ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

একজন শিক্ষানুরাগি ও সমাজগড়ার কারিগর মরহুম আলহাজ্ব  আব্দুস শহীদ খান এর জীবন ও কর্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক :  মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস শহীদ খান  যাত্রাপাশার ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের আলোকিত নির্মাতা। শিক্ষানুরাগি,পঞ্চায়েত ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বানিয়াচংবাসীর কাছে তিনি শহীদ খান নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। এলাকার ছোট বড় সবাই ”খানসাব” বলে সম্ভোধন করতেন। শিক্ষা ও সমাজসেবায় আজীবন কাজ করেছেন তিনি।

সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ, বানিয়াচং সিনিয়র আলিয়া মাদরাসা, জনাব আলী ডিগ্রি কলেজ, এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ অত্র অঞ্চলের সবকটি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা শিক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ছিলেন অগ্রগামী। অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের দাতা ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত গ্যানিংগঞ্জ বাজার কমিটি, বানিয়াচং পশ্চিম ঈদগাহ ও সমুর্তাজিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন শহীদ খান। সবকিছু ছাপিয়ে তিনি বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের ( যাত্রাপাশা খান পরিবার) উজ্জল অভিভাবক। এ পরিবারের আজকের অবস্থান, দেশ-বিদেশে খ্যাতি-সম্মান, দানশীলতার উচ্চ শিখরে আরোহনের পেছনে ছিলেন মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস শহীদ খান।

তাঁর পিতা মরহুম গোলাপ আলী খান।

গোলাপ আলী খান বানিয়াচং আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আওলাদে রাসুল সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)এর টুপি ও পাগড়ী (নিলামের মাধ্যমে) খরিদ করেছিলেন। পরে মাদানী রহ. এর টুপি-পাগড়ী বিক্রির টাকায় বানিয়াচং সিনিয়র মাদরাসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। আলিয়া মাদরাসা ও খান পরিবার যেন একই মুদ্রার এপিট-ওপিট।

আব্দুশ শহীদ খানের অন্য তিন ভাই হচ্ছেন স্বনামধন্য ক্রীড়া শিক্ষক মরহুম আব্দুল হাই খান, প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. এম এ মুকিত খান (ইংল্যান্ড), আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও দানবীর এম এ মতিন খান (ওবিই) ইংল্যান্ড।মরহুম আব্দুশ শহীদ খান এর সন্তানরা হলেন, আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খান, এম.এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (স্বত্ত্বাধিকারী, রূপালী ম্যানশন, হবিগঞ্জ), জিয়াউল মোহিত খান, মাস্টার্স. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ইংল্যান্ড), জায়েদুল মোহিত খান, মাস্টার্স. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (নিউইয়র্ক, আমেরিকা ), শাফিউল মোহিত খান এমবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (এডিশনাল এমডি,মার্লিন বিল্ডার্স, সিলেট), বড় মেয়ে নাজমা খানম,বি.এ (ইংল্যান্ড), আসমা খানম, এম.এ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাকা), ফারজানা আজিজা খানম রোজি, এম.এস.সি (ফ্লোরিডা,আমেরিকা), ফারহানা আজিজা খানম স্বর্না, বি.এ ( ইংল্যান্ড), সর্বকনিষ্ট মেয়ে সাবরিনা আজিজা খানম রুনা বি.এ (ঢাকা)।

ভাতিজা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এনামুল মোহিত খান ও ডা. আশিকুল মোহিত খান।

ভাতিজি শামিমা শাহরিয়ার খানম এমপি (মহিলা আসন, সিলেট- সুনামগঞ্জ)।

পরিবারের সদস্যদের নিজের মত করে গড়ে তুলে আপন মহিমায় সন্তানদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি নিজেও বাড়ি থেকে পায়ে হেটে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বৃন্দাবন কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট অর্জন করেন।

জনাব এম এ মুকিত খান ও এম এ মতিন খানের সন্তানরা ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে সরকারি চাকুরি করছেন।

 

ডা. মুকিত খানের এক ছেলে বৃটেনের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহিউল মুকিত খান, তিনি এন.আর.বি ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক। তিন ভাইয়ের সকল সন্তানদের নিজ সন্তানের মত চোখে চোখে বড় করেছেন। বিশাল একান্নবর্তী পরিবারটির উজ্জল অভিভাবক ছিলেন তিনি।

আওয়ামীলীগের সমর্থক হলেও আব্দুশ শহীদ খান রাজনীতিতে ছিলেন নিরব। বড় নেতা বা জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা হাতের মুঠোয় থাকলেও সন্তানদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে দেননি। যদিও মহান নেতা অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ এমপি সাহেবকে আপন পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখতেন। রাখতেন নিজের পরিবারের সাথে সংযুক্ত করে এবং সকল প্রকারের সহযোগিতা ও সাপোর্ট দিয়েছেন সব সময়।

মরহুম এমপি সাহেবের পরিবার ও আব্দুশ শহীদ খানের পরিবারের মধ্যে আত্মীক সম্পর্ক আজও বিরাজমান।

