দক্ষ টেনিস খেলোয়াড়। ঢাকা টেনিস ফেডারেশন ও হবিগঞ্জে তিনি নিয়মিত লন টেনিস খেলতেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রোটারিয়ান ও কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ছিলেন।
আজমিরীগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধের সাথে জড়িত লোকজনের সাথে আলোচনাকালে জানা যায়, অলিউন নবী বর্ধন মুক্তিযোদ্ধের সময় কলকতায় বাংলাদেশ রিলিফ ফান্ড কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এম এ রবের একনিষ্ট কর্মীর পাশাপাশি তার ডান হাত হিসাবে পরিচিতি ছিল তার। ১৯৭১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সনদপত্রে তাকে বলা হয় তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক, গরীবের বন্ধু ছিলেন। তার দুঃখ ছিল সারা জীবন সংগ্রাম করলেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখে যাওয়ার আগেই ১৯৯৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ও সচিব মোঃ শহিদুল্লাহ যখন আজমিরীগঞ্জে জনসভা করতে আসেন তখন তাদের সাথে ছিলেন অলিউন নবী বর্ধন। তার সন্তানরা তাদের পিতার ত্যাগের মূল্যায়ন চান। তাকে যেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।