সোমবার | ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

এখনো কি বাস্তবতা উপলব্ধি করে ভুল স্বীকার পূর্বক তাওবার সময় আসেনি

প্রকাশিত :
ওয়ালি উল্লাহ আরমান :
কঠিন পরীক্ষার সময় চলছে? টপ টু বটম ‘ইয়া নাফসি’ ‘ইয়া নাফসি’ চলছে। আইনি প্রক্রিয়ায় আসতে হচ্ছে এমন অনেককে, যারা কখনো আইনের দুয়ারে পা রাখেননি। এর মধ্যেও এমন অনেককে দুয়ারে দুয়ারে ধরনা দিতে দেখছি, যারা সমাজে আপোষহীনতার ছদ্মবেশ ধরে বাহবা কুড়ান। ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চকে পল্টন, উত্তরগেট আর প্রেসক্লাবের মঞ্চ না বানানোর অনুরোধ জানিয়ে বহুজনের কটাক্ষ সইতে হয়েছে।
সেদিন জনৈক নেতৃস্থানীয় আলেমের ছেলে ফেইসবুকে পোস্ট দিলেন- ”বর্তমানে যারা শাহ আহমদ শফী রহ. এর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন, তাদেরকে খলীফাতুল মুসলিমীন হজরত আলী রা. এর প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী শিয়াদের মতো মনে হয়!”
আমি কমেন্টে জানতে চাইলাম- ‘যারা জীবনভর শায়খুল ইসলাম আহমদ শফী রহ. এর নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার ও নানাবিধ সুবিধা ভোগের পর হঠাৎ শেষ জীবনে তার সাথে পলটিবাজী করলেন, তাদেরকে মানুষ কোন বিশেষণে ভূষিত করবে?’ সাথে সাথে তিনি পোস্ট ডিলিট করে দিলেন। দয়া করে নাম জিজ্ঞেস করবেন না। আমার কথা স্পষ্ট, মাওলানা আহমদ শফী রহ. এর নাম শুনলেই যারা উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাদের কোথাও না কোথাও ঝামেলা আছে।
আজ দ্বীনী অঙ্গন ও মাদারেসে কওমিয়ার কঠিন সময় যাচ্ছে। কোন অদূরদর্শী হঠকারী পদক্ষেপে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, অবশ্যই সেটা বিশ্লেষণ করতে হবে। তকদিরের ভালোমন্দ আল্লাহর হাতে। কিন্তু কোন ঘটনায় কেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, অবশ্যই তা বিবেচনায় রাখতে হবে। পর্যালোচনা করে ভুল সংশোধন করতে হবে।
এই পবিত্র রমজানে আমাদের জাতীয় জীবনে বিপর্যয় আসার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে- ২০২০ এর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শায়খুল ইসলাম শাহ আহমদ শফী রহ. এর সাথে ক্রমাগত বেয়াদবিমূলক আচরণ। যার চূড়ান্ত ধাপে মাওলানা আনাস মাদানীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নামে তিলে তিলে শাহ আহমদ শফী রহ.কে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তখন হাটহাজারীতে আন্দোলনের নামে এমন আচরণ করা হয়েছে, যার সাথে কওমি অঙ্গনের কোনো সম্পর্ক নেই।
যারা ঐ বেয়াদবি উস্কে দিয়েছেন, যারা বেনিফিসিয়ারি হয়েছেন এবং যারা মদদ যুগিয়েছেন, অবশ্যই প্রকাশ্যে তাদের ভুল স্বীকার পূর্বক জাতীয়ভাবে তাওবা করতে হবে। বিশাল বড় বড় নামগুলির নেতৃত্ব ও অভিভাবকত্বে সীমাহীন ব্যর্থতা দেখার পরে বাস্তবতা বোঝা উচিত।
২০১৩ সালের সম্ভাব্য কঠিন পরিণতির মুখেও তার নিরবতা আমাদের জন্য খোদায়ি নুসরতের মাধ্যম হয়েছে। আর বর্তমানে শীর্ষ স্থানে বসে বাগাড়ম্বর আমাদের জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। অবস্থার চরম প্রতিকূলতা দেখার পরেও যারা এখনো ফেইসবুকে প্রিয় উস্তায রাহবার শাহ আহমদ শফী রহ. এর ব্যাপারে ঔদ্ধত্য দেখায়, তাদের ব্যাপারে কিছুই বলার নেই।
লেখক : কলামনিষ্ট ও রাজনীতিক, ঢাকা।
আজকের সর্বশেষ সব খবর