আরেক ভাতিজা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন খান রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও শহীদ খান শক্ত বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ।

বিচার-সালিশে প্রচুর সময় দিতেন। বৃহত্তর যাত্রাপাশা পঞ্চায়েতকে রাখতেন সুন্দর পরিবেশ ও দাঙ্গামুক্ত।

রাস্তা বা হাট-বাজারে শহীদ খানকে দেখলেই অপরাধীরা দৌঁড়ে পালাত। যেন তাঁর উপস্থিতিই ছিল পঞ্চায়েতের সমাধান। এজন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ থেকে পেয়েছেন অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান।

আদর্শের বাঁতিঘর মরহুম আব্দুশ শহীদ খান ধনাঢ্য পরিবারের কর্ণধার হয়েও সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। ছিল না বিত্ত-বৈভবের দাম্ভিকতা বা কোন ধরণের অহংকার। তাঁর সন্তানদের মধ্যেও নেই ন্যূনতম হিংসা- অহমিকা। তাঁরা প্রত্যেকের অনুপম আচরণ ও ভদ্রতার জন্য আদর্শ হয়ে আছেন।

তিনি রাজধানী ঢাকা বা হবিগঞ্জ রূপালী ম্যানশনের মত বিলাসবহুল বাসভবন ছেড়ে যাত্রাপাশার জন্মভিটায় বসবাস করতেন। ছিলেন মিষ্টভাষী ও মিতব্যয়ি। কথা বলতেন কম। চলতেন আপন মনে। মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসতেন। আলেম-ওলামার সাথে ছিল গভীর সম্পর্ক। নিয়মিত দাওয়াত খাওয়াতেন আলেমগণকে। বিশেষ করে প্রতি বছর কোরবানী ঈদের পর বাড়িতে অসংখ্য ওলামায়ে কেরামকে নিজ হাতে খাওয়াতেন। এ ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে।

আলোকিত মানুষ গড়ার নিবেদিত প্রাণ আব্দুশ শহীদ খান ২০০৭ সালের ২৯ মে ঢাকায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। সমাজে একজন আব্দুশ শহীদ খানের কত যে অভাব, মৃত্যুর দীর্ঘ একযুগ পরও হারে হারে টের পাচ্ছে পরিবার ও এলাকাবাসী। শিক্ষানুরাগি ও সমাজ গড়ার এ কারিগড়ের শুন্যতা পুরণ হবার নয়। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুম আলহাজ্ব আব্দুশ শহীদ খানকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। আমীন

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

একজন শিক্ষানুরাগি ও সমাজগড়ার কারিগর মরহুম আলহাজ্ব  আব্দুস শহীদ খান এর জীবন ও কর্ম

আপডেট সময় ০২:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :  মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস শহীদ খান  যাত্রাপাশার ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের আলোকিত নির্মাতা। শিক্ষানুরাগি,পঞ্চায়েত ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বানিয়াচংবাসীর কাছে তিনি শহীদ খান নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। এলাকার ছোট বড় সবাই ”খানসাব” বলে সম্ভোধন করতেন। শিক্ষা ও সমাজসেবায় আজীবন কাজ করেছেন তিনি।

সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ, বানিয়াচং সিনিয়র আলিয়া মাদরাসা, জনাব আলী ডিগ্রি কলেজ, এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ অত্র অঞ্চলের সবকটি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা শিক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ছিলেন অগ্রগামী। অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের দাতা ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত গ্যানিংগঞ্জ বাজার কমিটি, বানিয়াচং পশ্চিম ঈদগাহ ও সমুর্তাজিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন শহীদ খান। সবকিছু ছাপিয়ে তিনি বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের ( যাত্রাপাশা খান পরিবার) উজ্জল অভিভাবক। এ পরিবারের আজকের অবস্থান, দেশ-বিদেশে খ্যাতি-সম্মান, দানশীলতার উচ্চ শিখরে আরোহনের পেছনে ছিলেন মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস শহীদ খান।

তাঁর পিতা মরহুম গোলাপ আলী খান।

গোলাপ আলী খান বানিয়াচং আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আওলাদে রাসুল সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)এর টুপি ও পাগড়ী (নিলামের মাধ্যমে) খরিদ করেছিলেন। পরে মাদানী রহ. এর টুপি-পাগড়ী বিক্রির টাকায় বানিয়াচং সিনিয়র মাদরাসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। আলিয়া মাদরাসা ও খান পরিবার যেন একই মুদ্রার এপিট-ওপিট।

