ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

ইসলামে মানব প্রাণের মূল্য

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে
মাওলানা মুশাহিদ আহমদ : কোনো মুসলমানের জানমালের উপর আক্রমণ করা আল্লাহর নিকট বাইতুল্লাহ শরীফের উপর আক্রমণ করার চেয়ে ও অধিক মারাত্মক পাপ। এ ব্যাপারে এক হাদিস শরীফে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করছেন এবং (বাইতুল্লাহ শরীফকে সম্বোধন করে) বলছেন যে, ” তুমি কতো পবিত্র! এবং তোমার বাতাস কতো পবিত্র! তুমি কতো মহান! এবং কতো মহান তোমার মর্যাদা! (কিন্তু) আমি ঐ মহান সত্ত্বার শপথ করে বলছি, যাঁর কুদরতি হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! নিশ্চয় একজন মুমিনের মর্যাদা আল্লাহ তায়ালার নিকট তোমার মর্যাদার চেয়ে অনেক বেশি। তেমনি তার সম্পদ এবং রক্ত ও।” (ইবনে মাজাহ) এই হাদিসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নামে শপথ করে বলেছেন যে, একজন মুমিনের জান- -মাল ও মর্যাদা আল্লাহ তায়ালার নিকট বাইতুল্লাহ শরীফের মর্যাদার চেয়ে ও বেশি। আমরা আজ এমন একটি সমাজে বসবাস করছি, যেখানে মানব প্রাণকে মশা-মাছির চেয়ে ও মূল্যহীন মনে করা হয়। মূলতঃ ইহা কেয়ামতের আলামত! মানুষ যখন মানবতার পোশাক ছিন্ন করে বাইরে চলে আসে, তখন সে হিংস্র প্রাণী এবং শয়তানের চেয়ে ও জঘন্য হয়ে যায়। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, তার অত্যাচার ও বর্বরতা কোনো এক ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সে নিহত ব্যক্তির মাতা-পিতার সারাটি জীবনকে উজাড় করে দেয়। সে তার স্ত্রীর সোহাগ হরণ করে তার দিবস-রজনীকে বিরান করে দেয়। সে তার শিশুদেরকে এতিম করে তাদের অসহায় করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে এবং যে কারো জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। (সুরা মায়েদাহ-৩২) যারা অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করে তাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, এ পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকেনি। বরং ইতিহাস তো বলে যে, এ সমস্ত ফেরাউনদের মৃত্যু এমন নিকৃষ্টভাবে হয়েছে যে, বিশ্ববাসী তার শিক্ষণীয় পরিণতির তামাশা দেখেছে। জুলুম ও বর্বরতার ভয়ংকর পরিণতি বেশির ভাগ দুনিয়াতেই দেখিয়ে দেওয়া হয়। আর তাদের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে (জেনে বুঝে) কোনো মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুব্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। (সুরা নিসা-৯৩)
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক।
ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

ইসলামে মানব প্রাণের মূল্য

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০
মাওলানা মুশাহিদ আহমদ : কোনো মুসলমানের জানমালের উপর আক্রমণ করা আল্লাহর নিকট বাইতুল্লাহ শরীফের উপর আক্রমণ করার চেয়ে ও অধিক মারাত্মক পাপ। এ ব্যাপারে এক হাদিস শরীফে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করছেন এবং (বাইতুল্লাহ শরীফকে সম্বোধন করে) বলছেন যে, ” তুমি কতো পবিত্র! এবং তোমার বাতাস কতো পবিত্র! তুমি কতো মহান! এবং কতো মহান তোমার মর্যাদা! (কিন্তু) আমি ঐ মহান সত্ত্বার শপথ করে বলছি, যাঁর কুদরতি হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! নিশ্চয় একজন মুমিনের মর্যাদা আল্লাহ তায়ালার নিকট তোমার মর্যাদার চেয়ে অনেক বেশি। তেমনি তার সম্পদ এবং রক্ত ও।” (ইবনে মাজাহ) এই হাদিসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নামে শপথ করে বলেছেন যে, একজন মুমিনের জান- -মাল ও মর্যাদা আল্লাহ তায়ালার নিকট বাইতুল্লাহ শরীফের মর্যাদার চেয়ে ও বেশি। আমরা আজ এমন একটি সমাজে বসবাস করছি, যেখানে মানব প্রাণকে মশা-মাছির চেয়ে ও মূল্যহীন মনে করা হয়। মূলতঃ ইহা কেয়ামতের আলামত! মানুষ যখন মানবতার পোশাক ছিন্ন করে বাইরে চলে আসে, তখন সে হিংস্র প্রাণী এবং শয়তানের চেয়ে ও জঘন্য হয়ে যায়। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, তার অত্যাচার ও বর্বরতা কোনো এক ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সে নিহত ব্যক্তির মাতা-পিতার সারাটি জীবনকে উজাড় করে দেয়। সে তার স্ত্রীর সোহাগ হরণ করে তার দিবস-রজনীকে বিরান করে দেয়। সে তার শিশুদেরকে এতিম করে তাদের অসহায় করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে এবং যে কারো জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। (সুরা মায়েদাহ-৩২) যারা অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করে তাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, এ পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকেনি। বরং ইতিহাস তো বলে যে, এ সমস্ত ফেরাউনদের মৃত্যু এমন নিকৃষ্টভাবে হয়েছে যে, বিশ্ববাসী তার শিক্ষণীয় পরিণতির তামাশা দেখেছে। জুলুম ও বর্বরতার ভয়ংকর পরিণতি বেশির ভাগ দুনিয়াতেই দেখিয়ে দেওয়া হয়। আর তাদের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে (জেনে বুঝে) কোনো মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুব্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। (সুরা নিসা-৯৩)
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক।