ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত Logo গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন Logo মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব Logo দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ‘বানিয়াচং ইসলামি নাগরিক ফোরাম’ নেতৃবৃন্দ Logo নূরানী শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় ২য় হয়েছে গ্যানিংগঞ্জ বাজার নূরানী মাদ্রাসার ছাত্রী মুনতাহা আক্তার Logo বানিয়াচংয়ে ১২কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo বানিয়াচং শাহজালাল কে.জি স্কুল ২০২৩ বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য Logo চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন ডা. ইলিয়াছ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত Logo ৪০তম তাফসিরুল কোরআন মহা সম্মেলন সফল করায় আলহাজ্ব রেজাউল মোহিত খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo ইফার সাবেক ফিল্ড অফিসার আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুতে জেলা মউশিক কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের শোক

অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুসের জীবনও কর্ম

  • তরঙ্গ ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৬:৩০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২০
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

সাইফুল ফারূকী : বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক মরহুম ড. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ১৯৪৮ সনের ২৫ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার পৃথিবীর মহাগ্রাম বানিয়াচং এর প্রথমরেখ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ পারু মিয়া ছিলেন গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি, এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, জনাব আলী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য ও বানিয়াচং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। তার মা মরহুমা খায়রুন্নেসা খানম ছিলেন সাগরদিঘির পশ্চিম পাড়ের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের মেয়ে।
তিনি শিক্ষা জীবন শুরু করেন চৌধুরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে দুই বছর পড়াশোনা করে ভর্তি হন উপমহাদেশের শতোর্ধ প্রাচীন বিদ্যাপীঠ বানিয়াচং এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলে বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করতেন। এ স্কুল থেকে ১৯৬৪ সনে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। স্কুল জীবনে তাঁর সহপাঠি ছিলেন মরহুম ডাঃ শামসুদ্দীন আহমেদ, জাতিসংঘের ইউএনএফপিএর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেকেন্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ মোঃ নূরুল আমীন, অবঃ উপসচিব লেখক ও গবেষক শেখ ফজলে এলাহী, শিল্পপতি আকিকুর রহমান, জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম দেওয়ান মামুন রাজা, সাবেক জিপি এড. শাহজাহান বিশ্বাস, মোঃ মমদু মিয়া মাস্টার প্রমুখ। এই ব্যাচটি এখন পর্যন্ত স্কুলের সেরা ব্যাচ ।
এসএসসি পাসের পর তিনি সিলেট এমসি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬৬ সনে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। ১৯৭০ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে অনার্সসহ প্রথম শ্রেণিতে এমএসসি পাস করেন। তিনি সেই সময় চাকরিতে যোগদান না করে ১৯৭২ সনে পিএইচ.ডি গবেষণা শুরু করেন এবং ১৯৮১ সনে প্রফেসর ড. মোঃ রমজান আলী সরদারের তত্ত্বাবধানে পিএইচি ডিগ্রি অর্জন করেন। একটি অত্যন্ত কঠিন বিষয় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ যোগ্য যে, অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালিন সময়ে তাঁর সাথে পরিচয় ঘটে তৎকালিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ূব খানের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্রথম মুসলমান নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুস সালামের সাথে। কথায় বলে, রতনে রতন চেনে। সালাম সাহেব কিশোর আব্দুল কুদ্দুসের জ্ঞানের প্রখরতা দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হন এবং বিশ বছরের জুনিয়রের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ষোল বছর পর তিনি ১৯৮৬ সনের ১৪ জানুয়ারি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৮ সনের ১ অক্টোবর সহকারি অধ্যাপক, ১৯৯৩ সনের ২১ জুলাই সহযোগি অধ্যাপক, ২০০১ সনের ২৭ মার্চ অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
তিনি নবীগঞ্জের বেতাপুর চৌধুরী বাড়ির কাস্টমসের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মরহুম গোলাম রব্বানী চৌধুরীর কন্যা ডাঃ সাহিরা চৌধুরীর সাথে ১৯৯০ সনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
ড. আব্দুস সালাম ছাড়াও তার সাথে যেসব ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্টতা ছিল তারা হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল, মুক্তিযুদ্ধের উপ- সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব, মন্ত্রী দেওয়ান আব্দুল বাছিত চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান প্রমুখ । ড. আব্দুল কুদ্দুস আপাদমস্তক শিক্ষক ছিলেন। যে কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। দেশে সম্ভবত তিনিই একমাত্র উচ্চ শিক্ষিত যিনি টার্গেট পূরণের জন্য ষোল বছর বেকার ছিলেন। তিনি ছিলেন বানিয়াচং এর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, প্রথম ডক্টরেট, প্রথম সর্বোচ্চ চাকুরিজীবী (সচিব পদমর্যাদা), সিলেট বিভাগে গণিত শাস্ত্রে প্রথম ডক্টরেট। ড. আব্দুল কুদ্দুস সাতটি ভাষা জানতেন- বাংলা, ইংরেজি, হিন্দী, আরবি, ফরাসি, উর্দু ও জার্মান । তিনি পাকিস্তান, ভারত, ইটালি ও অস্ট্রিয়া ভ্রমণ করেন।
নিঃসন্তান ড. আব্দুল কুদ্দুস ২০০৬ সনের ১২ সেপ্টেম্বর চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
লেখক : সাংবাদিকও রাজনীতিক।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক মঈন উদ্দিন এঁর পিতার মৃত্যুতে তরঙ্গ২৪.কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুসের জীবনও কর্ম

আপডেট সময় ০৬:৩০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২০

সাইফুল ফারূকী : বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক মরহুম ড. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ১৯৪৮ সনের ২৫ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার পৃথিবীর মহাগ্রাম বানিয়াচং এর প্রথমরেখ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ পারু মিয়া ছিলেন গ্যানিংগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি, এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, জনাব আলী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য ও বানিয়াচং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। তার মা মরহুমা খায়রুন্নেসা খানম ছিলেন সাগরদিঘির পশ্চিম পাড়ের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের মেয়ে।
তিনি শিক্ষা জীবন শুরু করেন চৌধুরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে দুই বছর পড়াশোনা করে ভর্তি হন উপমহাদেশের শতোর্ধ প্রাচীন বিদ্যাপীঠ বানিয়াচং এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলে বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করতেন। এ স্কুল থেকে ১৯৬৪ সনে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। স্কুল জীবনে তাঁর সহপাঠি ছিলেন মরহুম ডাঃ শামসুদ্দীন আহমেদ, জাতিসংঘের ইউএনএফপিএর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেকেন্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ মোঃ নূরুল আমীন, অবঃ উপসচিব লেখক ও গবেষক শেখ ফজলে এলাহী, শিল্পপতি আকিকুর রহমান, জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম দেওয়ান মামুন রাজা, সাবেক জিপি এড. শাহজাহান বিশ্বাস, মোঃ মমদু মিয়া মাস্টার প্রমুখ। এই ব্যাচটি এখন পর্যন্ত স্কুলের সেরা ব্যাচ ।
এসএসসি পাসের পর তিনি সিলেট এমসি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬৬ সনে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। ১৯৭০ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে অনার্সসহ প্রথম শ্রেণিতে এমএসসি পাস করেন। তিনি সেই সময় চাকরিতে যোগদান না করে ১৯৭২ সনে পিএইচ.ডি গবেষণা শুরু করেন এবং ১৯৮১ সনে প্রফেসর ড. মোঃ রমজান আলী সরদারের তত্ত্বাবধানে পিএইচি ডিগ্রি অর্জন করেন। একটি অত্যন্ত কঠিন বিষয় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ যোগ্য যে, অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালিন সময়ে তাঁর সাথে পরিচয় ঘটে তৎকালিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ূব খানের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্রথম মুসলমান নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুস সালামের সাথে। কথায় বলে, রতনে রতন চেনে। সালাম সাহেব কিশোর আব্দুল কুদ্দুসের জ্ঞানের প্রখরতা দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হন এবং বিশ বছরের জুনিয়রের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ষোল বছর পর তিনি ১৯৮৬ সনের ১৪ জানুয়ারি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৮ সনের ১ অক্টোবর সহকারি অধ্যাপক, ১৯৯৩ সনের ২১ জুলাই সহযোগি অধ্যাপক, ২০০১ সনের ২৭ মার্চ অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
তিনি নবীগঞ্জের বেতাপুর চৌধুরী বাড়ির কাস্টমসের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মরহুম গোলাম রব্বানী চৌধুরীর কন্যা ডাঃ সাহিরা চৌধুরীর সাথে ১৯৯০ সনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
ড. আব্দুস সালাম ছাড়াও তার সাথে যেসব ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্টতা ছিল তারা হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল, মুক্তিযুদ্ধের উপ- সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব, মন্ত্রী দেওয়ান আব্দুল বাছিত চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান প্রমুখ । ড. আব্দুল কুদ্দুস আপাদমস্তক শিক্ষক ছিলেন। যে কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। দেশে সম্ভবত তিনিই একমাত্র উচ্চ শিক্ষিত যিনি টার্গেট পূরণের জন্য ষোল বছর বেকার ছিলেন। তিনি ছিলেন বানিয়াচং এর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, প্রথম ডক্টরেট, প্রথম সর্বোচ্চ চাকুরিজীবী (সচিব পদমর্যাদা), সিলেট বিভাগে গণিত শাস্ত্রে প্রথম ডক্টরেট। ড. আব্দুল কুদ্দুস সাতটি ভাষা জানতেন- বাংলা, ইংরেজি, হিন্দী, আরবি, ফরাসি, উর্দু ও জার্মান । তিনি পাকিস্তান, ভারত, ইটালি ও অস্ট্রিয়া ভ্রমণ করেন।
নিঃসন্তান ড. আব্দুল কুদ্দুস ২০০৬ সনের ১২ সেপ্টেম্বর চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
লেখক : সাংবাদিকও রাজনীতিক।