আব্দুশ শহীদ খানের অন্য তিন ভাই হচ্ছেন স্বনামধন্য ক্রীড়া শিক্ষক মরহুম আব্দুল হাই খান, প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. এম এ মুকিত খান (ইংল্যান্ড), আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও দানবীর এম এ মতিন খান (ওবিই) ইংল্যান্ড।মরহুম আব্দুশ শহীদ খান এর সন্তানরা হলেন, আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খান, এম.এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (স্বত্ত্বাধিকারী, রূপালী ম্যানশন, হবিগঞ্জ), জিয়াউল মোহিত খান, মাস্টার্স. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ইংল্যান্ড), জায়েদুল মোহিত খান, মাস্টার্স. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (নিউইয়র্ক, আমেরিকা ), শাফিউল মোহিত খান এমবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (এডিশনাল এমডি,মার্লিন বিল্ডার্স, সিলেট), বড় মেয়ে নাজমা খানম,বি.এ (ইংল্যান্ড), আসমা খানম, এম.এ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাকা), ফারজানা আজিজা খানম রোজি, এম.এস.সি (ফ্লোরিডা,আমেরিকা), ফারহানা আজিজা খানম স্বর্না, বি.এ ( ইংল্যান্ড), সর্বকনিষ্ট মেয়ে সাবরিনা আজিজা খানম রুনা বি.এ (ঢাকা)।

ভাতিজা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এনামুল মোহিত খান ও ডা. আশিকুল মোহিত খান।

ভাতিজি শামিমা শাহরিয়ার খানম এমপি (মহিলা আসন, সিলেট- সুনামগঞ্জ)।

পরিবারের সদস্যদের নিজের মত করে গড়ে তুলে আপন মহিমায় সন্তানদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি নিজেও বাড়ি থেকে পায়ে হেটে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বৃন্দাবন কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট অর্জন করেন।

জনাব এম এ মুকিত খান ও এম এ মতিন খানের সন্তানরা ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে সরকারি চাকুরি করছেন।

 

ডা. মুকিত খানের এক ছেলে বৃটেনের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহিউল মুকিত খান, তিনি এন.আর.বি ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক। তিন ভাইয়ের সকল সন্তানদের নিজ সন্তানের মত চোখে চোখে বড় করেছেন। বিশাল একান্নবর্তী পরিবারটির উজ্জল অভিভাবক ছিলেন তিনি।

আওয়ামীলীগের সমর্থক হলেও আব্দুশ শহীদ খান রাজনীতিতে ছিলেন নিরব। বড় নেতা বা জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা হাতের মুঠোয় থাকলেও সন্তানদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে দেননি। যদিও মহান নেতা অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ এমপি সাহেবকে আপন পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখতেন। রাখতেন নিজের পরিবারের সাথে সংযুক্ত করে এবং সকল প্রকারের সহযোগিতা ও সাপোর্ট দিয়েছেন সব সময়।

মরহুম এমপি সাহেবের পরিবার ও আব্দুশ শহীদ খানের পরিবারের মধ্যে আত্মীক সম্পর্ক আজও বিরাজমান।

আরেক ভাতিজা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন খান রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও শহীদ খান শক্ত বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ।

বিচার-সালিশে প্রচুর সময় দিতেন। বৃহত্তর যাত্রাপাশা পঞ্চায়েতকে রাখতেন সুন্দর পরিবেশ ও দাঙ্গামুক্ত।

রাস্তা বা হাট-বাজারে শহীদ খানকে দেখলেই অপরাধীরা দৌঁড়ে পালাত। যেন তাঁর উপস্থিতিই ছিল পঞ্চায়েতের সমাধান। এজন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ থেকে পেয়েছেন অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান।

আদর্শের বাঁতিঘর মরহুম আব্দুশ শহীদ খান ধনাঢ্য পরিবারের কর্ণধার হয়েও সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। ছিল না বিত্ত-বৈভবের দাম্ভিকতা বা কোন ধরণের অহংকার। তাঁর সন্তানদের মধ্যেও নেই ন্যূনতম হিংসা- অহমিকা। তাঁরা প্রত্যেকের অনুপম আচরণ ও ভদ্রতার জন্য আদর্শ হয়ে আছেন।

তিনি রাজধানী ঢাকা বা হবিগঞ্জ রূপালী ম্যানশনের মত বিলাসবহুল বাসভবন ছেড়ে যাত্রাপাশার জন্মভিটায় বসবাস করতেন। ছিলেন মিষ্টভাষী ও মিতব্যয়ি। কথা বলতেন কম। চলতেন আপন মনে। মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসতেন। আলেম-ওলামার সাথে ছিল গভীর সম্পর্ক। নিয়মিত দাওয়াত খাওয়াতেন আলেমগণকে। বিশেষ করে প্রতি বছর কোরবানী ঈদের পর বাড়িতে অসংখ্য ওলামায়ে কেরামকে নিজ হাতে খাওয়াতেন। এ ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে।

আলোকিত মানুষ গড়ার নিবেদিত প্রাণ আব্দুশ শহীদ খান ২০০৭ সালের ২৯ মে ঢাকায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। সমাজে একজন আব্দুশ শহীদ খানের কত যে অভাব, মৃত্যুর দীর্ঘ একযুগ পরও হারে হারে টের পাচ্ছে পরিবার ও এলাকাবাসী। শিক্ষানুরাগি ও সমাজ গড়ার এ কারিগড়ের শুন্যতা পুরণ হবার নয়। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুম আলহাজ্ব আব্দুশ শহীদ খানকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। আমীন