মিয়ানমার সামরিক অভ্যুত্থান: বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তাক্ত এক দিনে গুলিতে মারা গেলো ৩৮ জন

তরঙ্গ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করে রেখেছে।

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিবাদ বিক্ষোভে গতকালই সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

রবিবার দেশটিতে বিক্ষোভ করার সময় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীরাও লাঠি এবং ছুরি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।

ইয়াঙ্গুন শহরেই অন্তত ২১জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। অন্যরা মারা গেছেন দেশটির অন্যান্য শহরে।

পয়লা ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করার পর থেকেই মিয়ানমার দেশটির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দেশটির বেসামরিক নেত্রী এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের প্রধান অং সান সু চিকে আটক করে রেখেছে সামরিক জান্তা।

গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক বিজয় পেয়েছে এনএলডি, তবে সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন এমপি গত মাসের সামরিক অভ্যুত্থান মেনে নেননি। তারা লুকিয়ে নিজেদের মিয়ানমারের বৈধ সরকার বলে দাবি করেছেন।

লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির প্রধান মাহন উইন খিয়াং থান প্রথম বার্তায় বিক্ষোভকারীদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন, যাকে তিনি ‘বিপ্লব’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, ”এটা জাতির জন্য সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্ত তবে খুব তাড়াতাড়ি আলোর দেখা পাওয়া যাবে।” তিনি বলেছেন, জনগণের বিজয় হবেই।

পর্যবেক্ষক গ্রুপ অ্যাসিট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মিয়ানমারে মোট ৩৮জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ইয়াঙ্গুনে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ আরও অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি নিউজ বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *